চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০

দুই মন্ত্রণালয়ের টানাটানিতে ৭ বছর ফাইলবন্দী বড় স্টেশন মোলহেডে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কাজ

দুই মন্ত্রণালয়ের টানাটানিতে ৭ বছর ফাইলবন্দী বড় স্টেশন মোলহেডে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কাজ
রাসেল হাসান ॥

চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেডে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণে মুখোমুখি দুই মন্ত্রণালয়। পর্যটন মন্ত্রণালয় চাচ্ছে ত্রিনদী ঘেঁষা স্থলভাগে ১.০৬ একর জায়গার ওপর ইলিশকেন্দ্রিক হোটেল-মোটেল নির্মাণসহ আধুনিক মানের একটি পরিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করতে। কিন্তু মোলহেডের জায়গাটি রেল মন্ত্রণালয়ের হওয়ায় উদ্যোগ গ্রহণের ৭ বছরেও তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। রেল মন্ত্রণালয়ের দাবি, রেলের জায়গায় যদি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করতেই হয় তবে তা রেল মন্ত্রণালয় নির্মাণ করবে। অন্য মন্ত্রণালয়কে সুযোগ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। মূলত দুই মন্ত্রণালয়ের টানাটানিতে দীর্ঘ ৭ বছর ফাইলবন্দী চাঁদপুরের বহুল কাক্সিক্ষত পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন মোলহেডের পুরো চত্বরটিকে 'বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্র' নামকরণ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের উদ্যোগ নেয়। যদিও বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ পথে একটি গেইট নির্মাণ ছাড়া ভেতরে পর্যটনের দৃশ্যমান তেমন উন্নয়ন চোখে পড়ে না।

সারাদেশে কারণে-অকারণে বহু কৃত্রিম পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও প্রকৃতির পরশে, জল ও স্থলের সংস্পর্শে তিন নদীর মিলনস্থলে যেখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার কথা সেই ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরই পড়ে রইলো চরম অবহেলায়। চাঁদপুর যে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন নগরী হতে পারে তা উপলব্ধি করে প্রথম চাঁদপুরকে পর্যটন কেন্দ্র ও ব্র্যান্ডিং জেলা গঠনের উদ্যোগ নেন চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল। উদ্যোগ বাস্তবায়নে চাঁদপুরের তৎকালীন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীমহল নিয়ে গঠন করেন জেলা ব্র্যান্ডিং কমিটি। এ কমিটি থেকে তৎকালীন সময়ে নদী তীরবর্তী প্রায় ২শ' বিঘা জমির ওপর একটি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রেলওয়ের অব্যবহৃত এই দুই শ’ বিঘা জমি পর্যটন কেন্দ্রের জন্য ব্যবহার ও বর্তমান রেলের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের অন্যত্র স্থানান্তরকরণের কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়।

২০১৪ সালে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে চাঁদপুরে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ ও তা নির্মাণের প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করেন আব্দুস সবুর মন্ডল। পরবর্তীতে তিনি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করে রেলমন্ত্রণালয় ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন। সভায় দীর্ঘ আলোচনার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে পর্যটন কর্পোরেশনকে ভূমি স্থানান্তর করার একটি সিদ্ধান্তও হয়েছিলো বলে জানা যায়। সেই সিদ্ধান্তের সূত্র ধরেই পর্যটন কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল চাঁদপুর মোলহেড সরেজমিন পরিদর্শন করে 'রক্তধারা' স্মৃতিস্তম্ভের পর থেকে নদীর তীর পর্যন্ত ১.০৬ একর জমি নির্ধারণ করে তাতে 'রিভারভিউ ফুড পোর্ট' নামে আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পর্যটন কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পিটিএস) মোঃ জাকির হোসেন সিকদার চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, চাঁদপুরে তিন নদীর মিলনস্থলে একটি পর্যটন কেন্দ্র করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি। তাই পর্যটন কেন্দ্রটি করার জন্য আমাদের পর্যটন কর্পোরেশনের আন্তরিকতার কমতি নেই। ২০১৪ সালে আমরা প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র পাঠিয়ে প্রায় ১ একর জায়গা চেয়ে রেলমন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। রেল মন্ত্রণালয় ফাইলটি রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে স্থানান্তর করে। মহাপরিচালক বিষয়টি নিরীক্ষার জন্য পূর্বাঞ্চলের ডিজির কাছে পাঠিয়েছেন। পূর্বাঞ্চলের ডিজি এস্টেট বিভাগের মাধ্যমে সর্বশেষ আঞ্চলিক এস্টেট অফিসারের কাছে ফাইলটি স্থানান্তর করেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এস্টেট অফিস তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বা আমাদেরকে ভূমি স্থানান্তর বা ভূমি ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কোনো প্রতিউত্তর দেয়নি। এতে করে গত ৭ বছর ফাইলবন্দি হয়ে আছে চাঁদপুর পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম।

