চাঁদপুর, শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ২৯ শাওয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
মসজিদের ফযিলত ও আদব
মুফতী মুহাঃ আবু বকর বিন ফারুক
১১ জুন, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আল মাছজিদ এটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো সিজদার স্থান। আর ইসলামী পরিভাষায় মুসলমানগণ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে যে ঘর নির্মাণ করে তাকে মসজিদ বলে। বহু হাদীসে মসজিদের ফযীলতের কথা উল্লেখ হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন "দুনিয়ার মধ্যে সর্বাধিক উত্তম ঘর হচ্ছে মসজিদ এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বাজার"।



অপর হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দুনিয়াতে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে তার জন্য বালাখানা তৈরী করে করবেন।



নিম্নে মসজিদ সম্পর্কিত কতিপয় আয়াত পেশ করা হলো :



মসজিদ কমিটির মধ্যে যেসব যোগ্যতা থাকা আবশ্যক?



আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন-



অর্থ : একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। তাহলে আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা তাওবা, আয়াত নং-১৮)



আলোচ্য আয়াতে মসজিদ কমিটির কয়েকটি গুণাবলীর কথা বলা হয়েছে। যাদের মধ্যে কুরআনে বর্ণিত ওইসব গুণাবলী বিদ্যমান থাকবে শুধুমাত্র তারাই মসজিদ কমিটির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।



০১. মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে হবে।



০২. মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে আখিরাতের উপর ঈমান রাখতে হবে।



০৩. মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে যথাযথ নামায কায়েম করতে হবে।



০৪. মসজিদ কমিটির সকল সদস্যকে ঠিকমত যাকাত আদায় করতে হবে।



০৫. মসজিদ কমিটির সকল সদস্য শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করবে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করবে না। (অর্থাৎ পরিবেশ যাই হোক মসজিদে সর্বদা হক কথা বলতে হবে, এ ক্ষেত্রে কাউকে ভয় করা যাবে না)। উপরোক্ত গুণাবলী যেসব লোকের মধ্যে পাওয়া যাবে শুধুমাত্র তারাই মসজিদ কমিটির যোগ্য সদস্য বলে বিবেচিত হবে। অন্যথায় বাতিল ও অযোগ্য বলে গণ্য হবে।



উল্লেখ্য যে, শুধু নিজে নামায পড়াকে নামায কায়েম বলে না, বরং এলাকার যেসব লোক নামায পড়ে না, তাদেরকেও নামাযী বানানোর চেষ্টা করাকে নামায। কায়েম বলে)।



(১) এ আয়াতে আল্লাহর মসজিদ নির্মানের ও আবাদের যোগ্যতা কাদের রয়েছে তা জানিয়ে বলা হচ্ছে : আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার যোগ্যতা রয়েছে উপরোক্ত গুণাবলীসম্পন্ন নেককার মুসলিমদের। এই থেকে বুঝা যায়, যে ব্যক্তি মসজিদের হেফাযত, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও অন্যান্য ব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকে কিংবা যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকর বা দ্বিনী ইলমের শিক্ষা দানে কিংবা শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাতায়াত করে, তা তার কামেল মুমিন হওয়ার সাক্ষ্য বহন করে। হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদে উপস্থিত হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি স্থান প্রস্তুত করেন।' [বুখারীঃ ৬৬২, মুসলিমঃ ৬৬৯]



সালমান ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'মসজিদে আগমনকারী ব্যক্তি আল্লাহর যিয়ারতকারী মেহমান, আর মেজবানের কর্তব্য হলো মেহমানের সম্মান করা।'



[আত-তাবরানী ফিল কাবীর ৬/২৫৫]



তৃতীয় খলীফা উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মসজিদে নববী নতুন করে তৈরী করছিলেন তখন লোকেরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলছিল। তখন তিনি বললেন, তোমরা বড্ড বেশী কথা বলছ, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদ বানাবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর বানাবেন।



[বুখারী ৪৫০; মুসলিম: ৫৩৩]



(২) ইবন আব্বাস থেকে এ আয়াতের অর্থ এরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, ঐ ব্যক্তিই মসজিদ নির্মাণ করবে, যে আল্লাহর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করেছে, শেষ দিবসের উপর ঈমান এনেছে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা স্বীকার করে নিয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করেছে, আর আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদত করেনি, নিশ্চয় তারাই হবে সফলকাম। কুরআনে যেখানেই আল্লাহ্ তা'আলা আশা করা যায় বলেছেন সেটাই অবশ্যম্ভাবী। [তাবারী]



আবু বকর (রাঃ) এর মসজিদ নির্মাণ:



আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার জ্ঞানমতে আমি আমার পিতা মাতাকে সব সময় দ্বীনের অনুসরণ করতে দেখেছি। আর আমাদের এমন কোন দিন যায়নি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দিনের উভয় প্রান্তে সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের কাছে আসেন নি। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এর মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি তাঁর ঘরের আঙ্গিনায় একটি মসকিদ তৈরী করলেন। তিনি এতে সালাত /নামায আদায় করতেন ও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকদের মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সেখানে দাঁড়াত এবং তারা বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতো। আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন একজন অধিক রোদনকারী ব্যাক্তি। তিনি কুরআন পড়া শুরু করলে অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না। তাঁর এ অবস্থা নেতৃস্থানীয় মুশরিক কুরাইশদের শঙ্কিত করে তুলল।(সহীহ বুখারী)



