চাঁদপুর, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   ফরিদগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন মেধাবৃত্তি পরীক্ষা
  •   হাইমচরে রাতভর পাহারা দিয়েও রক্ষা হয়নি চরের মাটি
  •   বড়স্টেশন মেঘনায়  ট্রলারের ধাক্কায় নিঁখোজ জেলের লাশ পাঁচদিন পর উদ্ধার
  •   মতলব উত্তরে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় আহত তানভীরও চলে গেলো না ফেরার দেশে
  •   কাল হেলিকপ্টারে মতলব উত্তরে আসছেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:০০

শহিদ দিবসে কিছু যুবকের উন্মাদনা প্রসঙ্গে

শহিদ দিবসে কিছু যুবকের উন্মাদনা প্রসঙ্গে
অনলাইন ডেস্ক

১৯৪৭ সাল থেকে ভাষা আন্দোলন শুরু হলেও ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। এদিন বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে রফিক, সালাম, জব্বার, বরকতসহ অনেকে শহিদ হন। সেজন্যে দিনটি পরবর্তী বছর থেকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন শুরু হয় এবং একই সাথে ভাষা আন্দোলন চলতে থাকে। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তারপর বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। বস্তুত এ স্বীকৃতি আদায় হলেই ভাষা আন্দোলন থামে এবং এ আন্দোলনের ভিত্তিতে স্বাধীনতা আন্দোলন বেগবান হয়। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সে আন্দোলনের কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জিত হয়। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বস্তরে চালু হয়নি বাংলা। এজন্যে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ৩০ বছর। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়, যা কার্যকর হয় ১০ দিন পর ৮ মার্চ থেকে।

বিশে^র ইতিহাসে কোনো জাতি তাদের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার স্বীকৃতির জন্যে হয়তো ছোটখাট আন্দোলন করতে হয়েছে, তবে ব্যাপক আন্দোলন করে অকাতরে জীবন দেয়ার রেকর্ড বাঙালি ছাড়া অন্য কোনো জাতির আর নেই। সেজন্যে ২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের তাগিদ তৈরি হয় কানাডার ভাংকুভার শহরে বসবাসরত রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস্ সালাম নামে দেশপ্রেমিক দু বাঙালির মধ্যে। তারা ১৯৯৮ সালে এ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার জন্যে আবেদন জানান জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে। তারপর বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে উক্ত আবেদনটি প্রস্তাব আকারে উত্থাপিত হয় এবং ১৮৮টি দেশ সমর্থন জানালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেমতে ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। ১০ বছর পর এ দিবসটি নিয়ে আরো বড় ধরনের অর্জন আসে। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ‘এখন থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ’ সংক্রান্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির শহিদদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকজন বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলে অতিশয়োক্তি করে এবং এ স্বীকৃতি খুবই আনন্দের বিষয় বলে শহিদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্যকে আগের ন্যায় তাদের উপলব্ধিতে নিতে চায় না। তারা এখন ‘শহিদ দিবসে’ শোকের আবহ থেকে বেরিয়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’র আনন্দে অবগাহনের উদ্ভট চিন্তায় মত্ত হবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে, যেটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও আপত্তিকর।

এবারকা ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফরিদগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে চলন্ত পিকআপ ভ্যানে ডিজে গানের সাথে একদল যুবককে উন্মত্ত নৃত্য করতে দেখা যায়। সেখানে কর্মরত পুলিশ কর্তৃক এ নৃত্যের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে যুবকরা বলে যে, তারা শহিদ দিবস নয়, মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন করছে এবং পিকনিকে যাচ্ছে। ‘ভাষা দিবসে ভাষার গান রেখে কেনো বিদেশি গান বাজানো হচ্ছে’ এমন প্রশ্নের মুখে তারা ক্ষমা চেয়ে এমন গান আর বাজাবে না শর্তে পুলিশের নিকট থেকে ছাড়া পেলেও সামান্য দূরে গিয়ে পুলিশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে বিদেশী গান বাজিয়ে বেপরোয়া নাচানাচি চালাতে থাকে। এরা প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার অনুসারী বলে শোকের আবহপূর্ণ শহিদ দিবসে পিকআপে ডিজে গানের সাথে নৃত্য করার সাহস দেখিয়েছে-এমনটি কথিত আছে। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ একেবারে চুপ থাকাটা যে এদের জন্যে প্রশ্রয় এবং ভবিষ্যতের জন্যে অকল্যাণকর হবে সেটা হলফ করেই বলা যায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়