চাঁদপুর, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮, ১ রমজান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বনাম গ্রন্থাগারিকতা
তৃপ্তি সাহা
১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমি একজন গ্রন্থাগারিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমি ক্লাসে বই পড়াই না। কিন্তু খুব গর্বের সঙ্গে বলতে ভালোবাসি, আমি ভালো, সুপাঠ্য বই পড়াতে সাহায্য করি। কারণ ভালো বই, যা আপনাকে, আপনার প্রজন্মকে উন্নত, মানবিক, শুভবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্যে করে। বইগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করে একজন গ্রন্থাগারিক অর্থাৎ কি না এই আমি। পাঠকের হাতে তুলে দিই তার ভালোবাসার বইটি। কিন্তু তারও আগে বইটি আমি গ্রন্থাগারিক সংগ্রহ করি গ্রন্থাগারে। পাঠককে জানান দিই 'এই বইটি আমাদের সংগ্রহে আছে, বইটি পড়লে এ ধরনের তথ্য জানতে পারবেন'। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্যে অনেক পরিমাণে দক্ষ জনবল প্রয়োজন।



 



শিশুদের চোখের সামনে তুলে ধরি বিচিত্র সব ছবির বই। ধরুন, রঙিন ঘুড়ি বা রঙ-বাহারি প্রজাপতি বা সবুজ ঘাস বা রঙিন ফুল, হলুদিয়া পাখি। নেচে উঠে শিশুমন, জানতে ব্যাকুল হয় আরও বেশি। আর তাই শিশুমন সৃজনশীল হয়ে উঠে আরও জানার জন্যে। দেখে শিখে রঙের নাম, শিখে ফুল, মাছ, পাখির নাম ও দেখে জীবন বৈচিত্রতা।



 



ঔধসবং ইধষফরিহ আমেরিকার উপন্যাসিক। তাঁর মতে, Children have never been very good at listening to their elders, but they have never failed to imitate them. অর্থাৎ বড়দের কথা শোনার ক্ষেত্রে শিশুরা খুব বেশি দক্ষ নয়। তবে বড়দের অনুসরণ করার ক্ষেত্রে তারা কখনও ব্যর্থ হয় না। এই কথাটি আরও বেশি মনে গেঁথে গেলো যখন প্রশান্ত চক্রবর্তী নামে একজন পিতা তাঁর নিজের আত্মজ সম্পর্কেই একটি গল্প বলেন তার টাইম লাইনে। গল্পটি হলো : কাল রাতে ঘুমানোর আগে আমার মেয়ের হঠাৎ একটা প্রশ্ন, আচ্ছা বাবা বলতো 'ইতাদাকিমাসু' অর্থ কী? আমি তো মোটামুটি থতমত খাওয়ার অবস্থা, যেহেতু সে জাপানি লেখক তেৎসুকো কুরোয়ানাগির লেখা 'তোত্তোচান' (বাংলা অনুবাদ : চৈতি রহমান) বইটি পড়ছিলো তাই আমি বুঝলাম হয়তো জাপানী কোনো শব্দ হবে। আমি বললাম, না আমি পারছিনা, তুমি বলো। মেয়ে বললো চেষ্টা করো, না পারলে বলবো। মোবাইল ও বিছানার বাইরে যে google G search দিবো। এছাড়া আমিও লালনের উপর বাংলা একাডেমীর প্রকাশিত একটা বই পড়ছিলাম। আসলে মাঝে মাঝে আমার মেয়ের সাথে একটা অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে, কে কার বই আগে শেষ করতে পারে। তো অনেকক্ষণ পর আমার মেয়ে বললো বাবা পারলানা তো, তাহলে শোনো, ইতাদাকিমাসু অর্থ হচ্ছে, 'যা পেলাম তাই কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করলাম।' জাপানীরা খাওয়ার আগে এটা বলে নেয়। আমার মেয়ের চোখ-মুখের একরাশ মুগ্ধতা আমাকেও ছুঁয়ে গেলো।



 



আজ সকালবেলা যখন বাজারে যাচ্ছিলাম মেয়েটা তার জমানো টাকা; যেখানে ঈদের সময় আমার দেয়া নতুন ২০০ টাকার নোটটাও ছিলো, আমার হাতে তুলে দিয়ে বললো, বাজারে যাওয়ার সময় যতোজন রিকশাওয়ালাকে দেখবে প্রত্যেককে কিছু কিছু করে দেবে, আমি একটু অবাকই হলাম এবং বললাম, মা, কাউকে কিছু দিলে এভাবে দিতে হয় না, এমন ভাবে দিবে যেনো যাকে দিচ্ছো সে বুঝতে না পারে। মেয়ের প্রশ্ন, মানে কী? বললাম, আর একদিন বুঝিয়ে বলবো। সিঁড়ি দিয়ে নামছি আর ভাবছি 'একটি বই কীভাবে শিশু মনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে'। হয়তো 'তোত্তোচান' এমনই একটা বই।