মসজিদ নির্মাণ : মহমূদ ইবনু রাবী' (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা তাঁর স্পষ্ট মনে আছে, যে তাঁদের বাড়ীতে রাখা একটি বালতির (পানি নিয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলি্ল করছেন। তিনি বলেছেন, আমি ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাঃ) যিনি বনূ সালিম গোত্রের একজন, তাঁকে বলতে শুনেছি, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বললাম, আমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে এবং আমার বাড়ী থেকে আমার কাওমের মসজিদ পর্যন্ত পানি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আমার একান্ত ইচ্ছা আপনি আমার বাড়ীতে এসে এক যায়গায় সালাত আদায় করবেন সে যায়গাটুকু আমি সালাত আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট করে নিব।



নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইনশাআল্লাহ্, আমি তা করব। পরদিন রোদের তেজ বৃদ্ধি পাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) আমার বাড়ীতে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি তাঁকে দিলাম। তিনি না বসেই বললেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে তুমি সালাত আদায় পছন্দ কর? তিনি পছন্দ মত একটি জায়গা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায়ের জন্য ইশারা করে দেখালেন। তারপর তিনি দাঁড়ালেন আমরাও তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হলাম। অবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন, আমরাও তাঁর সালামের সময় সালাম ফিরালাম।(বুখারী শরীফ)



মসজিদে নববী নির্মাণ : আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ তৈরীর নির্দেশ দিলেন। তারপর বললেন, হে বানূ নাজ্জার, তোমরা এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করে আমার কাছে বিক্রি কর। তারা বলল, এরূপ নয়। আল্লাহর কসম! আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই এর মূল্যের আশা রাখি। (বুখারী শরীফ)



মসজিদে হারাম ও আকসা নির্মাণ : আবূ যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ তৈরি করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আক্সা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের(তৈরীর) মাঝে কত ব্যাবধান ছিল? তিনি বললেন, চলি্লশ বছর। (তিনি আরো বললেন) এরপর তোমার যেখানেই সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কেননা এর মধ্যে ফযীলত নিহিত রয়েছে। (বুখারী শরীফ)



কোনো মুসলি্লকে মসজিদে আসতে নিষেধ করা যাবে না : আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- আর তার চেয়ে অধিক যালেম কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বাধা প্রদান করে এবং তা বিনাশ সাধনে চেষ্টা করে? তাদের তো উচিৎ ছিল ভীত হয়ে তাতে প্রবেশ করা। তাদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি। (সূরা বাকারা, আয়াত নং -১১৪)



তাফসীরে এসেছে - ইসলাম-পূর্বকালে ইয়াহুদীরা ইয়াহইয়া 'আলাইহিস সালাম-কে হত্যা করলে নাসারারা তার প্রতিশোধ গ্রহণে বদ্ধপরিকর হয়। তারা ইরাকের একজন অগি্ন-উপাসক সম্রাটের সাথে মিলিত হয়ে ইয়াহুদীদের উপর আক্রমণ চালায় - তাদের হত্যা ও লুন্ঠন করে, তাওরাতের কপিসমূহ জ্বালিয়ে ফেলে, বায়তুল মুকাদ্দাসে আবর্জনা ও শুকর নিক্ষেপ করে, মসজিদের প্রাচীর ক্ষত-বিক্ষত করে সমগ্র শহরটিকে জন-মানবহীন করে দেয়। এতে ইয়াহুদীদের শক্তি পদদলিত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল পর্যন্ত বায়তুল মুকাদ্দাস এমনিভাবে পরিত্যক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিল। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খেলাফত আমলে যখন সিরিয়া ও ইরাক বিজিত হয়, তখন তারই নির্দেশক্রমে বায়তুল মুকাদ্দাস পুনঃনির্মিত হয়। এরপর দীর্ঘকাল পর্যন্ত সমস্ত সিরিয়া ও বায়তুল-মুকাদাস মুসলিমদের অধিকারে ছিল। অতঃপর বায়তুল-মুকাদ্দাস মুসলিমদের হস্তচ্যুত হয় এবং প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল পর্যন্ত ইউরোপীয় নাসারাদের অধিকারে থাকে। অবশেষে হিজরী ষষ্ট শতকে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বায়তুল-মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার করেন। এ আয়াত থেকে কতিপয় প্রয়োজনীয় মাসআলা ও বিধানও প্রমাণিত হয়।



প্রথমত : শিষ্টতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল মসজিদ একই পর্যায়ভুক্ত। বায়তুল-মুকাদ্দাস, মসজিদে হারাম ও মসজিদে-নববীর অবমাননা, যেমনি বড় যুলুম, তেমনি অন্যান্য মসজিদের বেলায়ও তা সমভাবে প্রযোজ্য। তবে এই তিনটি মসজিদের বিশেষ মাহাত্ম্য ও সম্মান স্বতন্ত্রভাবে স্বীকৃত। এক সালাতের সওয়াব মসজিদে হারামে একলক্ষ সালাতের সমান এবং মসজিদে নববীতে এক হাজার সালাতের সমান। আর বায়তুল-মুকাদ্দাস মসজিদে পাঁচশত সালাতের সমান। এই তিন মসজিদে সালাত আদায় করার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে সেখানে পৌছা বিরাট সওয়াব ও বরকতের বিষয়। কিন্তু অন্য কোন মসজিদে সালাত আদায় করা উত্তম মনে করে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আসা জায়েয নেই।



