চাঁদপুর, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   ফরিদগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন মেধাবৃত্তি পরীক্ষা
  •   হাইমচরে রাতভর পাহারা দিয়েও রক্ষা হয়নি চরের মাটি
  •   বড়স্টেশন মেঘনায়  ট্রলারের ধাক্কায় নিঁখোজ জেলের লাশ পাঁচদিন পর উদ্ধার
  •   মতলব উত্তরে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় আহত তানভীরও চলে গেলো না ফেরার দেশে
  •   কাল হেলিকপ্টারে মতলব উত্তরে আসছেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ভাবনা-১৬

তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশনের চেয়ে সঠিক তথ্যভিত্তিক সত্য সংবাদ প্রকাশ জরুরি

-----------------ইকবাল হোসেন

তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশনের চেয়ে সঠিক তথ্যভিত্তিক সত্য সংবাদ প্রকাশ জরুরি
রেদওয়ান আহমেদ জাকির ॥

প্রায় ১৮ বছর সংবাদপত্রের সাথে আছি। এই দীর্ঘ সময়ে বেশ কিছু সংবাদপত্রের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তবে সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়েছিল দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের মাধ্যমে। তারপর উল্লেখযোগ্য যে ক’টি সংবাদপত্রে কাজ করেছি, সেগুলো হলো দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকাল। জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টে সহ-সম্পাদক হিসেবে কিছুদিন কাজ করেছি। এছাড়াও ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি দৈনিকে সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। সাংবাদিকতার দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি দৈনিক সমকালে। এখনো দৈনিক সমকালেই মতলব প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি।

আসলে সাংবাদিকদের মৌলিক সংগঠন বলতে আমরা প্রেসক্লাবকে বুঝি। মতলব প্রেসক্লাবে দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। তারপর সহ-সভাপতি ছিলাম এবং সর্বশেষ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। আমি শিষ্টাচার ও নৈতিকতার সাথে কাজ করতে আনন্দবোধ করি।

এ কথাগুলো মতলবের সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল হোসেনের। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের ‘সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ভাবনা’য় উপরোক্ত কথা ছাড়াও আরো কথা বলেছেন, নিচে পুরোটা তুলে ধরা হলো :-

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার উপজেলায় সাংবাদিকতা অতীতের সকল সময়ের চেয়ে কি গতিশীলতা পেয়েছে? গতিশীলতা পেলেও কি মান রক্ষা হচ্ছে?

ইকবাল হোসেন : সংখ্যার দিক থেকে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র বেড়েছে। কিন্তু সৎ কিংবা প্রকৃত সাংবাদিকতার উন্মেষ ঘটেনি। এই অধিক সংখ্যা বরং সৎ সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তারা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত। কারো স্বার্থে ব্যবহার হয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের কাছে মুখ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠ এই গ্রুপটি দলে বলে প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ফায়দা নিয়ে প্রকৃত তথ্য আড়াল করতে চায়। অপরদিকে সংখ্যালঘু প্রকৃত সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে। ফলে সত্য প্রকাশের পরিবর্তে মিথ্যা কিংবা গুজব বেশি ছড়াচ্ছে। কিছু মানুষ সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে কারো চরিত্রহনন করছে এবং ফায়দা লুটছে। এতে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : পত্রিকাগুলোর প্রিন্টিং সংস্করণের পাঠক এবং টিভি সংবাদের শ্রোতাণ্ডদর্শক দিনদিন কমছে। কারণ কী? এমনটি রোধের উপায় কী?