 



গল্পটি পড়ে মনে হলো তা-ই তো এই গল্পটি আমার অনেক বেশি প্রয়োজন। একজন পিতা যখন একটি বইয়ের জাদুর কথা বলেন সেটি হৃদয় থেকেই উৎসর্গকৃত অকৃত্রিম।



 



পাঠক ভাবুন, একটি গ্রন্থাগারে ১০ জন বই পড়ছেন, কাতারে কাতারে সাজানো আছে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বই। এ রকম হাজারো বই আছে, যা পড়ে পালটে যাবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, বদলে যাবে আমাদের অসহনশীল, অশালীন আচরণ। গড়ে উঠবে আমাদের সোনার বাংলা। ভালো থাকুক বাংলাদেশ। ভালো থাকুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভালো থাকুক আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থী।



 



অতীতের প্রজ্ঞা, বর্তমানের জ্ঞান ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা করাই গ্রন্থাগারের উদ্দেশ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর 'দেখে এলাম নয়া চীন' পড়লে দেখা যাবে চীনে শিক্ষার জন্যে গ্রন্থাগার, তার প্রাণের গভীরে কীভাবে অনুরণন সৃষ্টি করেছে। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন চীনের প্রফেসর সাহেব কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থাগারের জন্যে বই সংগ্রহ করেছেন। প্রফেসর সাহেব কিন্তু সব বই সংগ্রহ করেননি। করেছেন উন্নত বই।



 



বঙ্গবন্ধু স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। অসম্ভব সুন্দর স্বপ্ন যেমন দেখতেন তেমনি ভাবেই বাস্তবায়ন করতেন। কারণ তিনি যে বই পড়া পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর পিতা তিনটি পত্রিকা বাড়িতে রাখতেন। গল্পের বই পড়ার রীতি তো ছিলোই। বঙ্গমাতার বই পড়ার খবর আমরা কে না জানি! কীভাবে বিজ্ঞ নেতাদের পাশে ফেলে বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের দিকনির্দেশনার জন্যে বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করেছেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্বনেতা বঙ্গবন্ধু।



 



বর্তমান মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি পিতার কোলে বসে পত্রিকা পড়ার কথাও জানি তারই লেখা বইয়ের মাধ্যমে। আর তাইতো একজন চিকিৎসক, সুবিতার্কিক, সুভাষিণী বহুবিধ গুণের অধিকারী হয়েও বেছে নিলেন পিতার আদর্শে কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং জীবন। প্রতিটি পদক্ষেপে যাঁকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। আর আমরা পেলাম আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষামন্ত্রী।



 



বাংলাদেশের আনন্দবিহীন শিক্ষাব্যবস্থা রবীন্দ্রনাথকে যেমন ভাবিয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকেও ভাবিয়েছে। আর তারই ফলশ্রুতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে গ্রন্থাগারকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়েছে এবং সবচেয়ে ছোট কলেজ অর্থাৎ যে কলেজে ছাত্রসংখ্যা পাঁচশ'য়ের কম এমন কলেজের জন্যে ছয়টি পদ সৃজন করেছেন। আর বড় কলেজ যেখানে ১ হাজারের উপর শিক্ষার্থী সেখানে সংখ্যায় ৯ জনের ছয়টি পদে কর্মরত জনবলের গ্রন্থাগার কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, 'সত্যি যদি আমরা গতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা চাই তবে গ্রন্থাগারের উন্নয়ন অবশম্ভাবী'। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যদিও অবকাঠামোগত কারণে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি কিন্তু গ্রন্থাগার স্থাপনের কথা গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন। কিন্তু হায়, ঘাতকের বুলেট তাঁর স্বপ্ন ছিন্নভিন্ন করে দিলো। ১৯৭৫ পরবর্তীতে বাঙালির সমস্ত প্রজ্ঞা, জ্ঞান, সুন্দর ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, যা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, তাকে মুছে দিতে যে পদক্ষেপ নিয়েছিলো, তারই ধারাবাহিকতায় কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখলো না। মেধাশূন্য বাংলাদেশ তৈরি করার সব ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হলো। যা ছিলো ১৪ ডিসেম্বরের ধারাবাহিকতায়।



