চাঁদপুর, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   ফরিদগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন মেধাবৃত্তি পরীক্ষা
  •   হাইমচরে রাতভর পাহারা দিয়েও রক্ষা হয়নি চরের মাটি
  •   বড়স্টেশন মেঘনায়  ট্রলারের ধাক্কায় নিঁখোজ জেলের লাশ পাঁচদিন পর উদ্ধার
  •   মতলব উত্তরে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় আহত তানভীরও চলে গেলো না ফেরার দেশে
  •   কাল হেলিকপ্টারে মতলব উত্তরে আসছেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেই কর্মকর্তাকে আরএমও পদে বদলি
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি ॥

টাকা আত্মসাৎ ও হাসপাতালের নার্সকে যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বেলায়েত হোসেনকে কুমিল্লা শহীদ নগর ২০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা কেন্দ্রে আরএমও পদে বদলি করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শামিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।

গত ৩ আগস্ট হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে নার্স এবং নার্সের মেয়েকে যৌন হয়ারানি করার অভিযোগসহ নার্সদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা রকম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।

উক্ত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এক সিনিয়র নার্সের মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী (১৭)-এর সাথে হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডাঃ মোঃ বেলায়েত হোসেনের পরিচয় হওয়ার পর তার ফোন নাম্বার চান। এতে মেয়েটি নাম্বার দিতে নারাজ হলে এক পর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক তার মোবাইল নাম্বার নেন। মোবাইল নাম্বার নেয়ার পর থেকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারে ফোন দিয়ে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। তিনি অসংখ্যবার ভিডিও কল দিয়ে নগ্ন অবস্থায় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন এবং মেয়েটিকে নগ্ন হতে বলেন। এমনকি ভিডিও সেক্স করতেও বলেন তিনি। মেয়েটি তার কথামত অশ্লীল কাজ করতে না চাইলে তিনি তার বাসায় যেতে বলেন। এই কর্মকর্তার স্ত্রী বাসায় না থাকলেই তিনি মেয়েটিকে বাসায় যেতে জোর করেন। তার কোনো কথায় রাজি না হওয়ায় এই কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে বলেন, সে যদি এ সকল কথা কারো কাছে বলে এবং তার ডাকে সাড়া না দেয়, তার বাসায় না যায় তাহলে তার মাতা সিনিয়র নার্সকে অন্যত্র বদলি করে দেয়া হবে।

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বেলায়েত হোসেনের যৌন হয়রানিতে মেয়েটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এছাড়াও আরেক সিনিয়র নার্স সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন। সে অভিযোগে জানা যায়, ২০১৬ সালে নিয়াগকৃত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনি। তিনি অভিযোগে বলেন, ফাইজার ভ্যাকসিন দেয়ার কারণে সরকার ৮জন নার্সকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ১লাখ ৯২হাজার টাকা প্রদান করেন। ৮ জন নার্সকে বেলায়েত হোসেন ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা অফিস খরচ বাবদ কেটে রাখেন। এছাড়া তিনি ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে বিব্রত করেন। অফিস অথবা ওয়ার্ডের কাজে বা তার অফিসে গেলে তার খারাপ দৃষ্টিভঙ্গি ও আপত্তিকর কথাবার্তা শুনতে হয়। যার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল নার্স এই কর্মকর্তার অফিস রুমে যেতে ভয় পায়। তার যৌনহয়রানির কারণে নার্সরা হাসপাতালে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছে না।

অভিযোগকারী মেয়েটি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন এ হাসপাতালে আসার পর থেকেই তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। একদিন জোর করে আমার থেকে আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে আমাকে কুরুচিপূর্ণ কথা বলতেন। আমি ওনার সাথে কথা বলতে না চাইলে তিনি আমার মাকে অন্য কোথাও বদলি করে দিবেন বলে আমাকে ভয় দেখাতেন। তার ভয়ে আমি তার সকল প্রকার যৌন হয়রানি মুখ বুঁজে সহ্য করেছি। কিন্তু এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তিনি প্রতিদিন আমাকে তার বাসায় যেতে বলেন, বাসায় না গেলে তিনি ভিডিও কল দিয়ে তার জামাকাপড় খুলে আমাকে দেখান এবং আমার শরীরের জামাকাপড় খুলে তাকে দেখাতে বলেন। আমি তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সবাইকে জানাতে বাধ্য হয়েছি। এ বিষয়ে আমি গত বুধবার চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে লিখিত ও ভিডিও বক্তব্যসহ অভিযোগ দিয়ে এসেছি।

অভিযোগকারী অন্য নার্স বলেন, পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বেলায়েত হোসেন আমার ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। যার ফলে আমার পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আমি ফেসবুকে কোনো পোস্ট করলেই তিনি বাজে মন্তব্য করায় পোস্টগুলো ডিলেট করতে বাধ্য হই। তাছাড়া তিনি সরাসরি আমাকে দেখলেও অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি আমাদের নার্সদের ভ্যাকসিন দেয়ার টাকা অফিস খরচ দেখিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন। এসব বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে আমি চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়