চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যায় তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড
  •   কল্যাণপুর ইউপির জেলে চাল আত্মসাৎ, দুই গুদাম সিলগালা
  •   মা আর স্ত্রীকে বুঝিয়ে দেয়া হলো দুই ভাইয়ের লাশ
  •   বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিম ধ্বসে ৩ ছাত্রী গুরুতর আহত
  •   আশিকাটিতে খাটের নিচে গৃহবধূর লাশ ॥ স্বামী পলাতক

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

ফুরিয়ে যাবে কি চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা?
অনলাইন ডেস্ক

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ব্রিটিশ সরকার যখন চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ তৈরি করে, তখন চাঁদপুর মহকুমা শহর ছিলো। এ শহরের প্রাণকেন্দ্র ছিলো কালীবাড়ি মোড় এলাকা। এই এলাকার সংযোগ রক্ষা করে মেটারনিটি রোড নামে যে রোডটি স্ট্র্যান্ড রোডে গিয়ে মিলিত হয়েছে তার অদূরেই ছিলো মহকুমা প্রশাসক (এসডিও) অফিস, ম্যাজিস্ট্রেট ও মুন্সেফ কোর্ট। সারা মহকুমা থেকে সরকারি বিভিন্ন সেবাপ্রার্থী ও বিচারপ্রার্থী লোকজন উক্ত কালীবাড়ি মোড় দিয়ে অফিস-আদালতে যাতায়াত করতো। প্রধান বাজার, বড় মসজিদ, থানা, পোস্ট অফিস, টেলিফোন একচেঞ্জ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, ব্যাংক, পৌরসভা, পাঠাগার, টাউন হল, ডাকবাংলো ইত্যাদি ছিলো এসব অফিস-আদালতের কাছাকাছি। গণপরিবহন হিসেবে ট্রেনই ছিলো মানুষের যাতায়াতের প্রধান অবলম্বন। এরা চাঁদপুর শহরের পশ্চিম প্রান্তের চাঁদপুর স্টেশন তথা বড় স্টেশনে নেমে অন্তত দু মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কালীবাড়ি ও স্ট্র্যান্ড রোডে যাতায়াত করতে হতো। সেজন্যে অনিবার্য প্রয়োজনের তাগিদে কালীবাড়ি মোড়ের নিকটে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন নামে পৃথক একটি স্টেশন চালু হয়।

আজ জেনারেল হাসপাতাল, পৌরসভা, সিভিল সার্জনের কার্যালয় ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো বড় প্রতিষ্ঠান কালীবাাড়ি মোড়ের কাছাকাছি আর নেই। ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হবার পর একের পর এক বিভিন্ন সময়ের ব্যবধানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিসহ বড় বড় অনেক কিছুই বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে। কোর্ট স্টেশনের সম্মুখস্থ বাস টার্মিনাল প্রায় ৪০ বছর আগেই তালতলা চলে গেছে।

২৪ ঘণ্টার আট-নয় জোড়া বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন চলতো চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে। বর্তমানে চলে মাত্র দু জোড়া। অর্থাৎ ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম অভিমুখে চাঁদপুর থেকে মেঘনা আন্তঃনগর ছেড়ে যায় এবং রাত ৯টার পর চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর পৌঁছে। একই স্থান থেকে সাগরিকা এক্সপ্রেস দুপুর ১২টায় চাঁদপুর আসে এবং ২টায় ছেড়ে চলে যায়। কুমিল্লা-লাকসাম থেকে কমিউটার (ডেম্যু) ট্রেন দিনে ২ বার চাঁদপুর আসা-যাওয়া করলেও বর্তমানে তা করে না। চট্টগ্রাম অভিমুখী মেঘনা ট্রেন ছাড়া রেল কর্মচারীদের চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনে আর কোনো ট্রেনের টিকেট বিক্রির সুযোগ নেই। কেননা ইজারা দেওয়া সাগরিকা ট্রেনের টিকেট বিক্রি করে ইজারাদারের লোকজন।

চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের বর্তমান অবস্থান ও পরিবেশ দেখলে যে কোনো আগন্তুক এটিকে রেলওয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এ স্টেশনে রেল কর্মচারীদের সামান্য সময় (বড়জোর ১০ ভাগ) ছাড়া দিনের নব্বই ভাগ সময়ে খুঁজেও পাওয়া যায় না। ভবঘুরে, পাগল, ভিখারি, বিপথগামী নারী-পুরুষের নিরাপদ আস্তানায় ও মলমূত্র ত্যাগের খোলা স্থানে পরিণত হয়েছে এটি। এদেরকে তাড়িয়ে দেয়া, স্টেশনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও নিরাপদ রাখার জন্যে রেলওয়ের দৃশ্যমান কোনো লোক নেই এ স্টেশনে। প্লাটফর্মের পূর্বাংশ এতোটা এবড়োথেবড়ো, জঙ্গল ও আবর্জনায় আকীর্ণ যে, সেখানে স্বাভাবিক অবস্থান স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ নয় ও পায়ে হেঁটে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বোপরি নিরাপত্তাহীনতা। মনে হচ্ছে, রেলওয়ের কাছে এ স্টেশনটির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতে, রেল কর্তৃপক্ষ এ স্টেশনটিকে ব্যাপক সংস্কার, মেরামত বা পুনঃনির্মাণের আওতায় আনুক। অন্যথায় এ স্টেশনটি শহরের বাইরে সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করুক কিংবা স্টেশনটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত ঘোষণা করুক। আশা করি, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনটি নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাববে এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়