ইকবাল হোসেন : অবশ্যই এর মূল কারণ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। সাংবাদিকদের মধ্যে রাজনৈতিক দলাদলি আছে, আর আছে নিরপেক্ষতার অভাব। প্রকৃত সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ অপসাংবাদিক হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি। বিশেষ করে আমাদের বেশিরভাগ গণমাধ্যমের মালিকরাই কোনো রাজনৈতিক দলের কিংবা অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিক। আর তাদের মনোভাব বহিঃপ্রকাশের প্রভাব পড়ে ওইসব গণমাধ্যমে। অপর দিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আসলে ব্যাপক হারে গণমাধ্যম প্রকাশের নিবন্ধন দিলেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা বুঝায় না। বাধাহীনভাবে নির্ভয়ে মত প্রকাশ করতে পারাটাই স্বাধীনতা। দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা প্রভাবশালী, সরকারি বড় কর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, কিংবা বড় ব্যবসায়ী। আর সাংবাদিকরা নগণ্য পাঁচ টাকার কলম সৈনিক। অসম লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য সাংবাদিকদের মাঝে যে ঐক্যের দরকার সেটাও নেই। এসব থেকে উত্তরণের জন্য সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করা জরুরি। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন দরকার।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আজকাল গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিভিন্ন মহল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। অনেকে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ব্যবহৃতও হচ্ছে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য/বিভাজন থেকে এমনটি হচ্ছে। আপনার অভিমত কী?

ইকবাল হোসেন : স্বার্থান্বেষী মহল যুগে যুগেই তাদের স্বার্থের জন্য সাংবাদিকদের ব্যবহার করতে চেয়েছে। ব্যবহার করেছেও। যারা নিজের চরিত্র বিকিয়ে সাংবাদিকতা করছেন তাদের বিষয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। বিভাজন তো সত্যে সত্যে হয় না। বিভাজন হয় সত্যে মিথ্যায়। সংবাদপত্রের মালিক ও সাংবাদিকদের নৈতিকভাবে সচেতন হলেই একটা নৈতিক ঐক্যের সৃষ্টি হবে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : সংবাদ পরিবেশনে তাৎক্ষণিকতাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনলাইন সাংবাদিকতার জোয়ার। এতে কেউ কেউ অপসাংবাদিকতার সুযোগ বা আশ্রয় নিচ্ছে। সকল সংবাদের ক্ষেত্রে কি তাৎক্ষণিকতা জরুরি? আপনার মতামত জানতে চাই।

ইকবাল হোসেন : তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশনের চেয়ে সঠিক তথ্যভিত্তিক সত্য সংবাদ প্রকাশ জরুরি। কারণ বিভ্রান্তিমূলক মিথ্যা সংবাদ সমাজে বিভেদণ্ডবিভাজন ও সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। সংবাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরিবেশন করতে হয়। সেটা অনলাইন হোক আর প্রিন্ট মিডিয়া কিংবা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ই হোক। তা না হলে সোশ্যাল মিডিয়া আর গণমাধ্যমের পার্থক্য এবং গুরুত্ব হারাবে। অপসংবাদিকতা উৎসাহিত হবে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর আস্থার সংকট বাড়বে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কখনোই সংবাদ হতে পারে না

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্ন সমূহের বাইরেও আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে প্রদান করতে পারেন।

ইকবাল হোসেন : সরকারি কর্মচারী অপরাধ করলে তাদের গ্রেপ্তার করতে পূর্বানুমতির বিধান বা আইন আছে আমাদের দেশে । অথচ যে সাংবাদিকরা ৫ টাকার একটা কলম দিয়ে সত্য প্রকাশে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন তাদের সুরক্ষার জন্য কিছু না করে উল্টো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে। এতে অপরাধ বাড়বে না কমবে সহজে অনুধাবন করা যায়। সাংবাদিক ও সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রণ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কখনোই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। আমাদের রাজনীতিতে সততা এবং শিষ্টাচারের চর্চা নেই বললেই চলে। ঠিক সাংবাদিকতায়ও তেমনটি হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের সাথে মিল রেখে বেতন ও চাকরি সুবিধা দিতে হবে। সংবাদপত্রের প্রতি মানুষ যতই আস্থা হারাবে সোশ্যাল মিডিয়া ততোই শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া। এতে অপরাধীচক্র ও স্বার্থান্বেষী মহল সুবিধা পাবে। সমাজে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়