দ্বিতীয়ত : মসজিদে যিক্র ও সালাতে বাধা দেয়ার যত পন্থা হতে পারে সে সবগুলোই হারাম। তন্মধ্যে একটি প্রকাশ্য পন্থা এই যে, মসজিদে গমন করতে অথবা সেখানে সালাত আদায় ও তিলাওয়াত করতে পরিস্কার ভাষায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান। দ্বিতীয় পন্থা এই যে, মসজিদে হট্টগোল করে অথবা আশে-পাশে গান-বাজনা করে মুসল্লীদের সালাত আদায় ও যিকরে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।



তৃতীয়ত : মসজিদ জনশূন্য করার জন্য সম্ভবপর যত পন্থা হতে পারে সবই হারাম। খোলাখুলিভাবে মসজিদকে বিধ্বস্ত করা ও জনশূন্য করা যেমনি এর অন্তর্ভুক্ত তেমনিভাবে এমন কারণ সৃষ্টি করাও এর অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে মসজিদ জনশূন্য হয়ে পড়ে। মসজিদ জনশূন্য হওয়ার অর্থ এই যে, সেখানে সালাত আদায় করার জন্য কেউ আসে না কিংবা সালাত আদায়কারীর সংখ্যা হ্রাস পায়।



মসজিদে হারামের দিকে ফিরে নামায পড়ার নির্দেশ : আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, আর তুমি যেখান থেকেই বের হও না কেন মসজিদে হারামের দিকে তোমার চেহারা ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তার দিকে তোমাদের চেহারা ফিরাবে, যাতে তোমাদের বিপক্ষে মানুষের বিতর্ক করার কিছু না থাকে। তবে তাদের মধ্য থেকে যারা যুলম করেছে, তারা ছাড়া। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকে ভয় কর। আর যাতে আমি আমার নিয়ামত তোমাদের উপর পূর্ণ করতে পারি এবং যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও। (সূরা বাকারা, আয়াত নং -১৫০)



মসজিদের হারামের দিকে মুখ করে নামায পড়ার নির্দেশ : আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন -আর তুমি যেখান থেকেই বের হও, তোমার চেহারা মসজিদে হারামের দিকে ফিরাও। আর নিশ্চয়ই এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য। তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ গাফিল নন।(সূরা বাকারা, আয়াত নং -১৪৯)



কিবলার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ : আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-আকাশের দিকে বার বার তোমার তাকানো আমি অবশ্যই লক্ষ্য করেছি। অতএব আমি অবশ্যই তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফিরাব, যা তুমি পছন্দ কর। সুতরাং তোমার চেহারা মসজিদে হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার (মসজিদে হারামের) দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও। আর নিশ্চয় যারা কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, তা তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য এবং তারা যা করে, সে ব্যাপারে আল্লাহ গাফিল নন। (সূরা বাকারা, আয়াত নং -১৪৪)



মসজিদের হারাম সকলের জন্য সমান : আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন- নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে এবং মানুষকে বাধা প্রদান করে আল্লাহর পথ থেকে ও মসজিদে হারাম থেকে, যা আমি স্থানীয় ও বহিরাগত সকলের জন্য সমান করেছি। আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে সেখানে পাপকাজ করতে চায়, তাকে আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব। (সূরা হজ্জ, আয়াত নং -২৫)



মসজিদের সকাল-সন্ধ্যায় যিকির করার অনুমতি : আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করেন, সেসব গৃহে (মসজিদে) যাকে সমুন্নত করতে এবং যেখানে আল্লাহর নাম যিকর করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ করে। (সূরা নূর, আয়াত নং -৩৬)।



(১) পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের অন্তরে নিজের হেদায়াতের আলো রাখার একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এবং শেষে বলেছেনঃ এই নূর দ্বারা সে-ই উপকার লাভ করে, যাকে আল্লাহ্ চান ও তাওফীক দেন। [ইবন কাসীর] আলোচ্য আয়াতে এমন মুমিনদের আবাসস্থল ও স্থান বর্ণনা করা হয়েছে যে, এরূপ মুমিনদের আসল আবাসস্থল, যেখানে তারা প্রায়ই বিশেষতঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় দৃষ্টিগোচর হয়- সেসব গৃহ, যেগুলোকে উচ্চ রাখার জন্য এবং যেগুলোতে আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা আদেশ করেছেন। এসব গৃহে সকাল-সন্ধ্যায় অর্থাৎ সর্বদা এমন লোকেরা আল্লাহ্ তা'আলার পবিৎত্রতা বর্ণনা করে, যাদের বিশেষ গুণাবলী পরবর্তী আয়াতে বর্ণিত হচ্ছে। অধিকাংশ তাফসীরবিদের মতে এসব গৃহ হচ্ছে মসজিদ। অধিকাংশ মুফাসসিরগণ এ তাফসীরকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। [দেখুন-কুরতুবী, বাগভী]



(২) কোন কোন মুফাসসির এর অর্থ নিয়েছেন মু'মিনদের ঘর এবং সেগুলোকে উন্নত করার অর্থ সেগুলোকে নৈতিক দিক দিয়ে উন্নত করা, নৈতিক মান রক্ষার জন্য তাতে মসজিদের ব্যবস্থা করা। এ অর্থের সমর্থনে আমরা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে একটি হাদীস পাই যাতে তিনি বলেছেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বাসগৃহের মধ্যেও মসজিদ অর্থাৎ সালাত আদায় করার বিশেষ জায়গা তৈরী করার এবং তাকে পবিত্র রাখার জন্য আদেশ করেছেন। [ইবনে মাজাহঃ ৭৫৮, ৭৫৯]



