চাঁদপুর, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯, ৪ রজব ১৪৪৪  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আয়োজনে সরস্বতী পুজা উদযাপন
  •   চাঁদপুর শহরে বেড়েই চলছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত
  •   চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপি প্যানেলের নিরঙ্কুশ বিজয়
  •   চাঁদপুর সেন্ট্রাল ইনার হুইল ক্লাবের গৌরবের যুগপূর্তি অনুষ্ঠান
  •   হয়রানির আরেক নাম প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২১, ০৯:৫৮

ছাত্র-শিক্ষকের মধুর সম্পর্ক

আবদুল মতিন
ছাত্র-শিক্ষকের মধুর সম্পর্ক

সময় চলে যায় স্মৃতি শুকতারার মতো জ্বলজ্বল করে। সুখের স্মৃতি আনন্দ দেয়, কষ্টের স্মৃতিগুলো নিঃশ্বাস বন্ধ করার মতো অস্থিরতা তৈরি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের ¯েœহ সান্নিধ্য পেয়েছি, জীবন ধন্য। একজন শিক্ষাগুরুর আন্তরিকতা ও সৌজন্যতা নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে চাই, খুবই সংক্ষেপে :

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের ছাত্র। কলা ভবনের প্রথম ফ্লোরে বাংলা বিভাগের অবস্থান, অপরাজেয় বাংলার ঠিক বিপরীতে। তখন আমি প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমি তৃতীয় তলা থেকে ক্লাস শেষ করে দ্বিতীয় তলায় নেমে আসছিলাম। সিঁড়ির মধ্যখানের সমতল জায়গায় এক ভদ্রলোকের পায়ের সঙ্গে আমার পা লেগেছিলো। আমি কোনো কিছু ভালো করে বোঝার আগেই ভদ্রলোক বিনীতস্বরে বলেছিলেন ‘আমাকে মাফ করবেন’। আমি মুখ তুলে চেয়ে দেখি ঘাড় পর্যন্ত লম্বা লম্বা চুল, গোঁফ, হাতে একটি লিগাল সাইজের রেজিস্ট্রার বুক। তিনি উপরের দিকে চলে গেলেন। আমি এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছি তিনি কে! তাঁকে প্রায়ই টেলিভিশনে দেখা যেতো, একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতেন। বাংলা একাডেমি, টিএসসি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু এতো কাছে থেকে এমন একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে দেখা হবে কল্পনাও করতে পারিনি। আমার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার কথা, আর তিনি আমার বুঝে ওঠার আগেই মাফ চেয়ে উপরে ওঠে গেলেন। আমি সেদিন ভীষণ লজ্জিত হয়েছিলাম। আমি আর তাঁর কাছে এ বিষয়টি বলার জন্যে যাইনি। আর তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া এতোটা সহজ নয়, তিনি খুবই ব্যস্ত মানুষ ছিলেন। আমি মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ দীর্ঘকাল পর্যন্ত পোষণ করে আসছি। পরবর্তীতে স্যারের অনেক ¯েœহ সান্নিধ্য পেয়েছি। কিন্তু কোনো দিন বিষয়টি তাঁকে বলিনি।

পরবর্তীতে স্যারের কোর্স নিয়েছিলাম। অনুবাদে বিশ্বসাহিত্য। তিনি ইংরেজি ও গ্রীক সাহিত্যের বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের কাব্য, মহাকাব্য, ড্রামা আমাদেরকে পড়াতেন। তিনি শেকসপিয়ার, হোমার, সফোক্লিস প্রভৃতি বিখ্যাত কবি, মহাকবি ও সাহিত্যিকদের কবিতা, ড্রামা, ট্রাজেডি বিষয়ে বিস্তারিত পড়াতেন। স্যার বাংলার অধ্যাপক কিন্তু পিএইচডি করেছিলেন ইংল্যান্ডে। তিনি ইংরেজিতে থিসিস লিখে দাখিল করেছিলেন।

