সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের পৃথক দুটি তদন্ত চলছে : পরিস্থিতি স্বাভাবিক : ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

রেলওয়ের ফিশ প্লেট উদ্ধার ॥ আটক ২
গোলাম মোস্তফা ॥

চাঁদপুর রেলওয়ে বড়স্টেশন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ লৌহজাত দ্রব্যাদি চুরির ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। এবার রেলওয়ের ওয়াশপিট থেকে বেশ কিছু ফিশপ্লেট চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেল কর্মকর্তাদের কানেও পৌঁছে। এক পর্যায়ে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে চাঁদপুর অফিসের এই বাহিনীর কিছু সদস্য কৌশল অবলম্বন করে ফিশ প্লেট উদ্ধারে মাঠে নামে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শহরের নতুন বাজার এলাকার মকবুলের ভাঙ্গারি দোকানে গিয়ে কৌশলে বেশকিছু ফিশপ্লেট উদ্ধার করে এবং দোকানির সাথে কথা বলে ফিশপ্লেট বিক্রেতাদের সন্ধান জানতে চাইলে তিনি তাদের ঠিকানা দেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দোকানির কথা অনুযায়ী কৌশল অবলম্বন করে শহরের কাঁচ্চাকলোনী থেকে ফিশপ্লেট চুরি করা দু যুবক কে আটক করেন। এরা হচ্ছে মনির গাজী (৩০), পিতা জলিল গাজী ও মোহন গাজী (২৮), পিতা- মৃত মতিন গাজী, উভয় সাং কাঁচ্চা কলোনী, চাঁদপুর।

এদের আটকের পর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উভয় চোর বলে, আমরা সবসময় কাজ করে খাই, যখন যে কাজ পাই, সেটি করি। রেলের খালাসী চাকুরি করে আমাদের এলাকার ইউনুছ পাটোয়ারী জুয়েল। আমাদের দু’জনকে বলেছে, ওয়াশপিটে কিছু ফিশপ্লেট পড়ে আছে। তোরা দুজনে এগুলো রাতের বেলায় নিয়ে আসবি। তারপর বিক্রি করে তোরা অর্ধেক নিবি, আমাকে অর্ধেক দিবি। এগুলো নিয়ে বিক্রি করলে অনেক টাকা পাবি। এরপর আমরা দুজন মিলে মোট ১৬টি ফিশপ্লেট নিয়ে নতুন বাজারস্থ মকবুলের দোকানে ১১টি এবং মিশন রোডের একটি দোকানে ৫টি বিক্রি করি। এই ১৬টি প্লেট মোট ৯ হাজার ৬০০টাকা বিক্রি করে আমরা তাকে ৫ হাজার টাকা দেই, আর বাকি টাকা আমরা দুজন নিয়ে যাই।

আটক উল্লেখিত দুচোর আরো জানায়, জুয়েল পাটোয়ারী প্রায়ই এলাকার ছেলেদের দিয়ে রেলের বিভিন্ন মালামাল চুরি করায়। বিক্রিত অর্থের অর্ধেক সে নেয়, বাকি অর্ধেক যারা কাজ করে তারা নেয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, নতুন বাজারের লোহা বা ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মকবুল চাঁদপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মোঃ খোরশেদ আলমের আপন ছোট ভায়রা। প্রায় দেড় যুগ যাবৎ খোরশেদ আলম চাঁদপুরে চাকুরি করে অবৈধ পন্থায় এখন অনেক টাকার মালিক।

গতকাল চাঁদপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসে গিয়ে চাঁদপুরের ইর্নচাজ মোঃ খোরশেদ আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মালামাল উদ্ধার, চোর আটক এগুলো চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে আমরা আগামী ২/১ দিন পর আপনাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলবো। এই মুহূর্তে কথা বলা যাবে না। আটক দুচোরের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান। দোকানি আটকের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চাঁদপুর রেলওয়ে বড়স্টেশনে খালাসী পদে কর্মরত ইউনুছ পাটোয়ারী জুয়েলের সাথে মোবাইল ফোনে বহু চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফিশপ্লেট উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৬টির মধ্যে ১০টি উদ্ধার করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়