সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২  |   ২০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   লঞ্চ ধর্মঘটে বিপাকে যাত্রী সাধারণ
  •   মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা-২০২২ কমিটিতে সংশোধনী আকারে অন্তর্ভুক্ত হলেন যারা
  •   কচুয়ায় গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলা বিএনপির কুমিল্লায় সমাবেশে যোগদান
  •   মতলব উত্তরে আবারও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

মেয়রের পরিকল্পনা এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা
অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুর শহর সম্পর্কে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরের বাসিন্দাদের ধারণা এমন, এটি হচ্ছে প্রধানত এক রাস্তার শহর এবং অপ্রশস্ত তথা সরু ও ফুটপাতবিহীন কিছু রাস্তার সমন্বয়ে অসুন্দর একটি জনপদ। এমন ধারণায় চাঁদপুর পৌরসভার অতীত চেয়ারম্যানগণ ও মেয়র কষ্টের আগুনে পুড়েছেন এবং সে কষ্ট নিরসনে নিজস্ব পরিকল্পনায় কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছেন। সাবেক চেয়ারম্যানগণের অধিকাংশজনই রাস্তাগুলো মসৃণ করা, পুরানো ব্রীজগুলো ভেঙ্গে নূতন ও প্রশস্ত ব্রীজ নির্মাণ, নূতন রাস্তা বানানো এবং ভাস্কর্য নির্মাণে মনোযোগী ছিলেন।

এই পৌরসভার প্রথম মেয়র নাছির উদ্দিন তাঁর দায়িত্বপালনকালে লক্ষ করলেন যে, চাঁদপুর শহরের অপ্রশস্ত প্রধান সড়কের জন্যে ক্রমবর্ধমান যানবাহন ও লোকজনের চাপে যানজট লেগেই থাকে। সেজন্যে তিনি চাঁদপুর শহরের চৌধুরী মসজিদ থেকে কালীবাড়ি মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত মিজান চৌধুরী সড়ক(সাবেক কুমিল্লা রোড), চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন থেকে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত আঃ করিম পাটোয়ারী সড়ক, পাঁচ রাস্তার মোড় ‘শপথ চত্বর’ থেকে সোজা পূর্বদিকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক ও মিশন রোড, মিশন রোড থেকে বাসস্ট্যান্ডের নিকটস্থ ইলিশ চত্বর পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিউল্লাহ সড়ক (সাবেক স্টেডিয়াম রোড) এবং পৌর পার্ক থেকে মুখার্জি ঘাট পর্যন্ত কবি নজরুল সড়ক (সাবেক স্ট্র্যান্ড রোড) প্রশস্তকরণ ও ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাঁর উদ্যোগে শতভাগ সাফল্য আসার আগে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তিনি কিছু প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। যেমন-মিজান চৌধুরী সড়কের দু পাশ প্রশস্ত করে ফুটপাত নির্মাণ করতে গিয়ে কালীবাড়ি মন্দির কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার সম্মুখীন হন। তিনি মন্দির কর্তৃপক্ষকে দক্ষিণ পাশের সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে উত্তর দিকে চাপানো এবং সে দেয়াল পুনঃনির্মাণের ব্যয়ভার পৌর কর্তৃপক্ষ বহন করার প্রস্তাব/অনুরোধ জানালেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার আশঙ্কায় মন্দির কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। তিনি হাইমচরে স্কাউটের কমডেকা উদ্বোধন ও চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জনসভা উপলক্ষে চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কালীবাড়ি মোড় ও পরে রেলওয়ের হুমকি সত্ত্বেও কোর্ট স্টেশন লেভেল ক্রসিং প্রশস্ত করতে পারলেও যানজটের প্রধান স্পট পাঁচ রাস্তার মোড় শপথ চত্বরকে প্রশস্ত করতে পারেননি সেই ধর্মীয় অনুভূতির কারণেই।

শপথ চত্বরের পশ্চিম পাশে রেলওয়ে বায়তুল আমিন জামে মসজিদের পূর্ব দিকের সীমানা দেয়াল কয়েক ফুট চাপানোর ও সে দেয়াল পৌরসভার খরচে পুনঃনির্মাণে পৌর মেয়র আশ্বাস দিয়ে অনুরোধ জানালেও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সে অনুরোধ মুসুল্লিদের ধর্মীয় আবেগের কথা বলে রক্ষা করেননি। আর আঃ করিম পাটোয়ারী সড়কে চাঁদপুর সরকারি কলেজের উত্তর পাশের সীমানা দেয়াল থাকার কারণে সড়কের ওই অংশে ফুটপাত নির্মাণ করতে পারেননি।

চাঁদপুর পৌরসভার দ্বিতীয় মেয়র অর্থাৎ বর্তমান ক্ষমতাসীন মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নান্দনিক শহর গড়ার স্বার্থে যেমন আন্তরিক হয়েছেন, তেমনি হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতায় উদ্দীপ্ত রয়েছেন। তিনি শহরের বিভিন্ন মোড় ও সড়ক প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিরাপস ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি প্রথমে চিত্রলেখা মোড় প্রশস্তকরণের কাজে হাত দিয়ে সফল হন। তিনি বিদ্যমান দোকানের মধ্য থেকেই পৌরসভার অনেক জায়গা বের করেন এবং আঃ করিম পাটোয়ারী সড়ক ও হাজী মহসিন রোডের সংযোগস্থল চিত্রলেখার মোড়কে আশাব্যঞ্জক প্রশস্ত করে ফুটপাত নির্মাণে সক্ষম হন। কিন্তু পূর্বদিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজ এলাকার সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে থমকে দাঁড়ান। পৌনে একশ’ বছর বয়সী তাঁর প্রিয় বিদ্যাপীঠ উক্ত কলেজের উত্তর পাশের সীমানা দেয়াল তিনি ভাঙ্গবেন! একটু সময় নিয়ে অবশেষে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতায় তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষকে মোটিভেট বা ম্যানেজ করতে সক্ষম হন। উদার মানসিকতাসম্পন্ন ও বাস্তববাদী অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ মেয়রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষ গত ২১ নভেম্বর থেকে কলেজের সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে ও গাছ কেটে সড়কটি প্রশস্তকরণের আলোড়ন সৃষ্টিকারী কার্যক্রম শুরু করে।

চাঁদপুর শহরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার আশঙ্কায় দুটি স্থানে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ বাধাগ্রস্ত হবার ন্যায় চাঁদপুর সরকারি কলেজের পুরানো সীমানা দেয়াল ভাঙ্গার প্রাক্কালে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর অনুভূতিতে আঘাত লাগার আশঙ্কাটি জাগতে পারতো, যদি কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে একটু খেপিয়ে দিতো। কিন্তু না, কলেজ কর্তৃপক্ষ সেটি করেনি, বরং সুদূরপ্রসারী চিন্তা-চেতনায় পূর্ব দিকের গেটের সম্মুখস্থল প্রশস্তকরণের সুফল প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে কলেজের সম্মুখস্থ সড়ক প্রশস্তকরণে পৌরসভার আধুনিকমনস্ক মেয়রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিস্ময়কর স্বতঃস্ফূর্ততায় এগিয়ে এসেছে। এজন্যে মেয়রের আগে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বর্তমান অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে শুধু ধন্যবাদ নয়, কৃতজ্ঞতাও জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়