তবে অধিকাংশ মুফাসসির এ "ঘরগুলো"কে মসজিদ অর্থে গ্রহণ করেছেন এবং এগুলোকে উন্নত করার অর্থ নিয়েছেন এগুলো নির্মাণ ও এগুলোকে মর্যাদা পূর্ণ দান করা। "সেগুলোর মধ্যে নিজের নাম স্মরণ করতে আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন।" এ শব্দগুলো বাহ্যত মসজিদ সংক্রান্ত ব্যাখ্যার বেশী সমর্থক দেখা যায়। তখন আয়াতের অর্থ হবে, আল্লাহ্ তা'আলা মসজিদসমূহকে সমুন্নত করার অনুমতি দিয়েছেন। অনুমতি দেয়ার মানে আদেশ করা এবং উচ্চ করা মানে সম্মান করা। উচ্চ করার দু'টি অর্থ করা হয়ে থাকে-



(১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেনঃ উচ্চ করার অর্থ আল্লাহ্ তা'আলা মসজিদসমূহে অনর্থক কাজ ও কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন।



হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, রিফয়ু মাসাজিদ বলে মসজিদসমূহের সম্মান, ইযযত ও সেগুলোকে নাপাকী ও নোংরা বস্তু থেকে পবিত্র রাখা বুঝানো হয়েছে। আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "মসজিদে থুথু ফেলা গোনাহ আর তার কাফফারা হলো তা দাফন করা, মিটিয়ে দেয়া"। [বুখারীঃ ৪১৫, মুসলিমঃ ৫৫২]



(২) ইকরিমা ও মুজাহিদ বলেনঃ রফউন বলে মসজিদ নির্মাণ বুঝানো হয়েছে।



উসমান রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "যে আল্লাহ্র জন্য মসজিদ বানায়, আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন"। [বুখারীঃ ৪৫০, মুসলিমঃ ৫৩৩]



প্রকৃত কথা এই যে, তুরফায়ু শব্দের অর্থ মসজিদ নির্মাণ করা, পাক-পবিত্র রাখা এবং মসজিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। [দেখুন-তাবারী, ইবন কাসীর, কুরতুবী] এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুন ও পেঁয়াজ খেয়ে মুখ না ধুয়ে মসজিদে গমন করতে নিষেধ করেছেন। হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যাক্তির মুখে রসুন বা পেঁয়াজের দুর্গন্ধ অনুভব করতেন, তাকে মসজিদ থেকে বের করে 'বাকী' নামক স্থানে পাঠিয়ে দিতেন এবং বলতেনঃ যে ব্যাক্তি রসুন-পেঁয়াজ খেতে চায়, সে যেন উত্তম রূপে পাকিয়ে খায় যাতে দুর্গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়।" [মুসলিমঃ ৫৬৭]



(৩) আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "যে ব্যাক্তি গৃহে অযু করে ফরয সালাত আদায়ের জন্য মসজিদের দিকে যায়, তার সওয়াব সেই ব্যক্তির সমান, যে ইহরাম বেঁধে গৃহ থেকে হজ্জের জন্য যায়। যে ব্যাক্তি এশরাকের সালাত আদায়ের জন্য গৃহ থেকে অযু করে মসজিদের দিকে যায়, তার সওয়াব উমরাকারীর অনুরূপ। এক সালাতের পর অন্য সালাত ইলি্লয়্যীনে লিখিত হয় যদি উভয়ের মাঝখানে কোন অপ্রয়োজনীয় কাজ না করে।" [আবু দাউদঃ ৫৫৮] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ "যারা অন্ধকারে মসজিদে গমন করে, তাদেরকে কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।" [আবু দাউদঃ ৫৬১, তিরমিযীঃ ২২৩]



(৪) আল্লাহ্র নাম স্মরণ করা দ্বারা এখানে তাসবীহ (পবিত্রতা বর্ণনা), তাহমীদ (প্রশংসা বর্ণনা), নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ-নসীহত, দ্বীনী শিক্ষা ইত্যাদি সর্বপ্রকার যিকর বুঝানো হয়েছে। [তাবারী, সা'দী, মুয়াসসার]



মসজিদ থেকে কোনো কিছুই যাদের বিরত রাখতে পারে না : আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-ওইসব লোক (কামিয়াব), যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিকির করা, নামায কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা সেদিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে



(সূরা নূর, আয়াত নং -৩৭)



সূরা নুরের ৩৬ ও ৩৭ নংআয়াতের তাফসীরে ইবনে কাসিরে এসেছে -



মসজিদের মর্যাদা রক্ষার আদব এবং উহার রক্ষণাবেক্ষণকারীর সম্মান : মু'মিনের অন্তরে এবং ওর মধ্যে যে হিদায়াত ও ইলম রয়েছে ওর দৃষ্টান্ত উপরের আয়াতে ঐ উজ্জ্বল প্রদীপের সাথে দেয়া হয়েছে। যা স্বচ্ছ কাঁচের মধ্যে রয়েছে এবং পরিষ্কার যাইতুনের উজ্জ্বল তেল দ্বারা জ্বলতে থাকে এবং ওর অবস্থানের বর্ণনা মহান আল্লাহ দিচ্ছেন যে, ওটা রয়েছে ঐসব গৃহে অর্থাৎ মসজিদে, যা সবচেয়ে উত্তম জায়গা এবং আল্লাহর প্রিয় স্থান, যেখানে তাঁর ইবাদাত করা হয় এবং তার একাত্মবাদের বর্ণনা দেয়া হয়, যার রক্ষণাবেক্ষণ করা, পবিত্র রাখা এবং অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখার নির্দেশ আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন। আলী ইবন আবী তালহা (রহঃ) বর্ণনা করেন : ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু মসজিদে বসে বাজে ও অনর্থক কথা বলতে নিষেধ করেছেন। (তাবারী ১৯/১৯১)