 



বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে পোড়ামাটির উপর পা রেখে উন্নয়নের জন্যে কাজ শুরু করছিলেন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে। স্কুলগুলোতে একজন শিক্ষকের উপর গ্রন্থাগারের দায়িত্ব অর্পিত হলো। উদাহরণস্বরূপ চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ণিমা রক্ষিত দিদিমণির কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তাঁর উপর গ্রন্থাগারের দায়িত্ব অর্পিত হলো। সপ্তাহের একদিন গ্রন্থাগার ক্লাস হতো। সে সময় গ্রন্থাগারের উপর উচ্চতর ডিগ্রি ছিলো না। ছয় মাসের সার্টিফিকেট কোর্স আর ডিপ্লোমা চালু হয়েছিলো, তা-ও স্বল্প পরিসরে। শিক্ষক শ্রেণি অনুযায়ী ভালো সুপাঠ্য বই সংগ্রহ করতেন। বই পড়াতেন ছাত্রীদের। ভালো বই সংগ্রহ না করলে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াবে কীভাবে? তাই এই সেক্টরে যেনোতেনো লোক দিয়ে সোনার বাংলা গড়ার সুফল আসবে না।



 



বলা হয়ে থাকে কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার গ্রন্থাগার ধ্বংস করো। তাই হলো ১৯৭৫-পরবর্তীতে গ্রন্থাগারগুলকে আস্তা কুড়ে ছুঁড়ে দেয়া হলো। স্কুল-কলেজগুলো পরিসর বাড়লো, জনকাঠামোও বাড়লো। এনাম কমিটি হলো। কিন্তু স্কুল গ্রন্থাগার উধাও হয়ে গেলো। শিক্ষার্থীদের ভারী হলো পিঠের ব্যাগ। কিন্তু জ্ঞাননির্ভর সমাজব্যবস্থা কি আমরা করতে পেরেছি?



 



কলেজগুলোর গ্রন্থাগার শাখায় জনকাঠামো কমিয়ে নিচের দিকে নামিয়ে দেয়া হলো এবং ১৯৯৭ সালের পূর্বে স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো সরকারি নিয়োগ হয়নি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। পিয়ননির্ভর হলো গ্রন্থাগার সেক্টর। ফলে যা হবার তা-ই হলো।



 



বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের নির্ভরযোগ্য তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ১৯৯৭ সালে স্বল্প পরিসরে সরকারি কলেজগুলোতে সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম-ক্যাটালগার পদে প্রথম নিয়োগ শুরু হয়। যাই হোক, যে কথা বলছিলাম, শিক্ষার্থীরা শিক্ষক এবং নোটনির্ভর হয়ে উঠলো। শিক্ষাকে বাণিজ্যের বাজারে নিয়ে আসা হলো। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা লোপ পেলো। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান প্রশ্নবিদ্ধ হলো। গ্রন্থাগারের সুফলতার কথা প্রাচীনসভ্যতার কথা পড়লেই জানা যায়। বর্তমানে এ কথার সত্যতা মিলবে সর্বজনশ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের বক্তব্য থেকে। 'পাবনার জেলা স্কুলে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক, যিনি বিলেতের এডিনবারা থেকে এক বছরের জন্যে পড়ে দেশে ফেরত এসেছেন। তিনি অ্যাসেম্বলিতে ঘোষণা দিলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে বই নিয়ে পড়তেই হবে। এটি বাধ্যতামূলক। তাই হলো, এর ফলে পাবনার জেলা স্কুলের পরিবেশ কয়েক বছরের মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে পালটে গেলো। গোটা স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার পিপাসা জেগে উঠলো। স্কুল থেকে প্রতি বছর ম্যাট্রিকে স্ট্যান্ড বা স্টার মার্ক পেতে লাগলো। পুরো স্কুলটাই ইন্টেলেকচুয়াল স্কুলে পরিণত হলো। সাধারণ ফলাফল হয়ে উঠলো অসম্ভব ভালো। স্যার ফজলে হাসান আবেদ, আবু হেনা মোস্তফা হায়দার, জিয়া হায়দার সবাই এই স্কুলের প্রায় সেই সময়কার ছাত্র। তারা যেমন মেধাবী ছিলেন তেমনি হয়ে উঠলেন মানবিক। সামাজ রাষ্ট্র তাঁদেরকে সুকর্মের জন্যে মনে রাখবে যুগের পর যুগ। উল্লেখ্য, শিক্ষা-বাণিজ্য আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে ব্যথিত করেছে এবং এই করণেই তিনি শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেন। গড়ে তোলেন 'বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র'।



