বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   ড্রেজার ধ্বংস করাসহ মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
  •   শাহরাস্তিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
  •   ফরিদগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী
  •   হাজীগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
  •   ভুয়া দুদক কর্মকর্তা সেজে চাঁদা দাবি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

ফরিদগঞ্জে থুথু মারায় হামলার শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো ॥

ফরিদগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন রুমা (২০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে। ওই প্রতিবন্ধী রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহদ গ্রামের কোত্তাল বাড়ির বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। হামলার সময় মেয়েকে বাঁচাতে এসে আহত হয়েছেন ভুক্তভোগীর মাসহ ক’জন। এ ঘটনায় গত সোমবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মেয়েটির মা শাহানারা বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন।

মানসিক প্রতিবন্ধী রুমা জন্মের পর হতেই অসুস্থ। অসহায় পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী যতোটুকু সম্ভব দেশের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে মেয়েকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন বাবা-মা। চিকিৎসকদের চিকিৎসা ও পরামর্শে মেয়েটি কিছুদিন ভালো থাকলেও ফের অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে কখনো খোলা আকাশের নিচে আবার কখনো বসতঘরে শিকলে বাঁধাবস্থায় মানবেতরভাবে চলতে থাকে তার জীবন।

অভিযোগে দেয়া তথ্য ও স্থানীয়দের থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির বাবা বাচ্চু মিয়া স্থানীয় জনতা বাজারে ক্ষুদ্র একটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। মেয়েটির চিকিৎসা ব্যয় ও স্বামীর সংসারে খরচ যোগান দিতে মা শাহানারা বেগমও স্থানীয় একটি স্কুলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। মেয়েটির মা স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে শিকলে বেঁধে রেখে যান, আবার স্কুল থেকে ফিরে এসে ছোট ভাইকে সাথে দিয়ে বোনকে মুক্ত করে দেন। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার বিকেলেও তাকে শিকল থেকে সাময়িক মুক্ত করে দেন। এ সময় তাদের একই বাড়ির বাসিন্দা হালিমা বেগম (২৮)কে মেয়েটি থুথু মারে। এ থুথুকে কেন্দ্র করে হালিমা বেগম ও তার ভাই মোঃ পরান (১৯)সহ পরিবারের লোকজন মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির ওপর হামলে পড়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় ডাকচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে তার মা শাহানারা বেগমও হামলার শিকার হন। দিশেহারা হয়ে নিজেদের নবনির্মিত বসতঘরটিতে ঢুকে ধরজা বন্ধ করে রাখলেও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে ভুক্তভোগীদের বসতঘরের বেড়া ভেঙ্গে দেন অভিযুক্তরা।

হালিমা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার ২ বছরের মেয়ে জান্নাত আক্তারকে রুমা মেরেছে, তাই এ ঘটনা ঘটেছে। ‘তাদের বসতঘরে হামলা করেছেন কেনো’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে মেরেছে শুনে আমার ভাই পরান ঠিক থাকতে পারেনি। তাই এমনটা ঘটেছে। এ সময় তারাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন রতন বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি, সত্যতাও পেয়েছি স্থানীয়দের থেকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবো।

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়