স্যারের একটি মাত্র ক্লাস করেছি এবং আজ দ্বিতীয় ক্লাসটির অপেক্ষায় আছি। বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে একেবারে ভেতরের দিকে বসে বই পড়ছিলাম। আমি খেয়াল করিনি। স্যার সেমিনার কক্ষের ভেতরে ঢুকে আমার নাম ধরে ডাকলেন ‘এই মতিন আপনি শুনুন’। আমি তো একেবারে হতবিহ্বল, সেমিনার কক্ষের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা, লাইব্রেরিয়ান সাঈদা আপা সবাই স্যারের উপস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি স্যারের সঙ্গে করিডোরে গেলাম। স্যার বললেন ‘আজকের বারোটার ক্লাসটি আমি নেবো না, আপনি আমার পক্ষ থেকে সবাইকে বলে দেবেন কেমন।’ আমি বিস্মিত হয়েছিলাম যে, স্যার কীভাবে আমার নাম মনে রাখলেন। রোল কলের সময় একবার মাত্র তিনি আমার নাম শুনেছিলেন। পরের ক্লাসে স্যার নিজে থেকেই বলেছিলেন, ‘আপনাদের দুটো ক্লাস নিলেই সকলের নাম মুখস্থ হয়ে যাবে।’ আসলেই তাই। স্যার সকলের নাম ধরে রোল নম্বর কল করতেন না। কাউকে অনুপস্থিত পেলেই নাম ধরে ডেকে অনুপস্থিত মার্ক করতেন আর সকলকে উপস্থিত দেখাতেন। কি মেধাসম্পন্ন পদ্ধতি। স্যার ক্লাসে এসে সকল ফ্যান (বৈদ্যুতিক পাখা) বন্ধ করে দিতেন। তিনি চেয়ারে বসতেন না। ডায়াসের উপরের টেবিলে ঠেস দিয়ে পুরো সময় দাঁড়িয়ে থেকে পড়াতেন। স্যার একবার বলেছিলেন, যার মর্মার্থ এ রূপ, গ্রামের কৃষক রোদে মাঠে কাজ করে, কিছুটা সময় ফ্যান বন্ধ থাকলে অসুবিধা নেই। স্যার এতো সুন্দর করে পড়াতেন, পুরো সময় মনকে স্যার যাদুমন্ত্রের মতো ধরে রাখতে পারতেন। ক্লাসের সময় শেষ হলে মন অতৃপ্ত থেকে যেতো, ক্লাসটি আরো দীর্ঘ হলে ভালো হতো অনুভব করতাম।

স্যার আমাদেরকে আপনি সম্বোধন করতেন। তিনি তাঁর সারাজীবনেই সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আপনি সম্বোধন করতেন। তিনি মহসীন হলের প্রভোস্ট ছিলেন, সেখানেও সকলকেই আপনি সম্বোধন করতেন। স্যার অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি জীবনে দ্বিতীয় হননি। তিনি তাঁর ছাত্রজীবনের কিছু কথা শুনিয়েছিলেন। তিনি যখন বাংলা বিভাগে ভর্তি হতে এসেছিলেন তখন বিভাগের চেয়ারম্যান সাহেব নাকি বলেছিলেন এতো ভালো রেজাল্ট নিয়ে কেউ বাংলা পড়তে আসে না। তুমি তো এখানে থাকবে না। সেদিন নাকি তিনি বলেছিলেন আবু হেনারা প্রতি বছর জন্মায় না, যুগে যুগে জন্মায়, যুগ সৃষ্টি করে। আমি যাঁর কথা লিখছি তিনি ডক্টর আবু হেনা মোস্তফা কামাল। আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু। ক্লাসের ভেতরে যেমন শিখেছি ক্লাসের বাইরেও স্যারের নিকট অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।

স্যার শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হয়ে চলে গেছেন। স্যার তখনও মহসীন হলের প্রভোস্টের বাংলোতে থাকতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির উত্তর দিকে আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের নিকটেই প্রভোস্টের বাংলো।

