চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯, ৮ রজব ১৪৪৪  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   আগামী নির্বাচনে অনেক চমক অপেক্ষা করছে
  •   ১৭ দিন পর করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০
  •   জাপানি দুই শিশু মায়ের জিম্মায় থাকবে
  •   হাজীগঞ্জের আমির হোসেনের প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে বহু প্রবাসী যুবক নিঃস্ব
  •   কোস্টগার্ডের অভিযানে ৪৪০ কেজি জাটকা মাছ জব্দ

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

শীতের মওসুমে শরীরের যত্ন
অনলাইন ডেস্ক

নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশে শীত একটি উপভোগ্য ঋতু। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত শীত ঋতুর অস্তিত্ব এখন পাওয়া মুশকিল। শীত এলে নিয়ে আসে সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডা। বয়ষ্করা বছরে ৩-৪ বার ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হলেও শিশুরা আক্রান্ত হয় আরো বেশি। ঋতু পরিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায়ে ঠাণ্ডার এই প্রকোপ শুরু হয়। কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা ইত্যাদি দেখা দেয়। একটু সাবধানতা অবলম্বন করে এসব অসুস্থতা এড়ানো যায়। যাদের এরকম ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে তারা শীতের শুরুতেই কিটোটিফেন (যেমন : প্রোজমা) দৈনিক একবার করে টানা একমাস সেবন করতে পারেন। সাথে মন্টিলুকাস্ট জাতীয় ঔষধ রাখতে পারেন। শীতের প্রারম্ভে সকালে এক চামচ করে মধু সেবন করলে ঠাণ্ডার আক্রমণ হতে রেহাই পাওয়া যায়। যাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট আছে তাদের গরমণ্ডঠাণ্ডার মিশ্রণ এড়াতে হবে। হুট করে গরম থেকে ঠাণ্ডায় বা ঠাণ্ডা থেকে গরমে আসা উচিত হবে না।

শীতের আরেক প্রকোপ হলো নিউমোনিয়া। জীবাণুজনিত কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে অহরহ। শীতে ঘর সারাদিন বদ্ধ না রেখে দিনের বেলায় আলো-বাতাস খেলতে দেয়া উচিত। মাঝে মাঝে রুমে ডিজইনফেক্ট্যান্ট স্প্রে করতে হবে। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলো সপ্তাহে একদিন বীজাণুনাশক ছিটিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যাদের ঘন ঘন নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট হয় তাদের বাড়িতে নেবুলাইজার মেশিন থাকা বাঞ্ছনীয়। এর দ্বারা শ্বাসনালী স্ফীত করার মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট হ্রাস করা যায়। জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই নিউমোনিয়া হিসেবে চিন্তা করতে হবে। সেক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট আছে তাদের পকেটে বা ব্যাগে ইনহেলার রাখা উচিত।

ঠাণ্ডায় গলাব্যথা হতে পারে স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইনফেকশনের কারণে। সেক্ষেত্রে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পাশাপাশি কুসুম গরম পানি পান জরুরি। ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণও এ সময় বেশি হতে পারে। হতে পারে ভাইরাল ফ্লু। জ্বর জ্বর ভাব, শুকনো কাশি, সারাদেহে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এতে ভাববার কিছু নেই। ৭-১০ দিন পরে ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভুগিয়ে বিদায় হতে পারে। শীতে শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়া হতে পারে। মলের বর্ণ সবুজাভ হয়। এদের এ সময় অন্যান্য ফ্লুকোনাজল জাতীয় ঔষধ সেবন করাতে হয়।

শীতে ত্বক শুকিয়ে যায়। ঠোঁট, পায়ের গোড়ালি ইত্যাদি ফেটে যায়। এক্ষেত্রে ত্বকের যত্নে শরীরে অলিভ অয়েল এবং ঠোঁটে ভেসলিন মাখতে হয় নিয়মিত। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স-জাতীয় ঔষধ সেবন করলে ইকথায়োসিস বা ত্বক শুকনো হওয়া রোধ হতে পারে। ইউরিয়া ক্রিম ব্যবহার করলেও ইকথায়োসিস দূর হতে পারে।

শীতের চুলকানি বা অ্যালার্জি হতে পারে পারসোনাল হাইজিন মেনটেইন না করার জন্যে। সে ক্ষেত্রে স্ক্যাবিজ জাতীয় রোগ হতে পারে যাতে পার্মিত্রিন ক্রিম বা লোশন লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

শীতে দুটো বড় রোগের প্রকোপ বাড়ে। তা হলো হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক। শীতের কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ হতে বাধা পায়। একদিকে ঠাণ্ডার সাথে যেমন শরীরকে যুঝতে হয়, তেমনি অন্যদিকে আহারের পরিমাণও বেড়ে যায়। ফলে হার্ট বা ব্রেন তাদের পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না পাওয়ায় অ্যাটাক বা স্ট্রোকের শিকার হয়। কাজেই শীতে উপাদেয় রান্না ও উৎসবের প্রাচুর্যে নিজেকে আহার গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তাতে শীতে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের হার কমবে।

যাদের বাতের ব্যথা আছে তাদের জন্যে আর্ত্রাইটিসের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের রোগীদের ঠাণ্ডা কম লাগাতে হবে। বয়ষ্কদের পায়ে মোজা লাগিয়ে পায়ের নিম্নাংশ উষ্ণ রাখতে হবে।

শীত আমাদের জন্যে এক মনোরম ঋতু। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে শীত হয়ে যায় উপভোগ্য।

* চিকিৎসাঙ্গন বিভাগে লেখা পাঠানোর ই-মেইল : into.alamin@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়