পর্যটন কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক আরও বলেন, আমাদের (পর্যটনকে) জায়গাটি দেয়ার কোনো আন্তরিকতা সম্ভবত রেল কর্তৃপক্ষের নেই। নইলে একটি চিঠির জবাব দিতে ৭ বছর লাগবে কেন? তবুও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান স্যার গত মে মাসে চাঁদপুরের এই স্থানটি পরিদর্শন করেন। চাঁদপুরের বর্তমান জেলা প্রশাশক অঞ্জনা খান মজলিশ আগে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ছিলেন, তিনিও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ করতে প্রস্তুত, কিন্তু রেল যদি জায়গা না দেয় তাহলেতো আর আমাদের কিছু করার নেই।

দীর্ঘ ৭ বছরেরও ভূমি স্থানান্তর সংক্রান্ত আবেদনে 'হ্যাঁ' বা 'না' কোনো উত্তর না দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব) সুজন চৌধুরী চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, চাঁদপুরের এই স্থানটি বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র হতেই পারে, তবে তা অন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমেই হবে। রেলের সর্বোচ্চ অথরিটি থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চাঁদপুর মোলহেডের দৃষ্টিনন্দন জায়গাটি অন্য কোনো মিনিস্ট্রিকে স্থানান্তর না করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিস্তারিত মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।

পর্যটন মন্ত্রণালয় ও রেল মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার বিতর্কের যখন অবসান হচ্ছে না তখন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একই স্থানকে বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্র নামকরণ করে পর্যটন অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর ১৭ জুন বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্রের মূল ফটকের কাজ শুরু করেন চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্র নামকরণ করলেও জেলা ব্র্যান্ডিং কমিটি মোলহোডের প্রবেশ পথে 'সেলফি স্ট্যান্ড' নামে ইলিশ ভাস্কর্য নির্মাণের যে উদ্যোগ নিয়েছিলো তা বাস্তাবায়ন ছাড়া দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায়নি বড় স্টেশন মোলহেড চত্বরে। যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তাতেও আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বড় স্টেশন মোলহেডের পুরো জায়গাটির অননুমোদিত সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাটি রেলওয়ে শীঘ্রই দখলে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এমনকি রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ 'রক্তধারা', সেলফি স্ট্যান্ড ইলিশ ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলা হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস. এম. সলিমুল্লাহ বাহার বলেন, রেলের জায়গায় অনুমতি না নিয় যা কিছু গড়ে তোলা হয়েছে তা-ই অবৈধ। পর্যায়ক্রমে সবই উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চাঁদপুর মোলহেডের কী থাকবে আর কী উচ্ছেদ হবে সে বিষয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ এস্টেট অফিসার ভালো বলতে পারবেন।

চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে কথা বলা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্ব অঞ্চলের চীফ স্টেট অফিসারের সাথে। তিনি জানান, চাঁদপুর মোলহেডের জায়গাটিতে পর্যটন কেন্দ্র করার পূর্বে জায়গাটি অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। তবে যেহেতু সেখানে রেলওয়ে থেকেই পর্যটন কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাই পর্যটন সদৃশ যা কিছু নির্মাণ করা হয়েছে তা অননুমোদিত হলেও বহাল থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে যদি কোনো ভাস্কর্য নির্মিত হয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই বহাল রাখা হবে। সেক্ষেত্রে 'রক্তধারা' ভেঙ্গে ফেলার কোনো সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক অফিসে হয়নি। বাকিটা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।

চাঁদপুর পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মতানৈক্যের বিষয়ে কী ভাবছেন পর্যটন কেন্দ্রের উদ্যোক্তা চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল, তা জানতে ঢাকার সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে যায় চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিবেদক। নিজের অতীত কর্মস্থলের মানুষ দেখে, অতীতের স্বপ্নের কথাগুলো বলতে গিয়ে স্মৃতি কাতর হয়ে পড়েন তিনি। চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতায় জনপ্রশাসন পদক প্রাপ্ত চৌকষ এই কর্মকর্তা বলেন, চাঁদপুর আমার একটি স্বপ্নের জায়গা ছিলো। আমি জেলা প্রশাসক থাকাকলীন স্বপ্ন দেখেছিলাম চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং করার, তিন নদীর মিলনস্থলকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে একটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার। আমরা জেলা ব্র্যান্ডিং কমিটি প্রায় ১শ' বিঘা জমিতে পর্যটন কেন্দ্রটি করার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলাম। রেলওয়ের প্রায় ১শ' বিঘা জমিতে প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্র যদি গড়ে তোলা যায়, তবে চাঁদপুর হবে দেশের নম্বর ওয়ান পর্যটন কেন্দ্র। কারণ চাঁদপুরের মত নদীঘেঁষা এতো সুন্দর জায়গা আর কোনো জেলায় নেই। কিন্তু সমস্যা হলো রেলের জায়গা নিয়ে। এ সমস্যা পূর্বেও ছিলো, এখনও আছে। চাইলে রেল মন্ত্রণালয় নিজেরাও তাদের জায়গায় বর্তমান দখলদারদের পুনর্বাসন করে সেখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে। পুনর্বাসন কোথায় করা হবে সেই প্রস্তাবিত জায়গাও আমি দেখিয়ে দিয়ে এসেছি। এখন প্রয়োজন চাঁদপুরবাসীর ইচ্ছাশক্তি।

