মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২২  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   নদীতে যৌথ অভিযান হবে এবং যথাযথ শক্তভাবে হবে : জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সুস্থতা কামনায় মসজিদে দোয়া
  •   হাসপাতাল হলো ময়লার ভাগাড়
  •   মায়ের বুকে শিশুর মৃত্যু?
  •   পানিতে ডুবে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫৮

শোক ও সঙ্কট উত্তরণের আগস্ট

পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
শোক ও সঙ্কট উত্তরণের আগস্ট

সাগর মানেই হলো বিশাল, তীর ও তলহীন জলাধার, যার কোন পরিমাপ হয় না। শোকের সাগর শব্দটি আবেগপ্রসূত এবং আক্ষরিক হলেও বাঙালির কাছে বাস্তব অর্থেই আগস্ট মাস পুরোটাই শোকের সাগর। এর বিস্তীর্ণ পারাবার বাঙালি এক জীবনে পার হওয়ার নয়। যে মানুষটিকে আগস্ট সিঁড়ির শয্যায় শুইয়ে দিল সে মানুষটির ব্যক্তিত্বের প্রভা এত দ্যুতিময় ছিল যে তাঁকে সারা পৃথিবী কুর্ণিশ করেছে। যে ঘাতক তাঁকে গুলিবিদ্ধ করতে গিয়েছিল তিনি তাদের উদ্ধত বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে ধমক দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তোরা কারা, কী চাস্? ঘাতকদের একজন বঙ্গবন্ধুর ধমকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেও অন্যজন বঙ্গবন্ধুর বুকের মানচিত্রে পরপর গুলি করতে দ্বিধা করেনি, যা তাঁর উদার বুকের জমিনে রক্তের নহর বইয়ে দেয়। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রখরতায় কৈশোরে চমকিত হয়েছিলেন তৎকালীন শ্রমমন্ত্রী ও পরবর্তীতে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জনাব হোসেন সোহরাওয়ার্দী। চমকিত হয়েছিলেন তখনকার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকও। ইতিহাসের মহানায়কের ব্যক্তিত্বের প্রভা এমনই সুতীব্র যে, আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে তিনি সাংবাদিক ফয়েজকে ধমক দেন, অ্যাই ফয়েজ, এই বাংলায় থাকতে হলে আমার সাথে কথা বলে থাকতে হবে। তাঁর সামনে তুচ্ছ হয়ে যায় সৌদি বাদশাহ্ ফয়সাল এবং আরব আমিরাতের শাসক শেখ জায়েদ। যুগোশ্লাভ প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো তাঁর সাহস আর শৌর্যে প্রটোকল ভুলে নিজেই স্বাগত জানান আলজিয়ার্সের ন্যাম সম্মেলনে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর অবস্থান ভুলে গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকেন শেখ মুজিবের আরোহনের জন্যে।

মুজিবকে বার বার আটকেছে সামরিক জান্তা। আটককালে পুলিশেরাও তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভায় ম্লান হয়ে আসতো। মুজিবই বসে থেকে তাদের খাবার গ্রহণের জন্যে পাঠাতেন। ব্যক্তিত্বের প্রশ্নে মুজিব তাঁর রাজনৈতিক গুরু সোহরাওয়ার্দীকেও ছাড় দেননি। তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্বের প্রশ্নে তাঁকে বলেছিলেন, ‘ইফ আই অ্যাম নো বডি, দেন, ইউ আর অল সো নো বডি।’ তিনি প্রজ্ঞায় প্রবল চরিত্রবলে উন্নত ছিলেন বিধায় বলতে পেরেছিলেন, ‘সবাই পায় তেলের খনি, সোনার খনি, আর আমি পেলাম চোরের খনি।’ তাঁর এই মন্তব্যেই একদিকে আক্ষেপ আর অন্যদিকে সাহস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আলেকজান্ডারের সামনে রাজা পুরু যেমন একজন রাজার মতো ব্যবহার আশা করেন, তেমনি শেখ মুজিবও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজের ব্যক্তিত্বের যাদু দিয়ে সবাইকে মোহিত করে ফেলেন। মুজিব তাঁর সববৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে তাঁর ব্যক্তিত্বের শক্তি দিয়ে বাধ্য করেন, বাহাত্তরের সতের মার্চে বাংলাদেশ হতে ভারতীয় সৈন্য ফেরৎ নিতে।

মুজিবের ব্যক্তিত্বে ধার যেমন ছিল তেমনি ভারও ছিল প্রবল। তিনি কেবল রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি আপাদমস্তক একজন ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি ক্ষমাশীল ছিলেন যেমন, তেমনি পাকিস্তানী সামরিক জান্তাকে ধমকের ওপরেও রেখেছিলেন। তিনিই বলেছিলেন, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, তবু বাংলার মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। তাঁর এই গর্জনে প্রকম্পিত হয়ে পড়ে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর মসনদ। তাঁর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে ফিদেল ক্যাস্ট্রো তাঁকে তুলনা করেছেন হিমালয়ের সাথে, আর মার্কিন সাময়িকী ‘নিউজউইক’ এপ্রিল সংখ্যায় তাঁকে বলেছে ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’। বাস্তবিক, মুজিব এক অনবদ্য জাদুকর, যাঁর ব্যক্তিত্বের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে আছে সময় ও পৃথিবী। মুজিব এক অভ্রান্ত বিপ্লবের নাম।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়