চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯, ৮ রজব ১৪৪৪  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   আগামী নির্বাচনে অনেক চমক অপেক্ষা করছে
  •   ১৭ দিন পর করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০
  •   জাপানি দুই শিশু মায়ের জিম্মায় থাকবে
  •   হাজীগঞ্জের আমির হোসেনের প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে বহু প্রবাসী যুবক নিঃস্ব
  •   কোস্টগার্ডের অভিযানে ৪৪০ কেজি জাটকা মাছ জব্দ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০

এমন মানববন্ধন হবে কেন?

এমন মানববন্ধন হবে কেন?
অনলাইন ডেস্ক

এ সম্পাদকীয় নিবন্ধের শিরোনাম দেখেই অনেকে আপত্তি তুলতে পারেন। কারণ, মানববন্ধন একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, এটি করার অধিকার মানুষ মাত্রেরই আছে। কিন্তু মতলব উত্তরে গত শুক্রবার রাস্তা ও ব্রীজের দাবিতে মানববন্ধনকে বেমানান মনে হয়েছে। কেননা অতীতে এ উপজেলায় রাস্তা ও ব্রীজ করার জায়গা খুঁজে না পেয়ে কোনো বাড়ির সামনে/পেছনে/মাঠে ঠিকাদার অপ্রয়োজনীয় রাস্তা-ব্রীজ নির্মাণ করে বিল তুলে নেয়ার কথা শোনা গেছে। এগুলোর কাজ কী মানের হয়েছে, সেটা এমন কথা শুনেই আন্দাজ করা গেছে।

শুধু মতলব উত্তরে নয়, নিকট অতীতে সরকারের কোনো এক সচিবের কর্মকালে তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাস্তা ও ব্রীজ নির্মাণের নামে চাঁদপুর জেলার কচুয়া, চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে অ্যাপ্রোচ সড়কবিহীন কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্রীজ হয়েছে, নূতন রাস্তার নামে, বিদ্যমান রাস্তার উন্নয়নের নামে কাল্পনিক কাজ হয়েছে এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের ভেতরে পর্যন্ত সড়কবিহীন অপ্রয়োজনীয় ব্রীজ হয়েছে-যেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসূত্রেই জানা যায়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ঠিকাদারসহ ঊর্ধ্বতন অনেকেই যে লাভবান হয়েছেন-সেটা পর্যবেক্ষকরা চোখ বুঁজেই বলে থাকেন, যদিও তার সত্যাসত্য নির্ণয়ের জন্যে হয়নি কোনো তদন্ত কমিটি এবং প্রকাশিত হয়নি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন।

মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব বালুচর গ্রামে একটি রাস্তা ও ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় বেড়িবাঁধের ওপর শত শত নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীদের যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটির যে সংবাদ গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ছবি দেখেই ধারণা করা যায়, এলাকাবাসী কতোটা ভোগান্তির শিকার। সংবাদে লিখা হয়েছে, উক্ত গ্রামে কেউ মারা গেলে লাশের কফিন নিয়ে বের হতে গেলেই ভোগান্তির পরিমাণ কতোটুকু সেটা অনুধাবন করতে কষ্ট হয় না।

জানা যায়, পূর্ব বালুচর গ্রামটি শত বছরের পুরানো। অথচ এই গ্রামে নেই কোনো রাস্তা। গ্রামের মধ্যখানে সেচ ক্যানেলে একটি ভাঙ্গা কাঠের সাঁকো দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। এ গ্রামের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণ এবং সেচ ক্যানেলের ভাঙ্গা সাঁকোর স্থলে একটি ব্রীজ নির্মাণ করলেই গ্রামবাসী সকলে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবে।

আমরা ফরাজীকান্দির পূর্ব বালুচর গ্রামবাসীর দাবিকৃত রাস্তা ও ব্রীজ নির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যানকে আন্তরিক সাড়া প্রদানের জন্যে জোর অনুরোধ জানাচ্ছি। সাথে সাথে মতলব উত্তরের কৃতী সন্তান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন রুহুল এমপিকে সুদৃষ্টি প্রদান এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে গ্রামবাসীর পক্ষে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়