চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪  |   ২১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১ হাজার ৬'শ ছাড়িয়েছে, জরুরী অবস্থা জারি
  •   জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  •   ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজের নিবন্ধন শুরু
  •   জুয়ার নিরাপদ আস্তানায় হানা নেই কেন?
  •   নিখোঁজের ৪ দিন পর ফরিদগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার ॥ আটক ২

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০

এ দাবি যৌক্তিক, মেনে নেয়া হোক
অনলাইন ডেস্ক

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কি শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি যুদ্ধ ছিলো? মোটেও নয়, এটি ছিলো মুক্তিকামী সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণে কার্যত একটি জনযুদ্ধ। এ যুদ্ধে সশস্ত্র বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে যতোটা হতাহত হয়েছেন, তারচে’ বহু বহু গুণ সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে ছেলের অংশগ্রহণের দায়ে মা/বাবা পাক বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিংবা হত্যার শিকার হয়েছেন। বেশিদূর যাওয়ার দরকার নেই, আমাদের চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলাধীন কল্যাণপুর ইউনিয়নের সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইব্রাহিম বিএ.বিটিকে হত্যা করা হয়েছে তাঁর ছেলেরা ও আত্মীয়-স্বজন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার কারণে। তাঁর স্মরণে চাঁদপুর শহরের ষোলঘর থেকে সফরমালী অভিমুখী সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে ইব্রাহিম বিএ.বিটি সড়ক। সংক্ষেপে যে সড়কটি বিটি সড়ক নামে বহুল পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ইব্রাহিম বিএ.বিটি অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হিসেবে স্বীকৃত, যেটি তাঁর সন্তান ও এলাকাবাসীর জন্যে অনেক বড় গৌরবের।

চাঁদপুর কণ্ঠে গত ২১ জানুয়ারি শনিবার ‘গণহত্যায় শাহাদাতবরণকারী মজম আলী ভূঁইয়ার শহীদ স্বীকৃতি চায় পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রতিবেদক গোলাম মোস্তফা লিখেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জুলাই মাসের ২০ তারিখে চাঁদপুর সদর উপজেলার বর্তমান আশিকাটি ইউনিয়নের মধ্য রালদিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে ঢুকে পাকবাহিনীর সদস্যরা ওই বাড়ির বাসিন্দা মজম আলী ভূঁইয়াকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করে। স্বাধীনতার পর সরকার মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ব্যক্তিবর্গ ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫২-৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সকলের পরিচিত শহীদ মজম আলী ভূঁইয়ার নামটি গেজেটে আজও আসেনি। এ নিয়ে শহীদ মজম আলী ভূঁইয়ার পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অনতিবিলম্বে শহীদ মজম আলী ভূঁইয়াকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে গত ২০ জানুয়ারি উক্ত বাড়ির মসজিদে বাদ জুমা মিলাদ ও দোয়া শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুম উমেদ আলী ভূঁইয়া স্মৃতি সংসদের আয়োজনে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর সদর উপজেলা সমবায় সমিতি লিঃ-এর চেয়ারম্যান শহীদ উল্লা খান (ছোট শহীদ স্যার), আশিকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ রাজ্জাক ভূঁইয়া সহ আরো অনেকে।

সভায় বক্তারা স্বাধীনতার এতোগুলো বছর পরও মজম আলী ভূঁইয়াকে সত্যিকারের শহীদের স্বীকৃতি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অনতিবিলম্বে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, রালদিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দারা পূর্ব থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এই বংশের লোকজন পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। এরপরও শহীদ মজম আলী ভূঁইয়ার স্বীকৃতি না পাওয়ায় পুরো এলাকা জুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রালদিয়ার মজম আলী ভূঁইয়া নিঃসন্দেহে সফরমালীর ইব্রাহিম বিএ.বিটির মতো বিখ্যাত ও বহুল পরিচিত কোনো মানুষ নন। তবে তিনি বিটি সাহেবের মতো প্রায় একই কারণে অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বাড়ির লোকজন অংশ নেয়ায় ও আওয়ামী লীগ করার কারণে পাকবাহিনী কর্তৃক হত্যার শিকার হয়েছেন তথা শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ জ্বলজ্যান্ত এই সত্যের স্বীকৃতি মুক্তিযুদ্ধের ৫২ বছর পরও সরকার দেয়নি কী কারণে সেটা বোধগম্য নয়। এক্ষেত্রে কারো না কারো ব্যর্থতা রয়েছে। সেটি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করে শুধু বলতে চাই, মজম আলী ভূঁইয়ার শহীদ স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। এজন্যে সরেজমিন তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাগ্রহণ শুধু বাঞ্ছনীয় নয়, অনেক বেশি যৌক্তিক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়