চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪  |   ২১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১ হাজার ৬'শ ছাড়িয়েছে, জরুরী অবস্থা জারি
  •   জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  •   ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজের নিবন্ধন শুরু
  •   জুয়ার নিরাপদ আস্তানায় হানা নেই কেন?
  •   নিখোঁজের ৪ দিন পর ফরিদগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার ॥ আটক ২

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০

চাঁদপুর সরকারি কলেজ : ৭০ দশকের একঝাঁক আদর্শ শিক্ষক স্মরণে
অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুর কলেজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। ৭০ দশকের শুরুতে (১৯৭২-৭৩) আমরা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। কলেজ জীবন ছিলো মাত্র দেড় বছর। এ সময়টাতে কলেজে প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। ক্লাসরুমের সংকুলান না হওয়ায় কলেজ মাঠেও ক্লাস নেয়া হয়েছে। দেড় বছরের মাথায় আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র হওয়ায় ইংরেজি শিক্ষার ওপর মনোযোগী দিলাম। অর্থনীতির অধ্যাপক মশিউর রহমান (বাবা মশিউর নামে খ্যাত) ও আঃ রশিদ স্যার (বতর্মানে অসুস্থ), ব্যবস্থাপনা বিষয়ের রচপো (রমেশ চন্দ্র পোদ্দার স্যার), এজেডএম শামসুদ্দিন স্যার, হিসাববিজ্ঞানের মনোরঞ্জন দাস স্যার ও সৈয়দ মোঃ ওবায়েদউল্লাহ স্যার, ব্যাংকিংয়ের আঃ বারী মজুমদার স্যার, বাংলার পণ্ডিত সত্যেন ভৌমিক স্যার, সৈয়দ আঃ সাত্তার স্যার, জয়সেন বড়ুয়া ও খলিলুর রহমান (১) ও খলিলুর রহমান (২) স্যার, ইংরেজির এবিএম ওয়ালিউল্লাহ স্যার, হেলাল উদ্দীন স্যার ও আঃ বাসেত মিয়া স্যার এবং ভাইস প্রিন্সিপাল ও ইংরেজিতে পণ্ডিত হিসেবে জেলায় ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে যাঁর খ্যাতি ছিলো শৈলেন্দ্রনাথ রায় (এসএন রায়) স্যার প্রমুখ।

সবাইকে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, ত্যাগী ও স্ব স্ব বিষয়ে পণ্ডিত মনে হয় আজো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষকদের মতোই জ্ঞানী ছিলেন। বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদেরকেও আমরা সবর্দা বিন¤্র শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলতাম। এঁরা ছিলেন পদার্থবিদ্যার ইউনুস ও হাসান হায়দার স্যার, রসায়নের আঃ মান্নান স্যার, উদ্ভিদবিজ্ঞানের আলী আকবর স্যার, জীববিজ্ঞানের এএফএম বদিউর রহমান চৌধুরী স্যার, ইসলামের ইতিহাসের মোতাহার হোসেন স্যার, ভূগোলের অধ্যাপক জালাল ইউ আহমেদ স্যার, ইতিহাসের মতিউর রহমান স্যার (পরে অধ্যক্ষ), ক্রীড়ার শিক্ষক কামরুজ্জামান স্যার, দর্শনের খতিব হাবিবুর রহমান স্যার, গণিতের হাস্যোজ্জ্বল রঞ্জিত নাহা স্যার। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সদা হাস্যোজ্জ্বল নুরুজ্জামান স্যার ও অধ্যাপক মোঃ হোসেন খান স্যার, সমাজকল্যাণের হুমায়ুন আযাদ স্যার, সমাজবিজ্ঞানের একজন স্যার ছিলেন নাম দিলীপ পণ্ডিত। কলেজের সমৃদ্ধ লাইব্রেরীর লাইব্রেরীয়ান ছিলেন আঃ মান্নান স্যার। তিনিও ছিলেন একজন পড়াশোনা জানা ও জ্ঞানী মানুষ। তাঁকে সহযোগিতা করতেন সকলের প্রিয় ও বহু কাজে পারদর্শী মিজানুর রহমান রতন ভাই। আমাদের সময় অধ্যক্ষ ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ দবির উদ্দীন আহমদ। কলেজে তিনি সবসময় শেরওয়ানী পরে আসতেন। ঠিক যেমনটি করতেন চৌমুহনী কলেজের অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেইন। চলাফেরায় গুরুগম্ভীর ছিলেন।

