চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪  |   ২১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১ হাজার ৬'শ ছাড়িয়েছে, জরুরী অবস্থা জারি
  •   জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  •   ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজের নিবন্ধন শুরু
  •   জুয়ার নিরাপদ আস্তানায় হানা নেই কেন?
  •   নিখোঁজের ৪ দিন পর ফরিদগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার ॥ আটক ২

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০

হয়রানির আরেক নাম প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার
বিমল চৌধুরী ॥

বাংলায় একটা কথা আছে, খাইলে খা, না খাইলে একদম চুপ, কোনো কথা নাই। বর্তমান সময় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। হয়রানির অন্ত নেই। যা শুরু হয়েছে প্রি-পেইড বিদ্যুতের মিটার সংযোগ সময় থেকে। হঠাৎ দেখা গেল মিটারে বিদ্যুৎ আছে তো, ঘরে বিদ্যুৎ নেই। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, মিটারের ব্যাটারী খারাপ হয়ে গেছে। যাও অফিসে, অফিসে গিয়ে জানা গেল আপনার মিটারের ছবি, মিটারে দেখানো সাংকেতিক ছবি ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে আসেন। কিছু করার নেই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে, একটু ঠাণ্ডা হাওয়া খাওয়াসহ নানা কারণে এখনই ব্যাটারী চাই। তাই ব্যাটারীর জন্য প্রথম প্রথম দেড় হাজার থেকে দু হাজারও গুণতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো একটু বেশি। তবে এখন আর অত টাকা গুণতে হয় না, অফিসে আসা যাওয়াসহ অফিস-লোকদের ব্যাটারী পাল্টানো পর্যন্ত ৪/৫শ’ টাকা হলেই চলে। এমনি করে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে প্রি-পেইড মিটারে ঝামেলা লেগেই আছে। যা ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করলেই অতি সহজে তা জানা যাবে।

সর্বশেষ দেখা দিয়েছে মিটার রিচার্জে নতুন ঝামেলা, যা একপ্রকার বাংলায় ১, ২, ৩, ৪ সংখ্যা শেখার মত। ব্যাপারটা এমন যে, সুন্দর করে কে কত ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত লিখতে পারে। বর্তমানে মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে গ্রাহক হয়রানি চরমে উঠেছে। আগে বাকিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল দিতে হতো, আর এখন বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্যে অগ্রিম দিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে এজন্যে তেমন কোনো মাথা ব্যথা নেই। বর্তমানে মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে রিচার্জ করতে গিয়ে। ২২০ ডিজিট চেপে রিচার্জ করতে হচ্ছে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার। যা করতে হয়রানিবোধ করছে গ্রাহক। যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি কামনা করছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

জানা যায়, বিদ্যুৎ খাতের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে সরকার ২০১৫ সালে প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম চালু করে। এ সিস্টেমের ফলে গ্রাহকরা ঘরে বসেই অনলাইনে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারছে। এতে যেমন শতভাগ বিল আদায় নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। তবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে নতুন ভোগান্তি দেখা গেছে টোকেন সিস্টেমে। বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার রিচার্জের ক্ষেত্রে সাধারণত ২০ ডিজিটের একটি টোকেন মোবাইল ফোনে বার্তা আকারে আসে। সেই টোকেন নম্বরটি মিটারে প্রবেশ করালে রিচার্জ সম্পন্ন হয়। কিন্তু ২০ ডিজিটের এমন টোকেন ১০ থেকে ১২টি করে গ্রাহকের কাছে আসছে। সংখ্যায় যা দাঁড়ায় ২০০ থেকে ২২০টি। রিচার্জ সম্পন্ন করতে সব সংখ্যা মিটারে প্রবেশ করাতে হয়। যা বেশ ভোগান্তির বলে জানাচ্ছেন গ্রাহকরা।

বিইআরসি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন এই তিন পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল। মূলত তখনও এ সমস্যা হয়েছিল।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ানো হয়। এরপর থেকে সমস্যাটা আবার সামনে আসে। বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সার্ভারে আপডেট করতে গিয়ে এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কথা হয় ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন খান রাজনের সাথে। চাঁদপুর সদরে তিনি বসবাস করেন। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ করতে গিয়ে আমাকে বেশ কয়েকবার এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কার্ডে টাকা ভরার পর ফোনে টোকেন নম্বর আসে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ২০ ডিজিটের ১১টা টোকেন এসেছে। অর্থাৎ ২২০টি সংখ্যা। আমাকে বাধ্য হয়েই সব সংখ্যা সঠিকভাবে বসিয়ে রিচার্জ কমপ্লিট করতে হয়েছে, যা চরম একটা ভোগান্তি।

একই ভোগান্তির কথা জানালেন পুরাণবাজারের অভিজাত এলাকা মোমেনবাগ এলাকার সুমন খান। তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ করলে আসতো ২০ ডিজিট, আর এখন আসছে ২৪০ ডিজিটি! এতগুলো সংখ্যা চেপে রিচার্জ করা একটা ভোগান্তির বিষয়। বারবার ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই কথা জানান চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া এলাকার গৃহবধূ লাবণ্য সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ইদানিং আমার মিটার রিচার্জে ১০ থেকে ১২টা টোকেন আসে। যার সবগুলো চেপে মিটার রিচার্জ করতে হয়। আমি ভাবলাম, এ সমস্যা কি শুধু আমারই হয় কি-না। পরে দেখলাম, না, অনেকেরই এমন সমস্যায় পড়তে হয়েছে। জরুরি মুহূর্তে যদি এমন সংখ্যা চাপতে হয়, তাহলে ডিজিটালাইজড করে লাভ কী?

ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করা হলেও তারা সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান দিতে পারেনি। টেকনিক্যাল ইস্যুতে এমনটা হয়ে থাকে বলে জানানো হয়। অগত্যা ২০০/২৪০ শব্দ চেপেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন গ্রাহকরা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়