চাঁদপুর, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯, ৩ জিলহজ ১৪৪৩  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদীতে দেয়াল ধ্বসে নিহত ১
  •   উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া শিক্ষা খাতে বৈশ্বিক পরিবর্তন সম্ভব নয় : শিক্ষামন্ত্রী
  •   মতলবে ৭০ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন
  •   মতলবে শিক্ষক লাঞ্ছিত, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
  •   লঞ্চে জমজমাট জুয়া ॥ সর্বস্বান্ত যাত্রীরা

প্রকাশ : ২২ মে ২০২২, ০০:০০

আচমকা আমাদের দেখা
অনলাইন ডেস্ক

সেদিন আমি আর বান্ধবী ক্লাসের ঠিক এক ঘণ্টা পৌঁছালাম। বলা যায় এটা আমাদের প্রতিদিনের ঘটনা। সেদিন আমরা বাইরে হাঁটছিলাম। ফারিহা আইসক্রিমের খোসাটা পথে ফেলে দিলো। আমি ক্ষাণিকটা রাগ করে খোসাটা পথে ফেললি কেনো?

ও বললো দেখ সবাই ফেলে। আমি বললাম, সবাই আর তুই কি এক!

ও বললো তুই কী করিস? আমি বললাম, আমি ব্যাগে রেখে দিই তারপর বাসায় গিয়ে ডাস্টবিনে ফেলি। এমনকি নদীভ্রমণ করলে প্যাকেট ব্যাগে রেখে দিই।

ফারিহা বললো কেনো রে?

আমি বললাম আমি নদীদূষণ করতে চাই না।

ফারিহা বললো তুই একা করলে হবে?

এটা জবাব দেয়ার আগেই একটা ডাস্টবিন পেলাম। সেখানে খোসাটা ফেলে দিতে দিতে বললাম, দেখ্ ডাস্টবিনে লেখা আমাকে ব্যবহার করো। তাহলে কি ব্যবহার করা উচিত নয়? ফারিহা হাসলো। আরো কিছু বলতে গিয়ে হঠাৎ চাবির শব্দ পেলাম। তবু তাকাতে ইচ্ছে হলো না। যদি ফাইয়াজ থাকে। তবু চাবিটার প্রচণ্ড শব্দে আমি পেছন ফিরে তাকালাম দেখি সত্যিই ফাইয়াজ। তারপর আবার ফিরে তাকিয়ে দেখি ও আমাদের পেছনে আসছে।

আমার বুকের মধ্যেখানে ব্যথার সৃষ্টি হলো। সমস্ত শরীরে কাঁপতে থাকতে লাগলো। চোখে জল এসে গেলো। বিচ্ছেদের পর এটাই আমাদের প্রথম দেখা। এর আগে একদিন দূর থেকে একপলক দেখেছিলাম কিন্তু সেটা নিকটে নয়।

তারপর ফাইয়াজ পেছনে পেছনে আসছে। আমার মনটা অতীতে ফিরে গেলো। আমার বান্ধবী নানা স্মৃতিচারণ করলো। আমি জানি না কী বলছে। এতো কিছুর ভেতরে আমি খুশি হয়ে হাসতে হাসতে আইসক্রিমটা খেতে খেতে নিজেকে বর্তমানে রাখার চেষ্টা করলাম। আমার পেছনে ফাইয়াজ। ও যখন সামনে আসলো ফারিহা বললো আচ্ছা ও কি তোর সে?

কেনো জানি তার মতো লাগছে। আমি বললাম না। এতোটুকু পর্যন্ত ঠিক রেখে পথের শেষ কোনাটায় আমি কেঁদে ফেললাম। ফারিহা হঠাৎ কি হলো? এই তো হাসলি!

