চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

কেবল মেধাবীদের জন্যেই বৃত্তি?
অনলাইন ডেস্ক

স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী তেলের টিন ধুয়ে দিনশেষে তিরিশ টাকা পান। এ তিরিশ টাকা দিয়ে এক পোয়া চাল, অতি সামান্য তেল-ডাল কিংবা শাক নিয়ে তিনি তার নদীতীরের ঝুপড়ি ঘরে ফিরেন। মাটির চুলোয় টুকিয়ে আনা খড়-কুটো দিয়ে ভাত-ডাল-শাক রাঁধেন। সন্ধ্যার কিছু পরে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়েটিকে নিয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কুপি জ¦ালিয়ে আলো দীর্ঘস্থায়ী করার রসদ (কেরোসিন) নেই তাদের। মেয়েটি স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে যতোটুকু পারে এবং খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দিনের আলোতেই তার পাঠ্যবইয়ের পড়া ও শিক্ষকদের দেয়া বাড়ির কাজ সেরে নেয়। রাতে খাওয়া ভাতের যৎসামান্য উদ্বৃত্তটুকু পানি-লবণ দিয়ে খেয়ে মেয়েটি যায় স্কুলে, আর মা চলে যান নিকটস্থ বাজারের কর্মস্থলে তথা টিন ধোয়ার কাজে। সারাদিন মা-মেয়ের আর খাওয়া নেই। মা অনাহার সহ্য করতে পারলেও মেয়েটি প্রতিদিন সেটা পারে না। কদিন পর পর মেয়েটি স্কুল চলাকালে মাথা ঘুরে পড়ে যায়।

প্রথমত স্কুলের শিক্ষকরা ঘটনাটিকে ওই মেয়ে শিক্ষার্থীর ওপর জ¦ীন-ভূতের আছরজনিত বিষয় মনে করলেও পরবর্তীতে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, দিনের বেলা না খেয়ে থাকার কারণেই শারীরিক দুর্বলতাহেতু মেয়েটি জ্ঞান হারায়। ২-৪ দিন শিক্ষকরা নিজেদের পকেটের টাকায় মেয়েটিকে পরোটা-ভাজি খাওয়ালেও পরবর্তীতে সেটি বন্ধ করে দেন। ফলে মেয়েটির মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়াটা বন্ধ আর হলো না, আবার শুরু হলো। আতঙ্কগ্রস্ত হলো শিক্ষকরা এই ভেবে যে, না জানি এভাবে মেয়েটি একদিন মারাই যায়। তারা ম্যানেজিং কমিটিকে জানালেন বিষয়টি। তাদের একজন সেটি জানালেন চাঁদপুর কণ্ঠকে। সেমতে মেয়েটিকে নিয়ে খবর প্রকাশিত হলো।

মেয়েটির অনাহারজনিত কষ্টের খবর পড়ে এক চিত্তবান পাঠক তার বিত্তের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্কুল চলাকালীন মেয়েটিকে খাওয়ানোর খরচ বহনের দায়িত্ব নিলেন এবং খরচের টাকা হিসেব করে এককালীন প্রদান করলেন। সেই মেয়েটি পঞ্চম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে উত্তীর্ণ হলো এবং টেলেন্টপুলে প্রাথমিক বৃত্তিলাভ করলো। হইচই পড়লো চতুর্দিকে।

¯্রষ্টাপ্রদত্ত মেধা-প্রতিভা নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করলেও বিকাশের সুযোগ না পেলে সেটা অপ্রমাণিত, অপ্রকাশিত থেকে যায় কিংবা চাপা পড়ে যায়। দারিদ্র্য এমন বিকাশের পথে প্রধান অন্তরায়। এই অন্তরায় দূর করার কাজটি সকলে করতে পারে না। এই অক্ষম শিশুর জন্যে/শিক্ষার্থীদের জন্যে কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হয়। কিন্তু সমাজে এমন লোকের সংখ্যা নগণ্য। এর বিপরীতে সমাজে রয়েছে এমন কিছু উদ্যোক্তা, যারা মেধা-প্রতিভা প্রমাণ করার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশেই কেবল দাঁড়ায়। এতে তেলে মাথায় তেল দেয়ার কাজটিই যেনো হয়। এমন কাজে নিরুৎসাহিত করার অধিকার আমাদের কেনো, অন্য কারোরই নেই। আমরা মনে করি, উদ্যোক্তাদের পক্ষে মেধাবৃত্তি/শিক্ষাবৃত্তি যে নামেই শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হোক না কেনো, তার সাথে সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত গরিব শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফলাফল না দেখে বিশেষ বিবেচনায় নির্দিষ্ট হারের বাইরে থেকে বরাদ্দ দেয়া উচিত। তাহলেই সুযোগ পেয়ে ওই মেয়েটির মতো অনেকে ক্লাসে প্লেস পাবে এবং বৃত্তিও পাবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়