ইকরিমাহ (রহঃ), আবু সালিহ (রহঃ), যাহহাক (রহঃ), নাফি ইন যুবাইর (রহঃ), আবূ বাকর ইবন সুলাইমান ইবন আবী হাশামা (রহঃ), সুফিয়ান ইবন হুসাইন (রহঃ) এবং বিজ্ঞজনদের আরও অনেকে তাদের তাফসীরে এরূপ মতামত ব্যক্ত করেছেন।



মসজিদ নির্মাণ করা, আদব ও সম্মান করা এবং ওকে সুগন্ধময় ও পরিস্কার - পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে বহু হাদীস এসেছে, যেগুলিকে আমি একটি পৃথক কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। এখানেও অল্প বিস্তর বর্ণনা করছি। আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করুন। তারই উপর আমাদের ভরসা।



আমীরুল মু'মিনীন উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ওর মত ঘর নির্মাণ করবেন। (ফাতহুল বারী ১/৬৪৮, মুসলিম ১/৩৭৮)



উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করে যাতে আল্লাহর যিকর করা হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (ইবন মাজাহ ১/২৪৩, নাসাঈ ২/৩১)



আয়শা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহল্লায় মসজিদ নির্মাণ করার এবং ওকে পবিত্র ও সুগন্ধময় করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।



(আহমাদ ৫/১৭, ৬/২৭৯, তিরমিযী ৩/২০৬, ইন মাজাহ ১/২৫০, আবু দাউদ ১ / ৩১০ - সামুরাহ ইব্ন যুন্দুব)



উমার (রাঃ) বলেনঃ তোমরা লোকদের জন্য মসজিদ নির্মাণ কর যেখানে আল্লাহর ইবাদাত করা হবে। কিন্তু সাবধান ! সজ্জিত করার জন্য লাল ও হলুদ রং ব্যবহার করবেন, যাতে মানুষ ফিতনায় না পড়ে। (ফাতহুল বারী ১/৬৪২)



ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : উঁচু ও পাকা করে মসজিদ নির্মাণ করতে আমি আদিষ্ট হইনি। (আবূ দাঊদ ১/৩১০)



আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন? কিয়ামাত সংঘটিত হবেনা যে পর্যন্ত না লোকেরা মসজিদগুলির ব্যাপারে পরস্পর একে অপরকে প্রদর্শনের জন্য ও গর্ব করার জন্য তৈরী করবে (আহমাদ ৩/১৩৪, আবু দাউদ ১/৩১১, নাসাঈ ২/৩২, ইবন মাজাহ ১/২৪৪)



বুরাইদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক তার হারানো উট খুঁজতে মসজিদে এসে বলে ও আমার একটি লাল বর্ণের হারানো উটের কেহ কোন খোঁজ - খবর দিতে পারে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন : তুমি যেন তা কখনও না পাও। মসজিদকে যে কাজের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ওটা ঐ কাজেই ব্যবহৃত হবে। (মুসলিম ১/৩৯৭)



আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যখন তোমরা কেহকে দেখবে যে, সে মসজিদে বেচা - কেনা করছে তখন তোমরা বলবে ও আল্লাহ তোমাকে তোমার ব্যবসায়ে লাভবান না করুন ! আর যখন তোমরা কেহকে দেখবে যে, সে তার হারানো জিনিস মসজিদে খোজ করছে তখন তোমরা বলবে, আল্লাহ যেন তোমাকে তোমার হারানো জিনিস কখনও ফিরিয়ে না দেন ! (তিরমিযী ৪/৫৫০)



ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন, সাইব ইবন কিন্দী (রহঃ) বলেন, আমি একদা মসজিদে দাঁড়িয়েছিলাম এমন সময় হঠাৎ কে যেন আমার প্রতি কংকর নিক্ষেপ করে। আমি ফিরে দেখি যে, তিনি উমার (রাঃ)। তিনি আমাকে বলেন : যাও, ঐ দু'টি লোককে আমার নিকট



ধরে নিয়ে এসো। আমি ঐ দু'জনকে তার কাছে ধরে আনলে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন : তোমরা কে? অথবা প্রশ্ন করেন : তোমরা কোথাকার লোক? তারা উত্তরে বলে ও আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি তখন বলেন : তোমরা যদি এখানকার অধিবাসী হতে তাহলে আমি তোমাদেরকে শাস্তি দিতাম। তোমরা মসজিদে নববীতে উচ্চ স্বরে কথা বলছিলে। (ফাতহুল বারী ১/৬৬৭)



ইবরাহীম ইবন আবদুর রাহমান ইবন আউফ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, উমার (রাঃ) মসজিদে নববীতে উচ্চ স্বরে একটি লোককে কথা বলতে শুনে বলেনঃ তুমি কোথায় রয়েছো তা জান কি? (তিরমিযী ৮/৪)



ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, উমার (রাঃ) প্রত্যেক জুমু'আর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদকে সুগন্ধময় করতেন। (আবী ইয়ালা ১/১৭০)



রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যে সালাত একাকী বাড়ীতে আদায় করে অথবা বাজারে আদায় করে ঐ সালাতের উপর জামা'আতের সালাতের সাওয়াব পঁচিশ গুণ বেশী দেয়া হয়। এটা এ কারণে যে, যখন সে ভালরূপে অযু করে শুধু সালাতের উদ্দেশে বের হয় তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটা মর্যাদার স্তর বৃদ্ধি পায় এবং একটা পাপ ক্ষমা করা হয়। তারপর সালাত শুরু করা থেকে যতক্ষণ সে তার জায়গায় বসে থাকে ততক্ষণ মালাইকা / ফেরেশতারা তার জন্য দু'আ করতে থাকেন। তারা বলেন : হে আল্লাহ ! তার উপর আপনি করুণা বর্ষণ করুণ ! হে আল্লাহ ! তার উপর আপনি দয়া করুন ! আর যতক্ষণ সে সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে ততক্ষণ সে সালাত আদায় করার সাওয়াব পেতে থাকে। (বুখারী ৬৪৭, ৬৪৯)



রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন : অন্ধকারে মসজিদে গমনকারীদেরকে শুভ সংবাদ শুনিয়ে দাও যে, কিয়ামতের দিন তারা পূর্ণ আলো প্রাপ্ত হবে। (আবু দাউদ ৫৬১, তিরমিযী ২২৩)



মসজিদে প্রবেশকারীর জন্য বলা হয়েছে যে, সে যেন মসজিদে প্রবেশের সময় প্রথমে ডান পা রাখে এবং এই দুআ পাঠ করে যা হাদীসে এসেছে আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ' আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন।



অর্থ : মহান, সম্মানিত চেহারার অধিকারী এবং প্রাচীন সাম্রাজ্যের অধিপতি আল্লাহর নিকট আমি বিতাড়িত শাইতান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তিনি বলেন, যখন কেহ এটা বলে তখন শাইতান বলে ও সে সারা দিনের জন্য আমার অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। (আবু দাউদ ২/৩১৮)



আবু হুমাইদ (রাঃ) অথবা আবু উসাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেহ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন যেন সে বলে - আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা অর্থাৎ হে আল্লাহ ! আমার জন্য আপনি আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন ! আর যখন মসজিদ হতে বের হবে তখন যেন বলে - আল্লাহুম্মা ইনি্ন আসআলুকা মিন পাদলিক অর্থাৎ হে আল্লাহ ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ কামনা করছি। (মুসলিম ১/৪৯৪)



আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেহ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাম দেয় এবং অতঃপর বলে - আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা এবং যখন মসজিদ থেকে বের হবে তখন যেন বলে - আল্লাহুম্মা আ'সিননী মিনাশ শাইত্বনির রজীম অর্থাৎ হে আল্লাহ ! আপনি আমাকে বিতাড়িত শাইতান হতে রক্ষা করুন! (নাসাঈ ২/৫৩, ইবন মাজাহ ১/২৫৪, ইবুন খুযাইমাহ ১/২৩১, ইন হিব্বান ৩/২৪৬, ২৪৭)



মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেন - মসজিদে তাঁর নাম স্মরণ করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ সেখানে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে।



যেমন বলা হয়েছে -হে আদম সন্তান ! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ কর। (সূরা আ'রাফ, ৭ ও ৩১)



এবং তোমরা প্রত্যেক সালাতে তোমাদের মনোযোগ স্থির রেখ এবং তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধ মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁকেই ডাক।



(সূরা আ'রাফ, ৭ঃ ২৯)"অ-আন্নাল মাসাজিদা লিল্লাহ" এবং এই যে মসজিদসমূহ, আল্লাহরই জন্য। (সূরা নূহ, ৭২ ৪ ১৮)



তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন মসজিদে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে। আল্লাহ তা'আলার উক্তি



"সেই সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা বাণিজ্য এবং ক্রয় - বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে ভুলিয়ে রাখেনা।"



রিজাল বলা দ্বারা তাদের ভাল উদ্দেশ্য, সৎ নিয়াত এবং বড় কাজের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।



অন্য জায়গায় তিনি বলেন : হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের ঐশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে উদাসীন না করে। (সূরা মুনাফিকূন, ৬৩ : ৯)



অন্যত্র বলেন :"হে মুমিনগণ ! জুমু'আর দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয় - বিক্রয় ত্যাগ কর। (সূরা জুমু'আ, ৬২ : ৯)



ভাবার্থ এই যে, সৎ লোকদেরকে দুনিয়া ও দুনিয়ার ভোগ - বিলাস আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন রাখতে পারেনা। তাদের আখিরাত ও আখিরাতের নি 'আমাতের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে এবং তারা ওটাকে অবিনশ্বর মনে করে আর দুনিয়ার সবকিছুকে তারা অস্থায়ী ও ধ্বংসশীল বলে বিশ্বাস করে। এ জন্যই তারা দুনিয়া ছেড়ে আখিরাতের দিকে মনোযোগ দেয়। তারা আল্লাহর আনুগত্যকে, তাঁর মহব্বতকে এবং তাঁর হুকুমকে অগ্রাধিকার দেয়।



সালিম (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। একদা তিনি সালাতের জন্য যাচ্ছিলেন, তখন দেখতে পান যে, মদীনার ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ পণ্যদ্রব্যকে কাপড় দ্বারা ঢেকে দিয়ে সালাতের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছেন। তখন তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন এবং বলেন : এই লোকদেরই প্রশংসা এই আয়াতে করা হয়েছে। (ইবন। আবী হাতিম ৮/২৬০৭)



আলী ইব্ন আবী তালহা (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, ইব্ন আব্বাস (রাঃ) বলেন এর অর্থ হচ্ছে তাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া সালাত তারা আদায় করে। (তাবারী ১৯/১৯৩)



