চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯, ২৯ জিলকদ ১৪৪৩  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই
  •   বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
  •   ডাকাত সন্দেহে কোস্টগার্ডের হামলায় নিখোঁজ ১ : আহত ২
  •   হাজীগঞ্জে নবজাতকের লাশ উদ্ধার
  •   অধ্যাপক    কামরুজ্জামান সাহেবের স্মরণ সভা  ও মিলাদ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২২, ০০:০০

পিরানহা থেকে ফেরাতে হবে চোখ
অনলাইন ডেস্ক

সাগরের মাছ রূপচাঁদায় দৃশ্যমান দাঁত নেই ও কানকুয়া নেই। রূপচাঁদার মতো দেখতে পিরানহা মাছে ত্রিশূলের মতো দৃশ্যমান দাঁত ও কানকুয়া আছে। এতোটুকু জানলেই ক্রেতা বা মৎস্য-ভোক্তারা প্রতারিত হতে পারেন না। রূপচাঁদা বেশি দামী ও লোভনীয় মাছ, আর পিরানহা কম দামী মাছ। দামের পার্থক্য বিবেচনা করলেও ক্রেতারা প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে পারেন। রূপচাঁদা অভিজাত শ্রেণীর মাছ, এটি ফেরি করে বিক্রি করার মতো মাছ নয়। অথচ পিরানহাকে থাই রূপচাঁদা বা রূপচাঁদা বলে ফেরি করে কিংবা বাজারে বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্য বিক্রেতা, যাদের নিকট থেকে কিছু উদাসীন ক্রেতা রূপচাঁদা বলেই কিনছে সে মাছ।

গতকাল সোমবার চাঁদপুর কণ্ঠে এমন একটি সংবাদই প্রকাশিত হয়েছে। হাজীগঞ্জ ব্যুরো ইনচার্জ কামরুজ্জামান টুটুল কর্তৃক পরিবেশিত সংবাদটির শিরোনাম হয়েছে ‘সামুদ্রিক রূপচাঁদা বলে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত পিরানহা মাছ।’ এ সংবাদে তিনি মাছ বিক্রেতারা মাত্র ৯০ টাকা কেজি দরে পাইকারি কিনে এনে পিরানহা মাছকে কীভাবে দেড়শ’ টাকা কেজি করে রূপচাঁদা বলে বিক্রি করছে তার বিবরণ তুলে ধরেন। নিঃসন্দেহে এটি উদ্বেগজনক।

রূপচাঁদা সাগরের মাছ, আর পিরানহা মিষ্টি পানির মাছ। পিরানহার আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। ত্রিশূলের মতো তীক্ষ্ম দাঁতযুক্ত এ মাছগুলো নিতান্তই রাক্ষুসে মাছ। দক্ষিণ আমেরিকার ওরিনকো, আমাজন, সাও ফ্রান্সিসকো নদীর অববাহিকায় পিরানহার প্রাচুর্য দেখা যায়। কিছু মৎস্য প্রেমিকের বদান্যতায় এই মাছটি অ্যাকুরিয়ামে পালনের জন্যে বিশে^র বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। কেউ কেউ পুকুরে বা অন্য জলাশয়ে এ মাছ চাষ শুরু করে কোনো কুফলের কথাটি মাথায় না এনেই। বাংলাদেশে এই মাছ চাষ ও বিক্রি নিষিদ্ধ। তারপরও এই মাছ গোপনে চাষ ও বিক্রি হচ্ছে রূপচাঁদা বলেই। এমনকি কাপ্তাই হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে ধরা পড়ছে এই মাছ। সেজন্যে দেশের মৎস্য বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য সকলকে বিষয়টি নিয়ে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। আর ক্রেতা বা ভোক্তাদের সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

দাঁতের বিচারে পিরানহা মাছকে খুব সহজেই চেনা যায়। এরা এই দাঁতের সাহায্যেই নিজের রাক্ষুসে আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এরা প্রধানত দলবদ্ধভাবে হামলে পড়ে। এরা অন্যান্য মাংশাশি প্রাণীর মতো শিকারকে হত্যা করে খায় না। ক্রমশ খেতে খেতে হত্যা করে। এরা মানুষ খেকো মাছ হিসেবেও কুখ্যাত। ধারালো দাঁত আর জিহ্বা থাকার কারণে মাছটি তার শরীরের ১০ গুণ শক্তিতে কামড় দিতে সক্ষম। এ মাছের চর্বি মানবদেহে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। এ মাছ খেলে মানসিক সমস্যাসহ মানবদেহে নানা রোগের সৃষ্টি হয়।

আমাদের দেশে নিষিদ্ধ জাটকা, পিরানহা, বিভিন্ন মাছের পোনাসহ অন্যান্য কিছু মাছ খুব ভোরে ফেরি করে কিংবা বাজারে বিক্রি করা হয় শহর ও গ্রামের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়। যে সময় মৎস্য বিভাগের লোকজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন সাধারণত মাঠে কিংবা কর্মস্থলে সক্রিয় থাকে না। আর এ সুযোগে বিক্রেতারা নিরাপদে নির্বিঘ্নে নিষিদ্ধ পিরানহাসহ অন্যান্য মাছের প্রতি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। এমতাবস্থায় ক্রেতাদের দৃষ্টি ফেরাতে নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ, সেটি যেভাবেই সম্ভব হয়। এর বিকল্প অন্য কিছু আছে বলে মনে হয় না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়