চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

সত্যিই তিনি অনন্য
অনলাইন ডেস্ক

যতো ছোট পদে থেকেই একজন মানুষ অপর মানুষের সেবা করুক না কেনো, সে সেবা যদি হয় আন্তরিকতা ও নিষ্ঠাপূর্ণ, তাহলে ওই মানুষটি স্নেহ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র হবেনই। এমন একজন মানুষই হচ্ছেন মোঃ শফিকুর রহমান। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডে ১৯৭২ সাল হতে চলতি ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত যতো ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রত্যেকটিতে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। গত প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি উক্ত ওয়ার্ডে মেম্বার পদে অপরাজিত থেকে নিজের অবস্থানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

শফিকুর রহমান নিজ ওয়ার্ডের মেম্বার পদে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকেও অহমিকা বোধে আচ্ছন্ন হননি। তিনি চরদুঃখিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ছয়বার প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়া ছাড়াও দুবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্বপালন করেন। জনপ্রতিনিধিত্বে এমন গৌরবজনক প্রেক্ষাপট রচিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হননি। তিনি প্রতিটি ইউপি নির্বাচনে বার বার মেম্বার পদে প্রার্থী হন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। সত্যিই আমাদের দেশে তার মতো ইউপি মেম্বার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

শফিকুর রহমান নিজ এলাকার সমাজ উন্নয়নে একের পর এক রেখে চলছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনি দক্ষিণ পশ্চিম বিষকাটালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। এছাড়া শেখ জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা এবং হানিফ কাজী জামে মসজিদের সভাপতি। তিনি বিষকাটালি সমবায় সমিতির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। সাধারণ্যে মিশে গিয়ে যে কোনো দায়িত্ব পালনে এলাকায় তার জুড়ি মেলা ভার।

এলাকাবাসী জানান, মোঃ শফিকুর রহমান তরুণ বয়সে ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হন। জনসেবায় তিনি জনমনে নিজের সম্মানজনক অধিষ্ঠান নিশ্চিত করেন। বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছেন। কিন্তু গুণমুগ্ধ ভোটার তথা এলাকাবাসী তাকে নির্বাচনী মাঠে থাকতে বাধ্য করেছেন। তাকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুরোধ জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

টানা ৫০ বছর ধরে ইউপি মেম্বার হিসেবে দায়িত্বপালনের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, আমার ওয়ার্ডের লোকজনের ভালোবাসার জালে আমি আবদ্ধ। তাই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লোভ সামলিয়ে মেম্বার হিসেবে জনগণের মাঝে থাকতে গত ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এবং জনগণও বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন।

আমাদের দেশে শফিকুর রহমানের মতো ইউপি মেম্বার দ্বিতীয়জন খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। নিজের ওয়ার্ডের মানুষের সাথে সম্পর্ক কতোটা নিবিড় হলে এবং কতোটা আস্থা অর্জন করতে পারলে তিনি অবিচ্ছিন্নভাবে অর্ধশতক ধরে মেম্বার থাকতে পারেন তা ভাবলে যে কাউকেই বিস্মিত হতে হয়। সত্যিই তিনি অনন্য। আমরা সুস্থতার সাথে তার দীর্ঘজীবন প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়