চাঁদপুর, রোববার ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭, ২৭ শাবান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : সুশীল সমাজের ভাবনা-১০
যারা রাজনীতি করেন তারা দুঃসময়ে যেনো নেতা-কর্মীদের খবর রাখেন
------------------------শাজাহান চোকদার
মোঃ আব্দুর রহমান গাজী
১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের পরিচিত মুখ, সাবেক পৌর কমিশনার শাজাহান চোকদার। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে একজন সফল ব্যক্তি। তিনি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্ম জীবনেও অকৃপণ সময় ব্যয় করেছেন রাজনীতিতে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে চাঁদপুর সরকারি কলেজের জিএস এবং ভিপি নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি ১৯৯৬ সালে চাঁদপুর পৌরসভায় সাবেক ৪নং ওয়ার্ড (বর্তমানে এই ওয়ার্ডটি ৬, ৭ ও ৮ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত)-এ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের নিয়মিত আয়োজন 'স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : সুশীল সমাজের ভাবনা' শীর্ষক প্রতিবেদনে তার নিকট বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়। তাঁর জবাবগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো :-



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আপনার অনুভূতি কী?



শাজাহান চোকদার : আমার বর্তমানে ৬৬ বছর বয়স। আমি ১৯৬৯ সালে আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমীর নবম শ্রেণীর ছাত্র। ওই বছর আমি ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের চাঁদপুর শহর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। ১৯৭০ সালে এসএসসি পাস করি। তারপর চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হই। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লক্ষ শহীদের তাজা রক্ত, মা-বোনদের ইজ্জত হারানোর বিনিময়ে অর্জিত হয় এই লাল সবুজের বাংলাদেশ। বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে সত্যিই অনেক আনন্দের। আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের শ্রেষ্ঠ দেশের কাতারে থাকতাম। কিন্তু ঘাতকরা নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সে সুযোগ ছিনিয়ে নিয়েছে। ঘাতকরা সফল হয়নি। কথায় আছে না রাখে আল্লাহ মারে কে। আল্লাহর মেহেরবানিতে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনা আজ সারা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মডেল হিসেবে বাংলাদেশকে গড়তে নিরলস কাজ করছেন। আমি শেখ হাসিনার একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে আনন্দ বোধ করি। স্বাধীনতার পর চাঁদপুর সরকারি কলেজে ১৯৭৪-৭৫ সালে আমি ছাত্র সংসদের জিএস ছিলাম। ১৯৭৬ সালের ১৮মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাকে জেলহাজতে পাঠান। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আমাকে ১১মাস কুমিল্লা কারাগারে থাকতে হয়। পরে ১৯৭৭ সালে হাইকোর্টে রিট করে আমি জামিনে বের হই। আমি ওই বছরই বিএ শ্রেণিতে চাঁদপুর কলেজে ভর্তি হই এবং ওই বছরই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করি। তৎকালীন আমার সাথে জিএস ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৯০ সালে স্বৈরাশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। সে সুবাদে ১৯৯১ সালে আমি চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাই। পরবর্তীতে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। পরে আমি জেলা কৃষক লীগের সম্মেলনে নির্বাচনের মাধ্যমে সেক্রেটারী নির্বাচিত হই। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমার অনুভূতিগুলো বলতে পেরে সত্যি ভালোই লেগেছে।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : দেশের অগ্রগতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?



শাজাহান চোকদার : স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক হয়েছে। আমি সারাদেশ নিয়ে বলবো না। যদি চাঁদপুরকে নিয়ে বলি, সেখানে চাঁদপুরের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর এ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডাঃ দীপু মনি এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টায়। আজকে দেখেন, চাঁদপুর-হাইমচরে নদী ভাঙ্গন রোধে প্রায় ৩শ' কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ হয়েছে। চাঁদপুরে একটি মেডিকেল কলেজ হয়েছে। চাঁদপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। এমনিভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ যে সকল উন্নয়ন হয়েছে সেটা কল্পনাতীত। তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে আজকে দেশ উন্নত দেশের সাথে তাল মিলাচ্ছে। দেশের অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরো উন্নয়ন প্রয়োজন আছে। সেইসাথে ডাক্তার দীপু মনি এমপিরও প্রয়োজন আছে।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : দেশকে নিয়ে আপনার কোনো অতৃপ্তি আছে কি?



