সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২  |   ২০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   লঞ্চ ধর্মঘটে বিপাকে যাত্রী সাধারণ
  •   মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা-২০২২ কমিটিতে সংশোধনী আকারে অন্তর্ভুক্ত হলেন যারা
  •   কচুয়ায় গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলা বিএনপির কুমিল্লায় সমাবেশে যোগদান
  •   মতলব উত্তরে আবারও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০

ফরিদগঞ্জের বাজারগুলোতে বেড়েছে ভিক্ষাবৃত্তি ॥ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে অস্বস্তি
এমরান হোসেন লিটন ॥

আয়শূন্য হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ না পেয়ে পথে পথে ভিক্ষা করছেন হতদরিদ্ররা। তারা এখন গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে না গিয়ে বাজারমুখী হচ্ছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতে আগের চেয়ে তুলনামূলক ভিক্ষুক বেড়েছে। বাজারের অলিগলির দোকান ও ক্রেতাদের কাছে হাত বাড়াচ্ছেন ভিক্ষার আশায়।

জানা গেছে, এলাকার বিভিন্ন হতদরিদ্র পরিপূর্ণভাবে খাবার না পেয়ে এবং ওষুধের টাকা রোজগার করতে না পারায় এখন ভিক্ষা করছেন। আগে যেসব নারী বিভিন্ন বাড়িতে গৃহশ্রমিকের কাজ করতেন, তারাও এখন বেশি ইনকামের আশায় ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছেন। এছাড়া এদের মধ্যে অনেকেই বেশি ইনকামের আশায় লোভে পড়ে এমনিতেই ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছেন।

গত কয়েক মাস উপজেলার বাজারগুলোতে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, ভিক্ষুকের সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি। যার মধ্যে বেশি ভিক্ষাবৃত্তি দেখা যায় ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা বাজার, পাটোয়ারী বাজার, রূপসা বাজার, ফরিদগঞ্জ বাজার, মুন্সিরহাট বাজার, গৃদকালিন্দিয়া বাজার, কালিরবাজার, গোয়ালভাওর বাজার, দক্ষিণ রামপুর বাজার, নয়ারহাট বাজারসহ বেশ ক’টি বাজারে। এদের মধ্যে পোশাক-আশাক দেখে কিছুটা আঁচ করা যায়, মধ্য বয়সী নারীর সংখ্যাই বেশি। তারা এর আগে রাস্তায় নামেননি, তারা পেশাদার ভিক্ষুকও নন। শ্রমজীবী এসব নারী বিভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন। অনেকটা সামাজিক মর্যাদা নিয়েই তারা জীবন-যাপন করতেন। কিন্তু সময়ের ফেরে এখন তাদের পথে নামতে হয়েছে। তবে বাজারগুলোর অনেক ব্যবসায়ীর ধারণা, এরা পেশাদার ভিক্ষুক নন। এরা অনেকে নিজেদের সাজসজ্জার চাহিদা মেটানোর জন্য নিজ এলাকা থেকে দূরের এলাকায় গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, রূপসা বাজারে এমন কিছু ভিক্ষুক ভিক্ষা করে, যাদের দৈনিক আয় প্রায় ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। এরা মাসে ২/৩ দিন বাদ দিয়ে প্রতিদিনই এ কাজ করে। কিন্তু টাকা কী করে জিজ্ঞেস করলে তাদের নাকি ‘অভাব সারে না’ বলে জানান।

জনৈক চিকিৎসক বলেন, তার জানা মতে একজন নারী ভিক্ষা করেন, কিন্তু তার ভিক্ষা করার মতো কোনো অবস্থা তিনি দেখেন না। চান্দ্রা বাজারের ক'জন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, দৈনিক কমপক্ষে ৫০/৬০ জন ভিক্ষুক আসে। হাট-বাজারের দিন এর সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু এদের মধ্যে পোশাক-আশাক, কথা বলার ধরন এবং শরীরের গঠন দেখে অনুমান করা যায় এরা অনেকে মধ্যবয়সী ও আরো কম বয়সের। এদের দেখে বোঝা যায়, এরা পেশাদার ভিক্ষুক নয়। এদের মধ্যে অনেকে লোভে পড়ে ভিক্ষা করে। কারণ চান্দ্রা বাজারের মতো বাজারে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে একটি চক্কর দিলেই দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ইনকাম কোনো ব্যাপার না। এদের পরিচয় বা বাড়ি কোথায় জানতে চাইলেও বলে না।

ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন বাজারের অনেক ব্যবসায়ী অত্যন্ত অস্বস্তিতে বলেন, ভিক্ষুকদেরকে দৈনিক এক থেকে দেড়শ’ টাকা দিতে হয়। এখন ভিক্ষুকদের মধ্যে অনেকে দুই টাকাণ্ডতিন টাকা দিলে নিতে চায় না।

মতিন হোসেন (ছদ্মনাম) তার নাকি বাতের সমস্যা, তাই তিনি ভিক্ষা করছেন। কিন্তু তাকে গত ক’বছর প্রতিনিয়ত দেখা যায় অনায়াসে সুস্থভাবে বিভিন্ন রাস্তায় হাঁটাচলা করছেন। তিনি বিভিন্ন দোকানে এবং বাজারে আসা কাস্টমারদের কাছ থেকে ভিক্ষা করছেন। তার পিছু পিছু ঘুরে অনুমান করা গেছে তিনি এক ঘণ্টায় প্রায় ২০০ টাকার মতো উত্তোলন করেছেন। এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে তাদের সঠিক ঠিকানা এবং কথার মিল পাওয়া যায়নি।

ফরিদগঞ্জে একজন ভিক্ষুকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তার বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলায়। ‘এত দূর এসে কেনো ভিক্ষা করছেন’ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জেরও অনেক লোক তাদের এলাকায় গিয়ে ভিক্ষা করে।

অন্যদিকে মহিলা ভিক্ষুকদের সাথে কথা বলে তাদের স্বামীর নাম, গ্রামের নাম জানতে চাইলে তারা কোনো রকম পরিচয় দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ‘এত কিছু জানার কী দরকার’ বলে চলে যান। চান্দ্রায় একজন ভিক্ষুকের সাথে কথা হলে তিনি তার বাড়ি পাইকপাড়ার চৌরঙ্গী এলাকার একটি বাড়ির নাম বলে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সেই বাড়িতে কোনো ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত নয়।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি এখানে ভিক্ষুকের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে সত্যিকার অর্থেই ভিক্ষুক। অনেক ভিক্ষুক আছে এরা পেশাদার ভিক্ষুক না, এরা লোভে পড়ে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছেন। তবে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ২০২০ সালের জরিপ অনুযায়ী সাত হাজার ভিক্ষুক আছে। তার মধ্যে সবাই ভিক্ষুক না। এদের মধ্যে অনেকে আছে অতিদরিদ্র। এদেরকে পুনর্বাসন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়