চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   আজ সাবেক এমপি এমএ মতিনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী
  •   আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম
  •   আজ দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক কাজী বজলুল হকের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী
  •   অতিরিক্ত সচিব আব্দুস সবুর মন্ডলকে জনপ্রশাসনে বদলি
  •   আজ ড. এমএ সাত্তারের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ॥

কচুয়ায় সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এ পদ্ধতিতে ১২ মাস বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা পতিত জমিতে দু পাশের পাড় বেঁধে সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কচুয়া উপজেলার নিচু জমিতে এই ধরনের পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। ইতোমধ্যে কচুয়া উপজেলার ঘাগড়া, করইশ, তুলপাইসহ বেশ ক’টি গ্রামে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, সব মাটিতে বা সব আবহাওয়ায় সব ধরনের চাষ কার্যকর নয়। বছরের বেশির ভাগ সময় জলাবদ্ধতার কারণে কিংবা নিচু অনাবাদী জমিতে এবং কিছু জমিতে ধানচাষ করে আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। তাই সর্জন পদ্ধতিতে সবজি আবাদে ঝুঁকেছেন তারা।

এ পদ্ধতিতে প্রথমে জমি থেকে মাটি কেটে উঁচু করে চারদিকে পাড় বাঁধা হয়। মূল জমির মাঝে আবারো উঁচু করে পাড় বাঁধা হয়। পাড়গুলোতে সৃষ্ট নালা পুরো জমির সাথে যুক্ত থাকে। ফলে পাড়ের ওপর বরবটি, শসা, করল্লা, লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা, পটল, শিম, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা যায়। চাষ করা যায় লেবু, আম, মাল্টাসহ নানাবিধ ফল। আর নালাতে পানির পর্যাপ্ততা অনুসারে চাষ করা যায় তেলাপিয়া, রুই, কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

ঘাগড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রায় দেড় একর জমি নিয়ে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছি। এ পদ্ধতির ফলে একই জমিতে মিশ্র সবজি চাষ ও মাছ চাষাবাদ করা সম্ভব। বিভিন্ন জাতের মাল্টা ও আমসহ নানাবিধ ফলের চারা রোপণ করা হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক আয়ের কারণে কৃষকদের কাছে এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান।

করইশ গ্রামের কৃষক হাফেজ ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার নিচু জমি রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতার কারণে সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। কৃষি অফিসের পরামর্শে নিচু জমিতে সর্জন পদ্ধতির মাধ্যমে চাষাবাদ করেছি। আশা করি, এ পদ্ধতির মাধ্যমে আমি সফলতার মুখ দেখবো।

তুলপাই গ্রামের কৃষক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, আগে আমাদের ক্ষেতে তেমন কোনো ফলন হতো না। বর্তমানে সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছি। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে খরচও কম।

কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোফায়েল হোসেন জানান, বর্তমানে সর্জন পদ্ধতিতে শশা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গাসহ উচ্চফলনশীল সবজি উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী স্থাপনে কৃষকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়