চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

‘শপথ’ পুনঃনির্মাণ প্রসঙ্গে

‘শপথ’ পুনঃনির্মাণ প্রসঙ্গে
অনলাইন ডেস্ক

প্রায় ২১ বছর আগে নির্মিত ভাস্কর্য ‘শপথ’ ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুর পৌরসভা। চাঁদপুর শহরের কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন পাঁচ রাস্তার মোড়ে দৃষ্টিনন্দন এ ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোক্তা ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ ইউসুফ গাজী। এটির ভাস্কর স্বপন আচার্য। বহুমাত্রিক বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে এই ভাস্কর্যে। প্রথমাবস্থায় এ ভাস্কর্যের ঝর্ণার বর্ণিল আলোকচ্ছটার সৌন্দর্য উপভোগে চারপাশে লোকজন ভিড় জমাতো। কিন্তু এমনটি ২-৩ বছরও স্থায়ী হয়নি। তারপর এ ভাস্কর্যটি অযতœ-অবহেলায় বিবর্ণ হয়ে যায়। আর এ ভাস্কর্যটির চারপাশের গোলাকার সীমানা বেষ্টনী বিলবোর্ড, ফেস্টুন, ব্যানার লাগানোর মোক্ষম জায়গায় পরিণত হয়ে যায়। এজন্যে পৌর কর্তৃপক্ষকে এগুলো অপসারণের নিমিত্তে রীতিমত অভিযান চালাতে হয়। পাঁচ রাস্তার যানবাহনের চাপে ‘শপথ’ চত্বর দিনের পর দিন হয়ে যায় যানজটে নাকাল। এমতাবস্থায় এই ‘শপথ’ ভাস্কর্যটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। কিন্তু এ ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে ফেলে নূতন কিছু করার সাহসিক উদ্যোগের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছিল।

অবশেষে চাঁদপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র অ্যাডঃ মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল সমকালীন প্রয়োজনীয়তার আলোকে ‘শপথ’ ভাস্কর্যটি ভাঙ্গার উদ্যোগ নিলেন। তিনি মুজিব জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নতুন ডিজাইনে ‘শপথ’ ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছেন গত ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায়। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, নতুন ডিজাইনে ভাস্কর্যের তিনটি অংশ রয়েছে। ১৮, ১৬ ও ১৪ ফুট উচ্চতার স্তম্ভের একপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের তর্জনি সম্বলিত ছবি থাকবে। আরেক পাশে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ এবং অন্যপাশে মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগানগুলো উৎকীর্ণ থাকবে। শুধু তা-ই নয়, এই ভাস্কর্যের চারপাশ সঙ্কুচিত করে রাস্তা প্রশস্ত করা হবে। এতে যানবাহন ও জনসাধারণের রাস্তা চলাচলে সুবিধা হবে।

তুলনামূলকভাবে চাঁদপুরের মতো মাঝারি মানের জেলা শহরে অন্য অনেক জেলার চেয়ে ভাস্কর্যের সংখ্যা সন্তোষজনক। কিন্তু এ ভাস্কর্যগুলো নির্মাণ শেষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করা হয় না। এর চাক্ষুষ প্রমাণ বড় স্টেশন মোলহেডে নির্মিত ‘রক্তধারা’, শহীদ কালাম-খালেক-সুশীল-শঙ্কর সড়ক তথা নিউ ট্রাক রোডে নির্মিত ‘মুক্তিসৌধ’, চাঁদপুর স্টেডিয়াম গেটের সম্মুখে নির্মিত ‘ইলিশ’ ভাস্কর্য এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে চাঁদপুর রেলওয়ে লেকে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘অঙ্গীকার’। এগুলোর মধ্যে ‘অঙ্গীকার’ ছাড়া অন্যগুলো সংস্কারের দৃশ্য চোখে পড়েনি। আমরা ‘শপথ’ ভাস্কর্যের পুনঃনির্মাণকে সপ্রশংস অভিব্যক্তিতে মূল্যায়ন করতে চাই। সাথে সাথে এটি নির্মাণের পর উদ্বোধন শেষে নিত্য পরিচর্যার বিষয়টি আগাম মাথায় রাখার জন্যে পৌর পরিষদের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়