শাজাহান চোকদার : আমি এদেশের নাগরিক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সাথে মিশে ছিলাম। রাজনীতিতে বহু নাটকীয়তা হয়েছে। কিন্তু মনে অনেক অতৃপ্তি রয়েছে। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের রায় কার্যকর না হওয়ায় মনে অতৃপ্তি রয়ে গেছে। আমি চাই অনতিবিলম্বে যারা বিদেশে আছেন তাদেরকে দেশে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।



বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মবার্ষিকী পালন হলো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে আনার ব্যাপারে কোনো অতিথি কিছুই বলেনি। এখনো খুনিরা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। যেখানে খুনিদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে সেখানে এসব খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়ায় মনে অতৃপ্তি রয়েছে।



আরেকটি অতৃপ্তি আমার। সেটি হলো, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করি, শেখ হাসিনার কর্মী আমি, রাজপথে দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলনে ছিলাম, কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ অর্জন করতে পারিনি। এটি আমার জন্যে একটি বেদনাও, যাতে প্রতিনিয়ত দগ্ধ হই।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আপনি কাদেরকে বেশি স্মরণ করতে চান ?



শাজাহান চোকদার : আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই। আমি আরো স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা এদেশ পেয়েছি, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন। সেই সকল মুক্তিযোদ্ধাকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আরও স্মরণ করছি চাঁদপুরে যাঁরা রাজনীতির কর্ণধার যেমন : মরহুম আব্দুল করিম পাটোয়ারী, মোঃ শফিউল্লাহ এমপি, অ্যাডঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের যাঁদের রয়েছে ত্যাগ, তাঁদের মধ্যে সৈয়দ আবেদ মুনছুর, চন্দন পোদ্দার, হানিফ পাটোয়ারী প্রমুখ। তাঁদের প্রতিনিয়ত আমি স্মরণ করি শ্রদ্ধার সাথে।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সকলের উদ্দেশ্যে আপনার পছন্দের কিছু কথা বলুন।



শাজাহান চোকদার : রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করা। অথচ রাজনীতি হয়ে গেছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক। যারা রাজনীতিবিদ বলে দাবি করেন বর্তমান করোনাকালীন সময়ে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। রাজনীতি নিজের জন্যে নয়, দেশের মানুষের জন্যে। আমি মনে করি রাজনীতি চর্চার জন্যে একটা ওয়ার্কসপ প্রয়োজন। আমার রাজনীতির জীবনে যাকে বড় সহযোগী পেয়েছি তিনি হলেন আমার স্ত্রী নুরজাহান সেতু। তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কারণেই আজকে আমার এতোটুকু অর্জন হয়েছে। আমার তিন কন্যা। তিন কন্যাকে বিয়ে দিয়েছি। আমি সুখে আছি। তবে রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে আমার বলা, কোনো নেতা-কর্মী অসুস্থ হলে তাদের পাশে থাকা, তাদের খোঁজ-খবর নেয়া এটাও রাজনীতির একটি অংশ। আমার দুঃখ হয়, আমি ২০১৯ সালে হজ করার পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং চাঁদপুরের উল্লেখযোগ্য কিছু নেতৃবৃন্দ আমার পাশে থাকলেও অন্যরা খোঁজ-খবর রাখেন নি। আমার পরামর্শ : যারা রাজনীতি করেন তারা যেনো নেতা-কর্মীদের দুঃসময়ে তাদের খবর রাখেন।



 


এই পাতার আরো খবর -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


১৪। যখন তাহারা মু'মিনগণের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, 'আমরা ঈমান আনিয়াছি, আর যখন তাহারা নিভৃতে তাহাদের শয়তানদের সহিত মিলিত হয় তখন বলে, 'আমরা তো তোমাদের সাথে রহিয়াছি; আমরা শুধু তাহাদের সহিত ঠাট্টা-তামাশা করিয়া থাকি।'


 


 


মা এবং মায়ের মুখের ভাষা দুটোর মূল্যই সমান।


-বেঞ্জামিন হ্যারিসন।


 


 


 


 


অত্যাচার কেয়ামতের দিনসমূহ অন্ধকারের কারণ হবে।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৪,৮৫,৭৩,২৬৫
সুস্থ ৬,৬৬,৯২৭ ১২,৬৩,৬৯,২৯২
মৃত্যু ৭,৫১,৬৫৯ ৩১,৩৬,৩৮৫
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৪৩৮০
পুরোন সংখ্যা