একদিন বিকেলে লাইব্রেরির উত্তর দিকের কর্ণারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দক্ষিণ দিকে বসেছিলাম। আবু হেনা স্যার একা একা হেঁটে যাচ্ছিলেন। আমি দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে স্যারের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলাম। স্যারের সান্নিধ্যে মনে পুলকসঞ্চারিত হয়েছিলো, বোধকরি স্যারও পুরানো ছাত্রকে পেয়ে কিছুটা হলেও খুশি হয়েছিলেন। স্যারের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করেছিলাম। স্যার বিকেলে হাঁটতে বেড়িয়েছিলেন। মনের আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। স্যারকে বলেছিলাম, স্যার আপনার কাছে রবীন্দ্র কাব্য পড়ার সুযোগ হলো না। কারণ স্যার বাংলা বিভাগে থাকলে রবীন্দ্র কাব্য পড়াতেন। স্যার আমাকে বললেন, আমি আপনাকে রবীন্দ্র কাব্য পড়াবো।’ আমি বিস্মিত, মানুষের মন এতোটা উদার হয়! এতো বড় হতে পারে মানুষের মন! সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রকৃতি তুমি যতোটা না উদার এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি দরদী, পবিত্র ও উদার আমার স্যারের মন, মনের প্রসারতা বিশাল প্রকৃতির মতো।

তখন বাংলা একাডেমিতে বইমেলা চলমান ছিলো। আশির দশকের কথা, একাডেমির ভেতরেই বইমেলা সীমাবদ্ধ। স্যারের পরামর্শ মোতাবেক ঝিনুক প্রকাশনী থেকে নিউজ পেপারে মুদ্রিত রবীন্দ্রনাথের সমগ্র রচনাবলী সংগ্রহ করেছিলাম। স্যার বলেছিলেন, আপনি সব কবিতা বুঝতে পারবেন না, যতোটুকু বুঝতে পারেন পড়ে ফেলুন, বুঝতে না পারলেও খবরের কাগজের মতো পড়ে যাবেন। আমি মনোযোগ সহকারে ধারাবাহিকভাবে কাব্য গ্রন্থগুলো পড়ে স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। স্যার রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কাব্যের বিষয়ে সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশ কয়েকটি লেকচার দিয়েছিলেন। এক বক্তার একজন একনিষ্ঠ শ্রোতা। জগতে এ কি বিশ্বাস করার মতো ঘটনা। বিশ্ব জগতে এমন শিক্ষক হিসেবে আর কতোজন জন্মগ্রহণ করেছেন। আর আমি অতি নগণ্য এক ছাত্র, ততোটা মেধাবী ছাত্র ছিলাম না। তবে স্যার ¯েœহ করতেন, এটা তাঁর মনের উদারতা, প্রসারতা, আমার বিশেষ কোনো যোগ্যতা ছিলো না। স্যারের নিকট রবীন্দ্র কাব্য পড়ার ইচ্ছে স্যার পূর্ণ করেছিলেন। শিক্ষকের এ ঋণ শোধ করার শক্তি কোনো ছাত্রের আছে কি? আমি পারবো না। আমি চির ঋণী থেকে গেলাম আবু হেনা স্যারের কাছে। আমার ‘বিমূর্ত ভালোবাসা’ কাব্য গ্রন্থটি স্যারকে উৎসর্গ করেছি, বইটি ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত। নি¤œলিখিত কবিতার মাধ্যমে উৎসর্গ করেছি :

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের বাইরেও

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

সবুজ আঁচলে ঢাকা ¯েœহময় পথে

পড়ন্ত বিকেলে আপনার অনুগামী হয়ে,

আমার তৃষ্ণা মিটিয়েছি।

জ্ঞান প্রদীপের বর্তিকা জ্বেলে

আমার ঠিকানায় ফিরেছি।

আপনার কাছে যা কিছু পেয়েছি

অমূল্য এ ধন, অপরিশোধ্য এ ঋণ!

আমার এ অর্ঘ্য,

আপনার পূণ্য স্মৃতির উদ্দেশে।’

আমি স্নাতক (সম্মান) উত্তীর্ণ হয়ে এমএ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করেছিলাম। এরই মধ্যে সপ্তম বিসিএস-এর জন্যে ফরম পূরণ করে পিএসসিতে জমা দিয়েছিলেম। স্যার যখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক আমি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা পরের কথা। আমি একদিন পূর্বাহ্নে বাংলা একাডেমিতে গিয়েছিলাম। স্যারের পিএ সাহেবকে বলেছিলাম একটু দেখা করতে চাই। পিএ সাহেব বেশকিছু মিটিং-এর ব্যস্ততার কথা আমাকে জানালেন। পিএ সাহেব জিজ্ঞেস করায় বলেছিলাম, আমি স্যারের ছাত্র। অনেক সাংবাদিক, অন্যান্য অনেকেই ফেরত গেছেন মিটিং থাকাতে সাক্ষাৎ পাননি। আমি ছাত্র হিসেবে পিএ সাহেবের নিকট গুরুত্ব পাইনি। তবুও তাকে অনুরোধ করলাম আমার স্লিপটি স্যারের হাতে দিন, এরপর না হয় আমি চলে যাবো। পিএ সাহেব স্লিপটি দিয়ে তার সীটে বসতেই পিএ সেটে রিং হলো। স্যার আমার সঙ্গে কথা বললেন এবং আমাকে একটু অপেক্ষা করতে বললেন। একটু অবসর হয়েই আমাকে তাঁর চেম্বারে ডেকে পাঠালেন। আমাকে পেয়ে কি যে খুশি হয়েছিলেন!

