চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪  |   ১৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১ হাজার ৬'শ ছাড়িয়েছে, জরুরী অবস্থা জারি
  •   জুনের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ
  •   ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হজের নিবন্ধন শুরু
  •   জুয়ার নিরাপদ আস্তানায় হানা নেই কেন?
  •   নিখোঁজের ৪ দিন পর ফরিদগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার ॥ আটক ২

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০

মসৃণ ও আঁকাবাঁকা সড়ক এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল
অনলাইন ডেস্ক

গেলো নভেম্বরের শেষ দিকে পর পর দুদিন মতলব উত্তরে পৃথক দুটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরতাজা ছয় যুবকের মৃত্যুতে পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক শোকের সঞ্চার হয়েছে। স্মরণকালে চাঁদপুর জেলায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এতোটা প্রাণহানি আর ঘটেনি বলে বিষয়টি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাসহ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

২৫ নভেম্বর মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের ভাটি রসুলপুর সংলগ্ন মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়িবাঁধের ওপর এনায়েত নগরস্থ মাহমুদুল হাসানের বাড়ির গেইটের পূর্ব দিকে মোটরসাইকেলের সাথে অটোবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সাহেববাজার থেকে নিজ বাড়ি অভিমুখী দু মোটর সাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরা হচ্ছেন মহসিন বেপারীর ছেলে সালাউদ্দিন (১৯) ও রুস্তম আলীর ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (২০)। পরদিন ২৬ নভেম্বর একই বেড়িবাঁধের ওপর বাগান বাড়ি ইউনিয়নের হাফানিয়া নামক স্থানে মোটরসাইকেলের সাথে ট্রলি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলির হেলপার চান্দ্রাকান্দি গ্রামের আবিদ আলীর ছেলে মোঃ সেলিম মোটরসাইকেলের আরোহী খাগুরিয়া গ্রামের আঃ রশিদ মিয়াজীর ছেলে শান্ত (২৫) ও একই গ্রামের সরজান বকাউলের ছেলে মোঃ রাশেদ (২২) ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায়। আর তানভীর গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করা হয়, যে কিনা গত ২ ডিসেম্বর সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সাধারণ দৃষ্টিতে এ দুটি দুর্ঘটনা অটোবাইক ও ট্রলির সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সংঘটিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ধারণা, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়িবাঁধের ওপর বিদ্যমান সড়ক সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেশি মসৃণ হওয়ায় যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলছে এবং সে কারণে দুর্ঘটনা দুটি ঘটতে পারে। আমরা হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কে লক্ষ্য করছি যে, এ সড়কটি হাজীগঞ্জ ও কচুয়ার মধ্যে সংক্ষিপ্ত যোগাযোগ রক্ষা করায়, মসৃণ ও আঁকাবাঁকা হওয়ায় প্রায়শই বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে এবং এর আরোহীরা একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছে। মসৃণ সড়কে মোটরসাইকেল তো বটেই, অন্য সকল যানবাহনই সর্বোচ্চ ও বেপরোয়া গতিতে চলে এবং সে সড়কটি যদি আঁকাবাঁকা হয়, তাহলে তো দুর্ঘটনা কবলিত হয়ই।

সারাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলছে এবং চাঁদপুরে এমন দুর্ঘটনা অন্য সকল সড়ক দুর্ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে। চাঁদপুর জেলার সবচে’ বড় পর্যটন আকর্ষণ বড় স্টেশন মোলহেড এবং মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রে মোটরসাইকেল যোগে বেপরোয়া গতিতে যাতায়াত করতে গিয়েও সাম্প্রতিক দু বছরে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কথা হলো, এই উদ্বেগ নিরসনের উপায় আসলে কী?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়