সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের পৃথক দুটি তদন্ত চলছে : পরিস্থিতি স্বাভাবিক : ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৮

শস্যের ভিতর যখন ভূত!

রেলওয়ে পিস প্লেট উদ্ধার ॥ আটক ২

গোলাম মোস্তফা
রেলওয়ে পিস প্লেট উদ্ধার ॥ আটক ২

শস্যের ভিতর এ যেনো, প্রখর যখন ভুত, সেই ভুত তাড়ানোর জন্যে কোনো ঔষধেই কাজে লাগবে না। এমনিভাবে ঘাড়ে চেপে বসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে চাঁদপুরের কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যতম রেলওয়ে জংশন চাঁদপুর রেলওয়ে বড়স্টেশন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন যাবত রেল যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। এবার রেলওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্পর্শকাতর ওয়াশপিট থেকে বেশ কিছু প্লেট চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রেল বিভাগ চাঁদপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা নড়েচড়ে বসে। ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেল কর্মকর্তাদের কানেও পৌঁছে। এক পর্যায়ে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপ সৃষ্টি করা হলে চাঁদপুর অফিসের এই বাহিনীর সদস্যরা কৌশল অবলম্বন করে প্লেট উদ্ধারে মাঠে নামে।

অনেক খোঁজাখুজির পর শহরের নতুন বাজার এলাকার মকবুলের ভাঙ্গারি দোকানে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কৌশলে বেশকিছু পিসপ্লেট উদ্ধার করে এবং দোকানীর সাথে কথা বলে পিসপ্লেট ক্রয় করা ব্যক্তিদের সন্ধান জানতে চাইলে তিনি তাদের ঠিকানা দেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দোকানীর কথা অনুযায়ী কৌশল অবলম্বন করে শহরের কাচ্চাকলোনী থেকে পিসপ্লেট চুরি করা দু যুবক কে আটক করে।

এরা হচ্ছে মনির গাজী (৩০), পিতা জলিল গাজী ও মোহন গাজী (২৮), পিতা- মৃত মতিন গাজী, উভয় সাং কাচ্চা কলোনী, চাঁদপুর।

এদের আটকের পর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উভয় চোর বলেন, আমরা সবসময় কাজ করে খাই, যখন যে কাজ পাই, সেটি করি, রেলের খালাসী চাকুরী করে আমাদের এলাকায় বাড়ি ইউনুছ পাটোয়ারী জুয়েল। আমাদের দু’জনকে বলছে, ওয়াশপিটে কিছু পিসপ্লেট পড়ে আছে। তোরা দু’জনে এগুলো রাতের বেলায় নিয়ে আসবি। তারপর বিক্রি করে তোরা অর্ধেক নিবি, আমাকে অর্ধেক দিবি। এগুলো নিয়া বিক্রি করলে অনেক টাকা পাবি।

এরপর আমরা দু’জন মিলে মোট ১৬টি পিসপ্লেট নিয়ে নতুন বাজার মকবুলের দোকানে ১১টি এবং মিশন রোডে একটি দোকানে ৫টি। এই ১৬টি মোট ৯ হাজার ৬০০টাকা বিক্রি করে আমরা তাকে ৫ হাজার টাকা দেই, আর বাকী টাকা আমরা দু’জন নিয়ে যাই।

এদিকে আটক উল্লেখিত দু’চোর জানান, জুয়েল পাটোয়ারী প্রায়ই এলাকার ছেলেদের দিয়ে রেলের বিভিন্ন মালামাল চুরি করিয়ে বিক্রি করে সে অর্ধেক নেয় বাকী অর্ধেক যারা কাজ করে তারা নেয়। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, নতুন বাজারের লোহা বা ভাঙারি ব্যবসায়ী মকবুল চাঁদপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মোঃ খোরশেদ আলমের আপন ছোট ভায়রা। তাছাড়া প্রায় দেড় যুগ যাবৎ খোরশেদ আলম চাঁদপুরে চাকুরী করায় প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রেলের মালামাল নামে-বেনামে ক্রয়ের ভুয়া রশিদ সৃষ্টি করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।

চাঁদপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসে গিয়ে চাঁদপুরের ইর্নচাজ মোঃ খোরশেদ আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মালামাল উদ্ধার, চোর আটক এগুলো চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে আমরা আগামী ২/১ দিন পর আপনাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলবো। এই মুহূর্তে কথা বলা যাবে না। আটক দু’চোরের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান। দোকানী আটকের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চাঁদপুর রেলওয়ে বড়স্টেশনে খালাসী পদে চাকুরীরত ইউনুছ পাটোয়ারী জুয়েলের সাথে মোবাইল ফোনে বহু চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পিসপ্লেট উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৬টির মধ্যে ১০টি উদ্ধার করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়