আমি বললাম, ফাইয়াজকে মিস করছি। অথচ ফারিহাকে বলতে পারিনি এটাই ফাইয়াজ আমাদের সামনে পেছনে একটু আগে ছিলো।

ফারিহা বললো যেই মানুষটা তোকে কষ্ট দিয়েছে তাকে ভুলে থাকা শ্রেয়।

আমি বললাম এই মুহূর্তে এতো সমীকরণ দিয়ে হবে না। জীবনের সবক্ষেত্রে সমীকরণ মানে না।

ফারিহা বললো জানি রে।

আবার ক্লাস শেষ করে আমরা ফিরছি তখন ফারিহা বললো, চল না ছবি তুলি। ছবিতে যেই একটা হাসি দিয়েছি ঠিক তখনি ফাইয়াজ আবারো সামনে। আমি ফারিহাকে বললাম বাসায় চল। ফারিহা বললো সুন্দর ছবি হয়নি তো। আমি বললাম এতো সুন্দর ছবি দিয়ে কি হবে। আমার বুকে ব্যথা অনুভব করছি যতোটা সম্ভব ফাইয়াজের চোখের সামনে থেকে নিজেকে সরাতে চেয়েছি। অথচ এমন ও হয়েছে ফাইয়াজকে দেখতে আমি প্রচণ্ড পাগলামী করেছি। এমনও দিন গেছে আমি অফিসের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

ওর রাগ করলে সহ্য আমার হতো না। তাই রাগ ভাঙ্গাতে আমি ছুটে গিয়েছি। প্রথম প্রেমে পাগলামী বেশিই থাকে। আমাদের বিচ্ছেদও রাগ করেই হয়েছে। অবশ্য কোনো কিছুতেই তার রাগ ভাঙ্গানো সম্ভব হয়নি।

ফারিহা বললো কেনো জানি এই লোকটাকে আমার ফাইয়াজ মনে হচ্ছে। তুই কি সত্যিটা বলবি?

তাহলে আমি তাকে কতোগুলো কথা শোনাতাম। আমি ফারিহাকে বললাম এতো প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া ঠিক নয়। কখনো কখনো চুপ করে থাকতে হয়।

ফারিহা বললো তাতে লাভ কী? তুই আবার বেশিই শান্ত। শান্ত এবং সরলদের কষ্ট বেশি হয়।

আমি এইবার বললাম তুই কি বুঝিস আমার মন খারাপ? তাছাড়া ফাইয়াজের চোখে-মুখে তাকিয়ে ওকে কিছুই বলতে পারবো না। উল্টো আরো মায়া লেগে যাবে রে। জানিস তো সেই আমার প্রথম প্রেম। পৃথিবীর সবার সাথে রাগ করলেও ওর সাথে আমি পারবো না।

ফারিহা বললো, হুম বুঝি। আচ্ছা বুঝছি আর কিছু বলবো না। এটাও বুঝি এতো কিছুর পরেও তাকে তুই আজো চাস।

আমি বললাম, ফারিহা বাদ দে আমি তোকে সত্যি বলতে চাই না।

তারপর ফাইয়াজ আমার চোখের সামনের থেকে উধাও। আমি ফারিহাকে বললাম, আচ্ছা আমি ফাইয়াজকে একটা ফোন করি?

ও বললো মনকে না মানাতে পারলে ফোন কর।

আমি ফাইয়াজকে ফোন করতে বলতে চেয়েছিলাম এই এক কাপ কফি পান করবে। আর তুমি তো রান্না করে খাও চলো আজ একসাথে দুপুরের খাবার খাই। বলো কি খেতে চাও?

কিন্তু আমাদের তো বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তাতে কি বিচ্ছেদের পর ভালবাসা থেকে যায়। তখনো চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয় এই আমি তোমাকেই চাই। আরো বলতে ইচ্ছে হয় অভিমান কমিয়ে একসাথে কি থাকা যায় না? আরো বলতে ইচ্ছে তুমি ঠিক যেমন তেমনই পছন্দ। আরো বলতে ইচ্ছে হয় মনে পড়ে কি আমায়?

কতো কথা বুকে জমে থাকে। আরো ইচ্ছে হয় চলো না একসাথে কফি পান করি। আরো ইচ্ছে হয় এই তুমি কি ঠিকমতো খাবার খাওনা! তুমি বড্ড চিকন হয়ে গেছো তো। শোনো তো ঠিক মতো খাবার খাবে। মায়া ব্যাপারটা এমন কারো উপর পড়ে গেলে সেখান থেকে বের হওয়া যায় না।

কিন্তু ফাইয়াজ কল ধরেনি। আর আমার বলাটাও হয়নি।

* পাঠক ফোরাম বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা : pathok.ck@gmail.com

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়