মুকাতিল ইবন হিব্বান (রহঃ) এবং রাবী ইবন আনাসও (রহঃ) অনুরূপ মতামত ব্যক্ত করেছেন।



সুদ্দী (রহঃ) বলেন : যারা জামা'আতে সালাত আদায় করে।



মুকাতিল ইবন হিব্বান (রহঃ) আরও বলেন : কোন কিছুই তাদেরকে সালাতে যোগ দিতে অথবা আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করার ব্যাপারে বিরত রাখতে পারেনা এবং তারা যথাসময়ে সালাত আদায় করার সাথে সাথে রোকনসমূহও যথাযথভাবে পালন করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন : তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।



অর্থাৎ কিয়ামত দিবসে ; মানুষের হৃদয় ও চক্ষু থাকবে উভ্রান্ত ও আতংকগ্রস্ত। এর কারণ হল কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা এবং ভয়ার্ততা।



যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে : তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে। (সূরা মু'মিন, ৪০ ও ১৮)



তবে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির। (সূরা ইবরাহীম, ১৪ ও ৪২)



"তাদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে এবং বলে : কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে প্রতিদান চাইনা, কৃতজ্ঞতাও নয়। আমরা আশংকা করি আমাদের রবের নিকট হতে এক ভীতিপ্রদ ভয়ংকর দিনের। পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করবেন সেই দিনের অনিষ্টতা হতে এবং তাদেরকে দিবেন উৎফুল্লতা ও আনন্দ। আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কার স্বরূপ তাদেরকে দেয়া হবে জান্নাত ও রেশমী বস্ত্র। (সূরা ইনসান, ৭৬ : ৮-১২)



এরপর আল্লাহ বলেন, যাতে তারা যে কাজ করে তজ্জন্য আল্লাহ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন।"



অর্থাৎ তারা হল ঐ সৌভাগ্যবান যাদেরকে আল্লাহ গাফুরুর রাহীম নিজ অনুগ্রহে তাদের উত্তম আমলসমূহের প্রতিদানে তাদের প্রাপ্যের অধিক দান করবেন এবং পাপসমূহ অগ্রাহ্য করবেন।



যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেন - আল্লাহ অণু পরিমাণ যুলম করেননা। (সূরা নিসা, ৪ ও ৪০)



অন্য এক জায়গায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন : যে ব্যক্তি কোন ভাল কাজ করে তার জন্য ওর দশগুণ প্রতিদান রয়েছে। (সূরা আন'আম, ৬ ও ১৬০)



অন্য এক স্থানে তিনি বলেন_ কে এমন আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিতে পারে? (সূরা বাকারাহ, ২ ও ২৪৫)



তিনি আরও বলেন : এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বর্ধিত করে দেন। (সূরা বাকারাহ, ২ : ২৬১)



এখানে মহান আল্লাহ বলেন : আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন অপরিমিত জীবিকা দান করেন



মসজিদের ফযীলত সম্পর্কে কতিপয় হাদীস : মসজিদে নববীর ফযীলত :



হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : মসজিদে হারাম ব্যতীত আমার এ মসজিদে নামায আদায় করা অন্যান্য মসজিদে এক হাজার রাকাত নামায পড়া থেকে উত্তম। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -১১১৭)



মক্কা-মদীনার মসজিদে নামায পড়ার ফযীলত : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসা এই তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদে (সালাতের উদ্দেশ্যে)। হওদা বাঁধা যাবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং -১১১৬)।



মসজিদে নববীর মধ্যবর্তী স্থানের ফযীলত : হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমার ঘর এবং আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটুকু বেহেশতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা। আর আমার মিম্বর হাওজে কাউসার এর উপর অবস্থিত। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -১১২২)



হাতীমে কা'বাও বাইতুল্লাহর অংশ : হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাইতুল্লাহ শরীফের বাইরের দেওয়াল (যাকে হাতীমে কা'বা বলা হয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এটা কি কা'বা ঘরের অংশ ছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমি বললাম, তাহলে এ অংশকে তারা কাবা ঘরের মধ্যে শামিল করল না কেন? তিনি বললেন, তোমার গোত্রের অভাব - অনটন দেখা দিয়েছিল। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং -৬৭৪৯)



সকলে-সন্ধায় মসজিদে যাওয়ার ফযীলত : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন - কোনো ব্যক্তি সকাল - সন্ধায় যতবার মসজিদে যাতায়াত করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করে। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৬২৯)।



বেশি বেশি মসজিদে গেলে আরশের নীচে স্থান পাবে : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যেদিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তা'আলা তার আরশের ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক, ২. যে যৌবন বয়সে আল্লাহর ইবাদাতে লিপ্ত থাকে, ৩. যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে লেগে থাকে, ৪. ঐ দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পর ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্যই পরস্পর একত্র হয় এবং তার জন্যই সম্পর্ক ছিন্ন করে, ৫. ঐ ব্যক্তি যাকে কোনো বংশীয় রুপসী - সুন্দরী নারী কু - কর্মে আহবান জানায়, কিন্তু সে এই বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, ৬, যে ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাতে কী দান করেছে বাম হাতে তা জানে না, ৭. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্বরণ করে এবং তার ভয়ে চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরে। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৬২৭)



মসজিদে বসে থাকার ফযীলত : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যতক্ষণ কেউ অজুর সাথে নামাযের অপেক্ষায় নামাযের পাটিতে বসে থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য এই বলে দুআ করতে থাকে 'আল্লাহুম্মাগফিরলাহু আল্লাহুম্মার হামহু'(অর্থাৎ হে আল্লাহ আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার উপর রহম করুন)। আর তোমাদের মধ্যে যার নামায তাকে বাড়ী ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, তাকে নামাযরত বলেই ধরা হবে। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৬২৬)



