চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

স্বাস্থ্যবিধি কি ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’?

স্বাস্থ্যবিধি কি ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’?
অনলাইন ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপি, আমলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে যেভাবে উচ্চবাচ্য প্রয়োগ করতে দেখা যায়, বাস্তবে তার প্রতিফলন আশাহত হবার মতোই। সর্বত্র না হলেও কোথাও কোথাও এঁদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অধিকাংশ লোককেই মাস্কবিহীন অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। আবার অনেকে মাস্ক পড়লেও সেটি যথাযথভাবে না পরার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। মঞ্চে বক্তৃতাকালে মাস্ক খুলে ফেলেন অধিকাংশ বক্তা। এসব বক্তাকে কেউ ক্রেস্ট, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদান করতে গেলে ফটোসেশনের প্রয়োজনে কেউই মাস্ক পরা থাকেন না। গণপরিবহনে মাস্ক পরিধান ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও সেটি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিতে সর্বাত্মক দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয় না। খোদ হাসপাতালেই মানা হয় না স্বাস্থ্যবিধি। ধাক্কাধাক্কি ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে রোগীদের কাটতে হয় আউটডোরের টিকিট। সেবাগ্রহণ/প্রাপ্তির জন্যে সরকারি-বেসরকারি কোনো অফিসেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি-এমন ঢালাও মন্তব্য প্রায়শই শোনা যায়। আর বাজারে?-সেখানে যেন মানুষের পদতলে পিষ্ট হয় স্বাস্থ্যবিধির সকল কঠোরতা। পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ লিখেই দায়সারা থাকে কর্তৃপক্ষ। আর তাদের চোখের সামনে উপেক্ষিত হয় স্বাস্থ্যবিধি। আর নির্বাচনে? -সেখানে তো স্বাস্থ্যবিধি অনেকটা বিতাড়িত, নির্বাসিত। কোন্ প্রার্থী কতোটা খোলামেলা (মাস্কবিহীন) গণসংযোগ করতে পারেন, ভোটারদের জড়িয়ে ধরতে পারেন, মাথায় হাত রাখতে পারেন-যেনো চলে তার দুর্দান্ত প্রতিযোগিতা।

করোনার প্রকোপ বাড়ার আলামত টের পেলেই সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হয় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার তাগিদ সম্বলিত নানা নির্দেশনা। এ নির্দেশনা মতে আমলারা মাঠে নামেন, বিক্ষিপ্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিরীহ কিসিমের লোকজনকে জরিমানা করেন, ফটোসেশন করেন। তবে কোনো প্রভাবশালীকে জরিমানা করার সাহস তারা দেখান না, আর কেউ দেখালেও তিনি কর্মস্থলে টিকেন না। করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে কেউ আসলে তার জন্যে কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন বাধ্যতামূলক করা হয় কাগজে-কলমে, তবে বাস্তবে নয়।

করোনায় আমাদের দেশে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি অনেকটা ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ প্রবাদটির মতোই। এ প্রবাদটির অর্থ হলো : বাহ্যিকভাবে বাঁধন অনেক শক্ত মনে হলেও আসলে মোটেও তা শক্ত নয়। ফস্কা গেরো হলো এমন গেরো, যাকে সহজেই খুলে ফেলা যায়। এই কারণে কোথাও যখন নিরাপত্তা বা নিয়ম-কানুনের বাহ্যিক কড়াকড়ি অতিরিক্ত দেখানো হয়, তার মধ্যে বিরাট ফাঁক থেকে যায়। আমাদের দেশে করোনার স্বাস্থ্যবিধি উক্ত প্রবাদের বাইরে অবস্থান নিতে পারছে বলে আমাদের কাছে আপাতত মনে হচ্ছে না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়