ঢাবির ছাত্রকালীন সময়ে তাঁকে প্রায়শ ঢাবির টিএসসিতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য দিতে দেখেছি। এঁদের মধ্যে অধ্যাপক হেলাল স্যার, ওয়ালীউল্লাহ স্যার ও বাসেত স্যারকে বেশি বেশি মনে পড়ে। তাঁদের স্নেহ ও হাসিমুখের ব্যবহার কখনো ভুলবার নয়। শিক্ষকের স্নেহ যে কতো ইন্সপায়ার/উৎসাহ দেয় ছাত্রদের, তার প্রমাণ আমি ও আমরা ক’জন বন্ধু।

গত ২৭ ডিসেম্বর ছিলো ওয়ালী উল্লাহ স্যারের মৃত্যু দিবস। স্যারের কথা ও উপদেশ মনে পড়ছিলো সারাদিনই। মৃত্যুর দিন সকালে দুঃসংবাদ পেলাম। পরে কলেজ মাঠে জানাজায় অংশ নিলাম। তাঁকে চিতোষী গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। স্যারের স্মৃতি, ক্লাসে মূল্যবান পাঠদান ও বিভিন্ন সময়ের কথা আজও অমলিন আমার মনের অ্যালবামে। তিনি ছিলেন আমাদের ফ্যামিলি টিচার। ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক। ১৯৮২ সালের জুলাই থেকে ৬ মাস এবং স্যারের অবসরের পরেও বেশ ক’বছর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজে স্যারের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আমার বেশ ক’মাস (৬ মাস) কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কিছু জানতে চাইলে কখনোই বিরক্ত হতেন না। এসএন রায় স্যার, হেলাল স্যার, বাসেত স্যার-সবার কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি, যা আমার পথের পাথেয় হয়েছে। এঁদের দেখানো শিক্ষা-দীক্ষা ছিলো নির্ভুল। এ ধরনের নিষ্ঠাবান ও ডেডিক্যাটেড টিচার আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সমাজে বিরল। এসএন রায় স্যার কুমিল্লা বোর্ডের ইংরেজি প্রশ্ন করতেন। কিন্তু কোনদিনও কেউ টের পায়নি। যখন কোনো জটিল ইংরেজির সমস্যা হতো তখন সব ইংরেজির স্যার এসএন রায় স্যারের কাছে গেলে সহজ সমাধান পেতেন। কুমিল্লা বোর্ডের ইংরেজি প্রশ্নে যখন তর্কবিতর্ক হতো, তখনও বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসএন রায় স্যারের সহযোগিতা নিতেন। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ (ইংরেজি)।

হেলাল স্যার পত্র-পত্রিকায় লিখতেন। তাঁর লেখা ভারতের দেশ পত্রিকায়ও প্রকাশিত হতো। ইংরেজি পেপার পড়ার জন্যেও পত্রিকায় লিখালিখি করার জন্য উপদেশ দিতেন। সেটা আমায় করেছে উদ্বুদ্ধ, যা আজো করছি।

প্রসঙ্গত, ওয়ালী উল্লাহ স্যার মধ্যবয়সে বিসিএস পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটও হয়েছেন। কিন্তু তিনি সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে (অ্যাডজাস্ট করতে) পারেননি। ফিরে এলেন কলেজে, ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। আইএম রিয়েলী প্রাউড অব দেম। মে আল্লাহ গ্রান্ট ওয়ালী উল্লাহ স্যার এন্ড হেলাল স্যার জান্নাতুল ফেরদাউস। স্বর্গীয় হোন পরম শ্রদ্ধেয় এসএন রায় স্যার। আমিন।

লেখক : অধ্যাপক দেলোয়ার আহমেদ, প্রাক্তন ছাত্র, চাঁ.স.ক., চাঁদপুর ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর সদর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়