দুই মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়েন নিয়ে আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, পর্যটন কেন্দ্র পর্যটন মন্ত্রণালয় করলো নাকি রেল মন্ত্রণালয় করলো তা নিয়ে চাঁদপুরবাসীর কাউকে সমর্থন দেয়া ঠিক হবে না। চাঁদপুরবাসীর প্রয়োজন একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র। এবার সেটি রেল করলেও খুশি, পর্যটন মন্ত্রণালয় করলেও খুশি। প্রয়োজন যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে স্বপ্নটি বাস্তাবায়ন করানো। চাঁদপুরে একটি আই টাওয়ার বা চাঁদপুর টাওয়ার হবে। যাতে চড়ে পুরো চাঁদপুরকে দেখা যাবে। নদীর দৃশ্য উপভোগের জন্য নদীর উপর দিয়ে চলবে কেবল কার। ইলিশকে ব্র্যান্ড করে গড়ে উঠবে কয়েকটি হোটেল-মোটেল, যেন নদী পথে কেউ চাঁদপুর অতিক্রম করলেই দেখে ঈর্ষা হয় ইলিশের বাড়িটা ঘুরে দেখার। এমন স্বপ্ন শুধু চাঁদপুরবাসীই দেখতে পারে। কারণ তারা তিন নদীর মিলনস্থলের বাসিন্দা। সবই সম্ভব যদি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করে যায় এবং চাঁদপুরবাসী প্রশাসনকে অকৃত্রিম সহযোগিতা করেন।

পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে কী ভাবছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন তা নিয়ে কথা বলা হয় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সাথে। তিনি বলেন, পর্যটন কর্পোরেশন চাঁদপুর মোলহেডকে পর্যটন কেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছিলো, কিন্তু তার কার্যক্রম তারা শুরু করেনি। রেলওয়ের কাছে জায়গা চেয়ে আবেদন করা হয়েছিলো, রেলওয়ে আদৌ জায়গা দিবে কি দিবে না, এ বিষয়ে অফিসিয়ালভাবে কিছু জানায়নি। বর্তমান পর্যটন কেন্দ্রের যতটুকু কাজ হয়েছে তার পুরোটাই জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে হয়েছে। আগামীতে আদৌ এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে কি-না তা রেলওয়ের ভূমি হস্তান্তর বা ভূমি ব্যবহারের অনুমতির উপর নির্ভর করছে।

বড় স্টেশন মোলহেডে পর্যটন কেন্দ্র করা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীও। কিছুদিন পূর্বেও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন চাঁদপুর কণ্ঠকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমরা মন্ত্রণালয়গুলো একে অপরের পরিপূরক। যদি কোনো সম্পত্তি রেলের অপারেশনে না প্রয়োজন হয় তবে তা অন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবহারের জন্য দেয়া হবে। কিন্তু চাঁদপুর বড় স্টেশনে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে ভিন্ন মত জানান মন্ত্রী। রেলমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুর বড় স্টেশনের সম্পত্তিটি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রেলের জায়গায় পর্যটনকেন্দ্র যদি করতেই হয় তবে তা রেল মন্ত্রণালয়ই করবে, অন্য কাউকে ভূমি হস্তান্তর করার সুযোগ নেই।

বিমান ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, চাঁদপুরের পর্যটন কেন্দ্র গড়া নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র সে লক্ষ্যেই কাজ করেছে। রেলের জায়গা না পাওয়ায় সুন্দর একটি উদ্যোগ ৭ বছর ধরে থেমে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি যেখানে আছে সেখানে পর্যটন কেন্দ্র হবেই।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের হস্তক্ষেপে দুই মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কাজটির সমাধান মিলতে পারে বলে মনে করছেন সুধীমহল। অচিরেই দুই মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসম্পর্কিত উন্নয়ন ঘটুক, চাঁদপুরে গড়ে ওঠুক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বৃহত্তর একটি পর্যটন কেন্দ্র-এমনটাই প্রত্যাশা চাঁদপুরবাসীর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়