 



ম্যাঙ্মি গোর্কি বলেছেন, 'আমার মধ্যে উত্তম বলে যদি কিছু থাকে তার জন্য আমি বইয়ের কাছে ঋণী'। আমাদের ইতিহাস বলে, ষাটের দশকে তৎকালীন জনশিক্ষা পরিচালক (ডিপিআই) কার্যালয়ে 'এডিপিআই' পদমর্যাদার 'ওএসডি' (লাইব্রেরিজ) নামে একটি পদ সৃষ্টি করা হয়, যা বর্তমান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদের সমমান। এ পদে তৎকালীন কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রথম লাইব্রেরিয়ান এবং এদেশে গ্রন্থাগার জগতের অন্যতম দিকপাল গোল্ড মেডালিস্ট আহমাদ হোসাইনকে উক্ত পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়। তখন এডিপিআই পদটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদের সমতুল্য এবং সিনিয়র অধ্যক্ষরা (যেমন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ড. হাফেজ আহমেদ) প্রেষণে এডিপিআই পদে নিয়োগ পেতেন। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারের সংখ্যা ছিলো হাতেগোনা। ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর প্রেক্ষিতেই স্বাধীন বাংলাদেশে ডিপিআই অফিসের কলেবর বৃদ্ধি করে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ডিপিআই পদটিকে মহাপরিচালক পদে উন্নীত করা হয়। স্বাভাবিকভাবে এডিপিআই পদমর্যাদা ওএসডি (লাইব্রেরিজ) পদটিকে পরিচালক (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) পদে উন্নীত করে তার সহায়ক জনবল সৃষ্টি করা যুক্তিসংগত ছিলো।



 



বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর 'সোনার বাংলা' বিনির্মাণের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের জনসম্পদ তৈরিতে যেভাবে অক্লেশে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ফলশ্রুতিতে জ্ঞাননির্ভর সমাজ তৈরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক গ্রন্থাগারের এবং গ্রন্থাগার উন্নয়নের অন্য কোনো বিকল্প নেই।



 



রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, মহাসমুদ্রের শত বছরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, সে ঘুমাইয়া পড়া শিশুটির মতো চুপ করিয়া থাকিত। তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই গ্রন্থাগারের তুলনা হইতো। এখনে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলো কালো অক্ষরের শৃংখলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে।'



 



সর্বপ্রকার জ্ঞানকে স্থায়িত্ব দানের ইচ্ছা থেকে গ্রন্থাগারের সৃষ্টি বলেছেন কাজী মোতাহের হোসেন। আর প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, এদেশে গ্রন্থাগারের সার্থকতা হাসপাতালের চেয়ে কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে বেশি। আমার বিশ্বাস, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। সুশিক্ষিত লোক মানেই স্বশিক্ষিত। তাই আসুন গ্রন্থাগারে যাই, মানসম্পন্ন পছন্দের বই পড়ি। সর্বশেষ বর্তমান সরকার গ্রন্থাগার পেশাটিকে শিক্ষকের মর্যাদা দিয়েছেন। যেটির জন্যে আমরা অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। অবশ্য এ সরকারের হাত ধরেই এ পেশাটি আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এটি আমাদের চিরন্তন বিশ্বাস। কলেজ গ্রন্থাগারে দক্ষ জনবল বাড়বে, পদমর্যাদা এবং পদোন্নতির ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা রাখবে এটি এখন বাস্তবতা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।



 



তৃপ্তি সাহা : গ্রন্থাগার উন্নয়ন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৭। তাহাদের উপমা, যেমন এক ব্যক্তি অগি্ন প্রজ্বলিত করিল; উহা যখন তাহার চতুর্দিক আলোকিত করিল আল্লাহ তখন তাহাদের জ্যোতি অপসারিত করিলেন এবং তাহাদিগকে ঘোর অন্ধকারে ফেলিয়া দিলেন, তাহারা কিছুই দেখিতে পায় না_


 


 


নত হই ছোট নাহি হই কোনমতে।


_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/কণিকা।


নারী পুরুষের যমজ অর্ধাঙ্গিনী।


 


 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৪,৮৫,৭৩,২৬৫
সুস্থ ৬,৬৬,৯২৭ ১২,৬৩,৬৯,২৯২
মৃত্যু ৭,৫১,৬৫৯ ৩১,৩৬,৩৮৫
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২২৯৭৮৭
পুরোন সংখ্যা