সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের পৃথক দুটি তদন্ত চলছে : পরিস্থিতি স্বাভাবিক : ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

চাঁদপুর তো এমন ছিলো না

চাঁদপুর তো এমন ছিলো না
অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রতিক ক’মাসে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হঠাৎ করেই খুন খারাবি বেড়ে গেছে। অথচ চাঁদপুর কিন্তু এমন ছিলো না। চাঁদপুর আসলে কেমন ছিলো সেটি চাঁদপুরের সাবেক পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেছেন বার বার। তিনি বড় জেলা পাবনার পুলিশ সুপার থাকাকালে রাতে ঘুমাতে পারতেন না। কেননা সেখানে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও খুনের ঘটনা ঘটতো। এছাড়া ডাকাতি-ছিনতাইসহ অন্যান্য ছোট-বড় ঘটনা তো ঘটতোই। এমন অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণের অনিবার্যতায় মনিটরিংয়ের প্রয়োজনে, অভিযানসহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনে পুরো রাত জাগতে হতো পুলিশ সুপারকে। এজন্যে দেশের অন্যতম সেরা পুলিশ সুপারের তকমা লেগেছিলো তাঁর গায়। ফলস্বরূপ সদ্য সাবেক আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী নিজ জেলা চাঁদপুরে জিহাদুল কবিরকে বদলি করে আনেন। চাঁদপুরে যোগদানের পর তিনি লক্ষ্য করলেন, চাঁদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পাবনার তুলনায় আশাব্যঞ্জক ভালো। তেমন খুন খারাবি নেই, ডাকাতি-ছিনতাইয়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনা নেই। তাঁকে তাঁর সহকর্মীরা রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে বললেন। এভাবে রাতের পর রাত নির্বিঘ্ন ঘুম উদ্যাপন করে তিনি সাংবাদিক ও সুধীবৃন্দের বিভিন্ন সমাবেশে বার বার বলেছেন চাঁদপুরের সন্তোষজনক ও অভাবনীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর তৃপ্তির কথা, নির্ভাবনার কথা।

আজ সেই চাঁদপুরে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ঘটেছে দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার পর কোনো এক সময় খোদ চাঁদপুর শহরের জমজমাট ব্যবসাকেন্দ্র বিপণীবাগ বাজারের একটি সেলুনে নারায়ণ ঘোষ নামে এক দধি ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা করে, তার লাশ পাবলিক টয়লেটের কাছে বস্তাবন্দী করে ফেলে রাখা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সেই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অনেক অনেক দিন পর এমন খুনের ঘটনায় পুরো চাঁদপুর শহর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এটি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়।

এমন একটি ঘটনার পর ২৪ ঘন্টা সময় পেরুতে না পেরুতেই জানা গেলো শাহরাস্তি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটেছে নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড। ১৬ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ৮টায় শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের আহাম্মদ নগর এলাকার পোদ্দার বাড়িতে নওরোজ আফরিন প্রিয়াকে তার ১৮ মাস বয়সী শিশু কন্যা আবরিনের সামনে অজ্ঞাত খুনিরা কুপিয়ে হত্যা করে। তখন প্রিয়ার মা ও ভাই কেউই বাসায় ছিলেন না।

২৪ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত নারায়ণ ও প্রিয়া হত্যাকাণ্ডের পূর্বে চাঁদপুর জেলার আলোচিত হত্যাকাণ্ড ছিলো আগস্টের প্রথম দিকে যুবক হাবিব মৃধার খুন। তিনি ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়েছেন বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ৮ আগস্ট হাবিব মৃধার অর্ধগলিত লাশ ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে চর দুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের গুপ্তের বিল থেকে। এর দু সপ্তাহ পূর্বে ২৫ জুলাই কড়ৈতলী এলাকার খালের মধ্যে পাওয়া যায় জনৈক অনাথ দাসের লাশ। তিনি ১৯ জুলাই নিখোঁজ হন। তিনি জমি সংক্রান্ত বিরোধে খুন হন বলে পুলিশ কর্তৃক ধৃত খুনিদের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে।

আমরা চাঁদপুরকে শান্তিপূর্ণ চাঁদপুরই চাই। পুলিশ অনাথ ও হাবিব হত্যা রহস্যের মতো নারায়ণ ও প্রিয়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনেও সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি। পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ, বিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় সর্বশেষ সংঘটিত দুটি খুনের সাথে সংশ্লিষ্ট খুনিরা খুব শীঘ্রই ধরা পড়বে বলে আমাদের আস্থা আছে। আমরা চাই, চাঁদপুর অতীতে যেমনটি ছিলো, তেমনই থাকুক। সকল কিছুর ঊর্ধ্বে আমরা শান্তিপূর্ণ চাঁদপুর চাই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়