চাঁদপুর, রোববার ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭, ২৭ শাবান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবনা-২৮
জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা যাঁদের অবদানে বাস্তবে রূপ লাভ করছে, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
---------ব্যাংকার মহসীন পাঠান
গোলাম মোস্তফা
১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মহসীন পাঠান। একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম। প্রাথমিক শিক্ষা জীবনে পরাধীনতার কথা শুনতে থাকলেও তা বুঝতে পেরেছেন নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা জীবনে এসে। টুকটাক আন্দোলনও করেন। এসএসসি পাস করে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন। কিছুদিন পর থেকে দেশের স্বাধীনতার আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ছাত্র জীবনে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশের কারণে তৎকালীন ছাত্র নেতৃবৃন্দের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ঝাঁপিয়ে পড়েন দেশমাতৃকার টানে। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পর বিজয় অর্জন করে বীরের বেশে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে শিক্ষা জীবনে প্রবেশ করেন এবং শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭৮ সালে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৫ সালে একই ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক বা এজিএম হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন।



কর্মজীবনে ব্যাংক কর্মচারীদের সংগঠন সিবিএ'র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেড়যুগ এবং কর্মচারী থেকে অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কর্মজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক অফিসার সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।



বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ব্যাংকার মহসীন পাঠান নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি শহীদ পরিবারেরও সদস্য। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহিরুল হক হলে পাক বাহিনীর হামলায় যে ৭ জন শহীদ হন তাঁর মধ্যে শহীদ আবু তাহের পাঠান তাঁর চাচা। যাঁর নামে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় রয়েছে একটি সড়ক। শুধু তাই নয়, তিনি যাঁর মেয়েকে জীবন সঙ্গী বা স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেছেন, সেই পরিবারটিও শহীদ পরিবার। তাঁর শ্বশুর শহীদ আঃ রশিদ, যিনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে ট্রাভেলিং টিকেট এগ্জামিনার (টিটিই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।



মহসীন পাঠান ২ ছেলের জনক। বড় ছেলে মাহফুজ আলম পাঠান কাতারে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের একাউন্টস অফিসার এবং ছোট ছেলে আশরাফুল আলম পাঠান সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ডেসকোতে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা।



স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে গৃহীত সাক্ষাৎকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসীন পাঠান যে বক্তব্য প্রদান করেন, তা প্রশ্নোত্তর আকারে নিম্নে তুলে ধরা হলো-



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর পঞ্চাশ বছর বেঁচে থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দেখা পেলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার অনুভূতি কেমন?



মহসীন পাঠান : বেঁচে আছি বা বেঁচে থাকবো, এটাতো কখনোই কল্পনায় ছিলো না। তারপরও যে দেশের জন্যে নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে একটি মানচিত্র ও পতাকার স্থান বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরেছি, সেই দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী দেখার অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা জানা আমার নেই।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেই স্বপ্নের সমান্তরালে দেশের অগ্রযাত্রা লক্ষ্য করছেন কি?



মহসীন পাঠান : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিলো ঘৃণ্য ঘাতকরা, সেই সময় হতাশায় ছিলাম। কিন্তু জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে। তাই আমি মনে করি, সেটি আর আমার খোলসা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : দেশকে নিয়ে আপনার কোনো অতৃপ্তি আছে কি?



মহসীন পাঠান : অতৃপ্তি বলে কোনো শব্দ নেই। তবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের যে সম্মান ও শ্রদ্ধার আবরণে আবৃত করেছেন, এজন্য তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আরো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ যাঁদের অবদানে বাস্তবে রূপ লাভ করছে, তাঁদের প্রতি।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আপনি কাকে বা কাদেরকে বেশি স্মরণ করতে চান?



মহসীন পাঠান : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় ৪ নেতা, যে সকল সহযোদ্ধাকে রণাঙ্গনে হারিয়েছি এবং যে সকল শহীদ ও যে সকল মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা, তাঁদের সকলকে স্মরণ করছি।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সকলের উদ্দেশ্যে আপনার পছন্দের কিছু কথা বলুন।



মহসীন পাঠান : শুধু বর্তমান প্রজন্ম এবং আগামী ও অনাগত প্রজন্মের কাছে আহ্বান থাকবে, আমরা স্বাধীনতা এনে দিয়েছি, ধরে রাখার দায়িত্ব আপনাদের। যার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা এসেছে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আজ আকাশচুম্বী উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দুর্নীতি কিছুটা হলেও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তাই আসুন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা দুর্নীতিমুক্তভাবে গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।



 


এই পাতার আরো খবর -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


১৪। যখন তাহারা মু'মিনগণের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, 'আমরা ঈমান আনিয়াছি, আর যখন তাহারা নিভৃতে তাহাদের শয়তানদের সহিত মিলিত হয় তখন বলে, 'আমরা তো তোমাদের সাথে রহিয়াছি; আমরা শুধু তাহাদের সহিত ঠাট্টা-তামাশা করিয়া থাকি।'


 


 


মা এবং মায়ের মুখের ভাষা দুটোর মূল্যই সমান।


-বেঞ্জামিন হ্যারিসন।


 


 


 


 


অত্যাচার কেয়ামতের দিনসমূহ অন্ধকারের কারণ হবে।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৪,৮৫,৭৩,২৬৫
সুস্থ ৬,৬৬,৯২৭ ১২,৬৩,৬৯,২৯২
মৃত্যু ৭,৫১,৬৫৯ ৩১,৩৬,৩৮৫
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৬৯২৭
পুরোন সংখ্যা