চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪  |   ২১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১ হাজার ৬'শ ছাড়িয়েছে, জরুরী অবস্থা জারি
  •   জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  •   ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজের নিবন্ধন শুরু
  •   জুয়ার নিরাপদ আস্তানায় হানা নেই কেন?
  •   নিখোঁজের ৪ দিন পর ফরিদগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার ॥ আটক ২

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০

কচুয়ায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ॥ প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবিতে সহপাঠীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

কচুয়ায় সুমনা আক্তার শাহনাজ (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে করইশ মজু মিয়া প্রধানীয়া বাড়ি সংলগ্ন সড়কে স্কুল শিক্ষার্থী সুমনা ছটফট করলে লোকজন তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে।

সুমনার বাবা সুমন জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর বাড়ির লোকজন মজু প্রধানীয়া বাড়ির সামনের রাস্তায় সুমনাকে ছটফট করতে দেখে আমাকে সংবাদ দেয়। আমি দ্রুত সুমনাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু আমার মেয়েকে কুমিল্লা নেয়ার আগেই সে মৃত্যুবরণ করে।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান সূত্রে জানা যায়, সুমনা নামের স্কুল শিক্ষার্থী ইঁদুরের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন। এ সময় চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি দেখলে তাকে কুমিল্লায় রেফার করে। কুমিল্লায় নেয়ার পূর্বেই সে মৃত্যুবরণ করে।

স্কুল শিক্ষার্থী সুমনার বিষপানে আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে তার বাবা সুমন ৫ জনকে বিবাদী করে কচুয়া থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, কড়ইয়া গ্রামের শহিদ মুন্সির ছেলে ফুয়াদ হোসেন রিফাতের সাথে আমার মেয়ের ৩ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। প্রেমের সম্পর্কের সময় ফুয়াদ আমার মেয়ের অগোচরে তার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সে আমার মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে। আমার মেয়ে বিষয়টি আমাকে ও আমার স্ত্রী শারমিনকে অবহিত করলে আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করে সমাধানের চেষ্টা করি। বিবাদীরা সমাধানে না এসে আমার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং তাকে হুমকি প্রদান করে যে, আমার মেয়ে সুমনা যদি ফুয়াদের জীবন থেকে সরে না যায় তাহলে তারা আমার মেয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে ভাইরাল করবে। বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশ করে আমার মেয়ে সুমনা আক্তারকে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়। আমি আমার মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুরের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পেয়েছি, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে নিহত সুমনা আক্তারের মৃত্যুতে কচুয়া ক্যামব্রিয়ান স্কুলের শিক্ষার্থীরা কচুয়া বিশ্বরোড এলাকায় আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের সহপাঠী সুমনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা করা হয়েছে। তার ভিডিও এবং ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয় এবং বিবাহ করতে অস্বীকৃতি জানায় বলেই সুমনা বিষপান করেছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমরা ফুয়াদ মুন্সিসহ অন্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়