মসজিদে গিয়ে নামায পড়ার ফযীলত : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, জামা'আতের নামায তোমাদের কারো একাকী নামায অপেক্ষা ২৫ গুণ বেশী সওয়াব। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৬১৯)



মসজিদে অবস্থান করে ইলমে দ্বীন শিখা : হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি সত্তরজন আসহাবে সুফফা দেখেছি। তাদের কারো গায়ে পূর্ণ চাদর ছিল না। কারো হয়ত ছোট লুঙ্গি অথবা ছোট চাদর ছিল যা তার গলায় বেঁধে রাখত। এর কোনোটি তাদের হাঁটুর অর্ধেক আবার কোনো গোড়ালী পর্যন্ত হতো। আর উহা খুলে যাওয়ার আশংকায় তার হাত দিয়ে ধরে রাখতেন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৪২৯)



মসজিদে নববীতে যেসব সাহাবাফড কিরাম অবস্থান করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে হাদীস, ফিকহ এবং দ্বীনের বিভিন্ন মাসাফডল শিখতেন সেসব সাহাবাগণকে "আসহাবে সুফফা ' বলা হয়)



নামাযের পর মসজিদে বসে থাকার ফযীলত : হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : যতক্ষণ তোমাদের কেউ নামাযের পর অজু



অবস্থায় নামাযের স্থানে বসে থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য দুআ করতে থাকে। ফেরেশতাগণ বলে, হে আল্লাহ ! তাকে ক্ষমা করে দিন হে আল্লাহ ! তার উপর রহম করুন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৪৩২)।



মসজিদ ঝাড়ু দেয়ার ফযীলত : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : একজন কালো বর্ণের পুরুষ বা মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিত। সে ইন্তেকালের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। লোকেরা বলল সে ইন্তিকাল করেছে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে সংবাদ দেওনি কেন? আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। অতঃপর তিনি তার কবরের কাছে গিয়ে দুআ করলেন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৪৪৪)



মুশরিকদের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষেধ : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : হযরত আবূ বকর (রাঃ) হজ্জের মৌসুমে আমাকে অন্যান্য প্রচারকারীদের সঙ্গে কুরবানীর দিন মিনায় এই মর্মে প্রচার করতে পাঠালেন যে, এরপর থেকে আর কোনো মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং কোনো ব্যক্তি উলঙ্গ অবস্থায়ও বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -৩৬২)



মসজিদে হদছ (বায়ুত্যাগ) হলে অবস্থান করা নিষেধ : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : বান্দা যতক্ষণ মসজিদে নামাযের অপেক্ষা করে, ততক্ষণ সে নামাযের সাওয়াব পায়, যে পর্যন্ত তার হদছ না হয়। জনৈক অনারব ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আবু হুরায়রা হদছ কী? তিনি বললেন, মলদ্বার থেকে বায়ু নির্গত হওয়া। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -১৭৬)



মাসয়ালা : মসজিদে বায়ু ত্যাগ করা অনুচিত। প্রয়োজন হলে বাইরে এসে ত্যাগ করা উত্তম।



রাসূল সা . নিজ হাতে মসজিদ পরিস্কার করতেন : উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকের দেওয়ালে নাকের শ্লেম্মা অথবা থুথু কিংবা কফ দেখতে পেয়ে তা (নিজ হাতে) পরিস্কার করলেন। (বুখারী - মুসলিম, বু, হাদীস নং - ৩৯৮)



মসজিদে কফ, থুথু, শিকনি কিংবা ময়লা - আবর্জনা ইত্যাদি ফেলা। নিষেধ। মসজিদ পরিস্কার - পরিচ্ছন্ন রাখা আবশ্যক। (বুখারী- ২ খন্ড)।



মসজিদ পবিত্র রাখা জরুরী : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন মসজিদে দাঁড়িয়ে পেশাব করলে লোকজন তাকে বাধা দিতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তাকে ছেড়ে দাও এবং ঐ পেশাবের উপর এক বালতি বা এক টিন পানি ঢেলে দাও। কেননা আল্লাহ তোমাদেরকে মানুষের সাথে নম্র ব্যবহারের জন্য সৃষ্টি করেছেন, কঠোর ব্যবহারের জন্য নয়। (সহীহ বুখারী হাদীস নং -২২০)



লেখক : ইমাম ও খতিব, বিষ্ণুপুর মদিনা বাজার বাইতুল আমিন জামে মসজিদ, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৭০। তাহারা বলিল, 'আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে জানাইয়া দিতে বল উহা কোন্টি ? আমরা গরুটি সম্পর্কে সন্দেহে পতিত হইয়াছি এবং আল্লাহ ইচ্ছা করিলে নিশ্চয় আমরা দিশা পাইব।'


 


 


শূন্য ভিক্ষা পাত্রের মতো ভারি জিনিস জগতে আর কিছুই নেই।


_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


যাহার একদিনের সংস্থান আছে ভিক্ষা করা তাহার জন্য নিষিদ্ধ।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৬,৮০,১৩,৪১৫
সুস্থ ৭,৩২,৮১০ ১৪,৯৩,৫৬,৭৪৮
মৃত্যু ১২,৪৪১ ৩৪,৮৮,২৩৭
দেশ ২০০ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮০৫১৩৪
পুরোন সংখ্যা