সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হুমকির মুখে ১৪ নং ওয়ার্ডের পরিবেশ
  •   চাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ ১ জন আটক
  •   উপজেলা প্রেসক্লাব হাইমচবের নির্বাচন তফসিল ঘোষণা
  •   ইতালি সরকার ৮০ হাজার শ্রমিক নেবে
  •   মোস্তাক হায়দার চৌধুরীর জানাজা সোমবার বাদ জোহর

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০

হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

দুর্গাপূজা চলাকালীন গত ১৩ অক্টোবর হাজীগঞ্জে দুস্কৃতকারীদের হামলার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু করেছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দল। গতকাল বুধবার বিকেলে তদন্ত কাজ শুরুর প্রথমদিনে ভাংচুরের শিকার হাজীগঞ্জ শ্রীশ্রী রাজালক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া ও শ্রীরাম কৃঞ্চ সেবাশ্রম মন্দিরসহ ৩টি মন্দিরে তদন্তে আসেন চাঁদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মোঃ ফকরু স্বপন, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, পিবিআইর পরিদর্শক পুলক বড়ুয়া, উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাগণ।

অনুপ কুমার সাহা নামে হাইকোর্টের আইনজীবীর দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে গত ১৮ অক্টোরব মহামান্য হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়।

মহামান্য হাইকোর্টের রিটের সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোরব থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কুমিল্লা ও হাজীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, তাদের সম্পত্তি ও উপাসনালয়ে হামলার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ২ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

তদন্ত দল পরিদর্শনকৃত মন্দিরগুলোর কমিটির নেতৃবৃন্দ, পূজারী, আশপাশের ব্যবসায়ীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের ব্যবস্থা করেন।

তদন্তের বিষয়ে চাঁদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম বলেন, আমরা আজকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। বিভিন্নজনের সাথে কথা বলেছি। তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোরব কুমিল্লা শহরের একটি পূজাম-পে মূর্তির কোল থেকে কোরআন শরীফ উদ্ধার ঘটনার পরদিন রাতে কোরআন শরীফ অবমাননার দায়ে হাজীগঞ্জ বাজারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েকবার প্রদক্ষিণ শেষে শ্রীশ্রী রাজালক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া গেটের সামনে এসে পূজা ম-পের গেট লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ ভাংচুর শুরু করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা আরো মারমুখী হয়ে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় পুলিশের মন্দিরের ভেতরে শত শত শিশু, নারী, পূজারীকে রক্ষাসহ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে ৫ জন নিহত হয়। একইদিন রাতে উপজেলার বেশকিছু স্থানে মন্দির, পূজাম-প ও হিন্দু বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা দু’টি মামলাসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার জনকে আসামী করা হয়। হামলার সময়ের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে ও আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। এর মধ্যে কয়েকজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়