চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪  |   ২৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১ হাজার ৬'শ ছাড়িয়েছে, জরুরী অবস্থা জারি
  •   জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  •   ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজের নিবন্ধন শুরু
  •   জুয়ার নিরাপদ আস্তানায় হানা নেই কেন?
  •   নিখোঁজের ৪ দিন পর ফরিদগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার ॥ আটক ২

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০

কচুয়ায় ড. জালাল আলমগীর শুভর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ॥

কচুয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির জ্যেষ্ঠ পুত্র ম্যাসাচুসেটস-বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক প্রয়াত ড. জালাল আলমগীর শুভর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার ৩ ডিসেম্বর গুলবাহার আশেক আলী খান স্কুল এন্ড কলেজ মসজিদে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মরহুমের পিতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা খানম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইবনে আল জায়েদ হোসেন, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইব্রাহীম খলিল, পৌরসভার মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন সোহেল ভূঁইয়া, জেলা পরিষদের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম খোকা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাচ্ছেল হোসেন খান, ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম লালু, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর তালুকদার ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মুফতি মাওঃ বেলাল হোসাইন চাঁদপুরী।

একই দিন উপজেলার বাতাবাড়িয়া ড. জালাল আলমগীর স্মৃতি সংসদ ও ইসলামপুরে অবস্থিত ড. জালাল আলমগীর স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে কোরআন খতম, দোয়া, মিলাদ ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ড. জালাল আলমগীর শুভ ১৭ জানুয়ারি ১৯৭১ সালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার শিক্ষাবিদ পরিবার হিসেবে খ্যাত খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের পুত্র ও চাঁদপুর জেলার প্রথম মুসলিম গ্র্যাজুয়েট আশেক আলী খানের পৌত্র। তার চাচা ড. বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসবিদ ও লেখক ড. মুনতাসির মামুন তাদের পরিবারের সদস্য।

তিনি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। তিনি ম্যাসাচুসেটস-বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্থায়ী শিক্ষক ও রাজনীতি বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়া ইনিশিয়েটিভের সহকর্মী ছিলেন। উমাসে যোগদান করার আগে আলমগীর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ওয়াটসন ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউদার্ন এশীয় ইনস্টিটিউট এবং নিউ দিল্লির পলিসি রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় অংশ নেন। গবেষণার পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল এবং কৌশল পরামর্শদাতাদের হয়ে কাজ করেন।

জালাল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একাধিক গবেষণামূলক প্রকল্পে কাজ করেন। উল্লেখযোগ্য হলো : বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, ভারতীয় পররাষ্ট্র নীতিতে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব এবং মিয়ানমারের কর্তৃত্ববাদ ও বিশ্বায়নের মধ্যে সম্পর্ক। আলমগীর ইন্টারনেট ভিত্তিক বাংলাদেশী মানবাধিকার সংস্থা দৃষ্টিপাতের সদস্য ছিলেন। দৃষ্টিপাত বাংলাদেশী কর্মীদের একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক এবং দীক্ষিতিপত রাইটারস কালেক্টিভতে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে তার বাবা সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আটক করার প্রতিবাদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। ক্যান্সার গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি ৮৫ মাইল প্রশস্ত প্যান-ভর চ্যালেঞ্জে সাইকেল চালান। এ তহবিল ড্যান্স ফারবার ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে দান করেন। বোস্টনে ক্যান্সারের জন্য তার মায়ের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ কাজ করেন।

উল্লেখ্য, ড. জালাল আলমগীর শুভ ২০১১ সালের এই দিনে থাইল্যান্ডের ফুকেট বিচে পানিতে ডুবে মারা যায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়