শিশুর মতো পবিত্র স্যারের মন! স্যার নতুন একটি ব্রিফ কেস কিনেছেন সেটা দেখালেন। এখন গাড়িতে করে অফিসে আসেন জানালেন। আর চিরচেনা সেই অট্টহাসি। বাসা আর বাংলা একাডেমি খুবই কাছাকাছি, মাঝে মধ্যে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, সাইরেন্সারে বিকট শব্দ করে সেটা বললেন রসালো করে। স্যারের ব্যস্ততার জন্য আমি বসতেই চাইনি। তিনি কফি, বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন। ব্যস্ততার মধ্যে ছাত্রের সঙ্গে প্রাণ ভরে কথা বলতে না পারার অতৃপ্তি সেদিন স্যারের মধ্যে আমি অনুভব করেছিলাম।

এক পর্যায়ে আমার কথা পেশ করেছিলাম। আমি বিসিএস-এর লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছি শুনে খুবই খুশি হয়েছিলেন। ফরম পূরণ করার সময় স্যার আপনার নাম দিয়েছিলাম, এ কথা বলতেই স্যার এক অট্টহাসি দিয়ে আবার বললেন ‘তারা যদি জানতে চায়, আমি বলে দেব আমার মতিনের চরিত্র ভালো।’ আজও আমার চোখে জল আসে। আমি ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। কি দুর্ভাগ্য আমার!

আমি ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে চাকরিতে যোগদান করেছিলাম। স্যার মৃত্যুবরণ করেছিলেন ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ সালে। তাঁর জন্ম ১৩ মার্চ ১৯৩৬ সালে। তিনি বৃহত্তর পাবনার কৃতী সন্তান। আমি সুনামগঞ্জ জেলাতে কর্মরত অবস্থায় স্যারের মৃত্যু সংবাদ শুনেছিলাম। খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম।

জীবনের পরম সৌভাগ্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্যারদের মতো মহান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম। স্যারের নিকট শিখেছিলাম বিশ্বের বিখ্যাত ইংরেজ ও গ্রীক কবিদের সাহিত্য সম্পর্কে। রবীন্দ্রনাথের কাব্যের সঙ্গে স্যার আমাকে পরিচয় করে দিয়ে, আমার অন্তরে একটি ক্ষুধা সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। নতুন করে পথ চলতে শিখিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে স্যার রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, এর পূর্বে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি বাংলা একাডেমির ও শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক ছিলেন আমি উল্লেখ করেছি।

তিনি কবি, গীতিকার ও প্রবন্ধকার ছিলেন। ক্লাসে যেমন অসাধারণ পড়াতেন, কোথাও কোনো বক্তব্য দিলেও অনেক অজানা বিষয় তাঁর বক্তব্যে জানা যেতো। আমি একবার স্যারকে বলেছিলাম আপনি বক্তৃতায় যে সব নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপন করেন সেগুলো লিখে রাখলে সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ হতো। স্যার অতি সহজে উত্তর দিয়েছিলেন লিখতে চেষ্টা করেন কিন্তু ধৈর্যের সঙ্গে বেশি সময় লিখতে পারেন না। তাঁর রেখে যাওয়া কবিতা, গান, প্রবন্ধ বাংলা সাহিত্যের অপূর্ব সৃষ্টি ও সম্পদ।

আজ স্যারকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখেছি। আগামীতে আরও পরিবর্তন পরিমার্জন করার ইচ্ছে আছে। এখানে কোনো ত্রুটি থাকতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়