চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪  |   ১৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১ হাজার ৬'শ ছাড়িয়েছে, জরুরী অবস্থা জারি
  •   জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  •   ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজের নিবন্ধন শুরু
  •   জুয়ার নিরাপদ আস্তানায় হানা নেই কেন?
  •   নিখোঁজের ৪ দিন পর ফরিদগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার ॥ আটক ২

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০

মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম এটাই আমার গর্ব
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন বিএসসি, বিএড। প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত শিক্ষকতা জীবনে শত শত ছেলে-মেয়েকে মানুষ করেছেন। নিজের ছেলে-মেয়েকে করেছেন প্রতিষ্ঠিত। নূরুল আমিনের পরিবারে ২জন উপ-সচিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ ও ৭ জন সরকারি শিক্ষক রয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই ভারতের অম্পি নগরে ট্রেনিং গ্রহণ করে সেক্টর কমান্ডার মেজর হায়দারের নেতৃত্বে ২নং সেক্টরে যুদ্ধে অংশ নেন। আর হাজীগঞ্জে যুদ্ধ করেন যুদ্ধকালীন থানা কমান্ডার মজিবুর রহমান মজুমদারের নেতৃত্বে। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের আয়োজন ‘বিজয়ের মাস ডিসেম্বর : কেমন আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ’ শিরোনামে আজকের পর্বে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম এটাই আমার গর্ব। আরো বলেছেন না বলা অনেক কথা, যা চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠকদের কাছে প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে তুলে ধরা হলো-

চাঁদপুর কণ্ঠ : বছর ঘুরে আবার আসলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আপনার অনুভূতি কেমন?

নূরুল আমিন : বছর ঘুরে আসলো বিজয়ের মাস, তাই এ মাসে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দে আত্মহারা। প্রশাসন থেকে সাড়া পাওয়া যায়। ছোট হলেও এ মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধারা গিফ্ট পেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। স্বাধীনতার সপক্ষের লোকজন শ্রদ্ধাভরে প্রাণখোলাভাবে দুকথা বলতে পারেন। এতে আমরা গর্ববোধ করি। জাতি আমাদেরকে মূল্যায়ন করে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক বিজয় দিবসে আমাদেরকে বিজয় দিবস ভাতা প্রদান করে উৎসাহিত করেন। জাতির পিতার কন্যা আমাদেরকে যেভাবে সম্মান করেন, সেই অনুভূতি বলার নয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : সার্বিকভাবে আপনি কেমন আছেন?

নূরুল আমিন : আলহামদুলিল্লাহ, সার্বিকভাবে আমি খুবই ভালো আছি। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, জাতির পিতা আমাদেরকে মূল্যায়ন করেছেন, সেই সাথে জাতির পিতার কন্যার কারণে আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছি, দেশে উন্নয়ন করেছেন আর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি, আমি খুবই ভালো আছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ৫২ বছর পূর্বের মুক্তিযুদ্ধের কোন্ স্মৃতি আপনার মনে এখনও জ্বলজ্বল করছে?

নূরুল আমিন : ১৯৭১ সালে টাকার অভাবে আমি চাঁদপুর কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারিনি। বাবা তখন বাড়িতে ছিলেন না। বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ভাই শেখ নাছের সাহেবের সহকারী ছিলেন। শেখ নাছের সাহেব সিভিল সাপ্লাইর কন্ট্রাক্টর ছিলেন। বাবা ওনার পক্ষে ওনার আপনজন হয়ে মালপত্র কেরিং করতেন। বাবা তখন খুলনায় ছিলেন। কিন্তু শেখ নাছের সাহেব চাঁদপুর কলেজে এসে প্রিন্সিপাল দবির উদ্দিন স্যারকে দিয়ে আমার ফরম ফিলাপ করিয়ে আমাকে ডেকে এনে ২০ (বিশ) টাকা দিয়েছেন। তারপর বলেন, এই টাকা দিয়ে ৭ মার্চ ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে আসবা। তদানুসারে ৭ মার্চে ভাষণ শুনে বাড়িতে এসে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করি। দেশে যুদ্ধ শেষে উচ্চতর ট্রেনিং গ্রহণের জন্যে ভারতের আর্মি ট্রেনিং সেন্টারে চলে যাই। সেখানে ১২৫০ জন ট্রেইনিজ কোম্পানির আমি বাবু ছিলাম। আর্মি ট্রেনিং সেন্টারের ক্যাপ্টেন জে.কে. শর্মা সাহেবের অ্যাসিস্ট্যান্টও ছিলাম। কতই আদর যত্ন না পেয়েছি-তা আজও ভুলবার নয়। অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা জানাই শহীদ শেখ নাছের সাহেবকে ও তাঁর পরিবারের প্রতি। মৃত্যুর দ্বারে এসেও আজ পর্যন্ত শেখ পরিবারের ঋণমুক্ত হতে পারিনি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : অনেক রক্তে অর্জিত প্রিয় স্বাধীন দেশের বর্তমান অবস্থায় আপনি কতোটুকু সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট?

নূরুল আমিন : অনেক রক্তে অর্জিত প্রিয় স্বাধীন দেশের বর্তমান অবস্থায় বলবো, স্বাধীনতা এনেছি রক্ত ক্ষরণের মাধ্যমে। সফলতার কথা লিখেছি, তারপরেও বলতে হয় আমি এবং আমরা শতভাগ সন্তুষ্ট নই। অসন্তুষ্ট তো আছিই, আবার জীবনে সব ক্ষেত্রে যে সন্তুষ্ট হওয়া যায় না, তা তো বুঝি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই মানুষের জন্ম/মৃত্যু। মাফ করবেন, তবুও জানার ইচ্ছা, আপনি আর কতোদিন বাঁচতে চান?

নূরুল আমিন ঃ জন্ম/মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার হাতে। মানুষ মরণশীল। তবুও বলতে হয় জেনে-শুনে অন্যায় করিনি, মনোবল নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি, মনোবল এখনো খুবই শক্ত। ৭২ বছর পেরিয়েছি। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ বাঁচালে ৯০-এর কোটা পেরিয়ে তিন অংকের কোটায় পৌঁছে যাবো-এমন প্রত্যাশাই রাখি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : বর্তমান বা পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনি কী কথা রেখে যেতে চান?

নূরুল আমিন : আমি একজন জাতি গড়ার কারিগর ছিলাম। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমার আদেশ, উপদেশ এবং অনুরোধ রইলো, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে নস্যাৎ করে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির পক্ষে হাতে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতার অস্তিÍত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়