সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন নাসরিন জাহান সেফালী।
  •   হিজড়াদের জন্য যা থাকছে নতুন শিক্ষাক্রমে

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২১, ০০:০০

আরো একবার পদক পেতে পারতো চাঁদপুর
রাসেল হাসান ॥

ঘোষিত হলো ২০২০ ও ২০২১ সালের জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম। ২০২০ সালে ১৫টি ও ২০২১ সালে ২০টিসহ মোট ৩৫ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয় ২৭ জুলাই রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। এবারের তালিকায় কোনো ক্যাটাগরিতেই স্থান পায়নি চাঁদপুর বা চাঁদপুরকে নেতৃত্ব দেওয়া প্রশাসনিক কোনো কর্মকর্তা। অথচ এর আগে তিন বছর টানা পদক তালিকায় ছিলো চাঁদপুরের নাম।

২০১৯ সালে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার কমাতে অনলাইন সফ্টওয়্যার’ ব্যবস্থাপনার জন্যে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছিলেন চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ ইলিয়াছ, সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এমএ গফুর এবং হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা। একই বছর জেলা পর্যায়ে কারিগরি (দলগত) ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান।

২০১৮ সালে জনপ্রশাসন পদক পান চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, হাজীগঞ্জের সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার ও তৎকালীন ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া।

২০১৭ সালে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছিলেন চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল হাই, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা।

২০২০ ও ২০২১ সালেও চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের কেউ পদকের জন্যে মনোনীত হয়ে চাঁদপুরের নাম উজ্জ্বল করবেন এমনটা প্রত্যাশা করা খুব বেশি অস্বাভাবিক ছিলো না। কেননা, করোনাকালীন সারা বাংলাদেশে চাঁদপুরের প্রশাসনের ভূমিকা ছিলো চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে স্থানীয় উদ্যমী তরুণদের নিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের 'ত্রাণ যাবে বাড়ি' কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছিলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় পর্যন্তও। লোক দেখানো নয় বরং সত্যিকার অর্থেই চাঁদপুর জেলা প্রশাসনকে যারা যখনই কল করেছেন, তার বাড়িতে তখনই পৌঁছে গেছে ত্রাণ। উপকৃত হয়েছিলো করোনায় বিপর্যস্ত জেলার শত শত মানুষ।

সুরক্ষা পোশাক পরে মোটরসাইকেলের সামনে 'ত্রাণ যাবে বাড়ি' স্টিকার লাগিয়ে ত্রাণের ব্যাগ নিয়ে উদ্যমী ও সাহসী তরুণ-যুবকরা যখন বাড়ি বাড়ি ছুটছিলেন, তখন নিম্ন মধ্যবিত্ত অনেকেই সংকোচ না করে ত্রাণের জন্যে ফোন করেছিলেন নির্দিষ্ট নম্বরে। এভাবে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে 'ত্রাণ যাবে বাড়ি' কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন চাঁদপুরের সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।

করোনাকালীন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে চলে আরো একটি জনবান্ধব কর্মসূচি। ঘরের মানুষকে ঘরে রাখতে সাধারণ মানুষের নিত্য পণ্যের সকল ধরণের ঔষধ-বাজার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে কাজ করে 'বাজার বাড়ি' নামে ২১ তরুণ। কোনো প্রকার বিনিময় ছাড়াই 'ঘরের মানুষ ঘরে রবে, ঔষধ বাজার পৌঁছে যাবে' এই শ্লোগানে টানা ৬৪ দিন ধরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয় নিত্যপণ্য সামগ্রী। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২১ তরুণকে করোনাকালীন সুরক্ষা সামগ্রী দিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি। জনপ্রশাসন পদকের মনোনয়ন বোর্ডের বিবেচনার জন্যে আসতে পারতো এ কার্যক্রমটিও।

২০২১ সালের জন্যে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়েছে ২১টি পদক। যার মধ্যে একটি পদকও করোনাকালীন ফ্রন্টলাইনার বা নিজ কর্মস্থলে বিশেষ অবদানের জন্যে কাউকে নির্বাচন করে দেয়া হয়নি।

'তবে কি জনপ্রশাসন পদক মনোনয়নের জন্যে প্রশাসনের করোনাকালীন ভূমিকা বিবেচ্য ছিলো না' এ বিষয়ে জানার জন্যে চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে কথা বলা হয় জনপ্রশাসন পদক মনোনয়ন কমিটির সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানের সাথে। তিনি জানান, করোনাকালীন প্রশাসনের ফিল্ড পর্যায়ে ইনোভেটিভ কার্যক্রম ও তাতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়েছে এ বিষয়ক কোনো আবেদন মনোনয়ন বোর্ডে জমা পড়েনি। চাঁদপুর থেকে 'ত্রাণ যাবে বাড়ি' বা 'বাজার বাড়ি' সম্পর্কিত কার্যক্রমের কোনো বিবরণ, ফুটেজ ইত্যাদি জমা হয়েছে বলে মনে হয় না।

মনোনয়নের জন্য আবেদন জমা হয়েছিলো কি-না তা নিয়ে কথা বলা হয় 'ত্রাণ যাবে বাড়ি' কার্যক্রমের সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সাথে। এ প্রতিবেদককে অবাক করে দিয়ে তিনি বলেন, নাহ্। আমি আবেদন করিনি। 'ত্রাণ যাবে বাড়ি' কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে চাঁদপুরের মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা-ই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পদক। আবেদন করলে হয়তো এ কার্যক্রমটি জুরি বোর্ড গুরুত্বের সাথে দেখতো, কিন্তু মানুষের ভালোবাসায় আমি এত বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি যে, এর চেয়ে বেশি কিছু আর পেতে চাইনি।

একই সুরে কথা বলেন চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি। চাঁদপুর কণ্ঠকে তিনি জানান, করোনাকালীন সময়টি একটি যুদ্ধ। আমরা এখনো সে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। করোনার প্রথম ঢেউয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলাবাসী 'বাজার বাড়ি' কার্যক্রমের মাধ্যমে টানা ৬৪ দিন যে সেবা পেয়েছে তাতেই আমি খুশি। এর জন্যে পৃথক আবেদন করা বা তার স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি কখনো আমার মধ্যে কাজ করেনি। বিভিন্ন জেলায় যাঁরা পদক পেয়েছেন তাঁরা অবশ্যই সম্মানীয় ও যোগ্য কাজের জন্যেই পদক পেয়েছেন। আমি মনে করি মানুষের জন্যে আমার আরও বেশি কাজ করা উচিত।

গণমানুষের ভালোবাসা আর আস্থাও যে প্রশাসনের কারো জন্যে পদকের চেয়ে বড় হতে পারে সে মানসিকতা দেখালেন চাঁদপুরের প্রশাসনের এই দুই ব্যক্তি। ২০২০ ও ২০২১ সালে আসেনি, তবে জেলার ইতিবাচক কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠির উন্নয়নে কাজ করে কিংবা ইনোভেটিভ কোনো আইডিয়ায় ২০২২ সালে জনপ্রশাসন পদক তালিকায় আবারো স্থান পাবে চাঁদপুরের কোনো কার্যক্রম এমনটাই প্রত্যাশা ইলিশের বাড়ির বাসিন্দাদের।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়