চাঁদপুর, সোমবার ২৩ নভেম্বর ২০২০, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৭ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
কাঙ্ক্ষিত পরিবার গঠনে করণীয়
এইচএম জাকির
২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সুস্থ, সবল ও সুখী পরিবার সবার প্রত্যাশা। আর এজন্যে চাই সঠিক পরিকল্পনা। বিয়ের পর কখন প্রথম সন্তান নেবেন, পরবর্তী সন্তান আবার কবে নেবেন, কয়টি সন্তান নেবেন-এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে আলাপ করে জন্মবিরতিকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত সুফল বয়ে আনে। তাই স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্তগ্রহণ করে পছন্দমতো সময়ে এবং পছন্দমতো সংখ্যায় সন্তান নিতে পারেন।



 



ঘন ঘন গর্ভধারণ মা ও শিশুর জন্যে খুবই বিপদজনক হতে পারে। এতে করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘন ঘন গর্ভধারণে মা অপুষ্টিসহ নানা অসুস্থতার ভুগতে পারে এবং ঘন ঘন সন্তান প্রসবের ফলে সন্তানও অপুষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মোটকথা ঘন ঘন সন্তান নেয়ার ফলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। এজন্যে অবশ্যই স্বামী-স্ত্রী দুজনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।



 



সন্তান জন্মদানে বিরতি নিলে স্বামী ও স্ত্রীর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ কমে যায়। সন্তানসংখ্যা কম হলে সব সন্তানদের যথাযথ যত্ন নেয়া যায়। তাদের চাহিদাসমূহ সহজে পূরণ করা যায়। সংসারে সুখ, শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ বৃদ্ধি পায়। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যায়। সুস্থ গর্ভধারণের জন্যে উপযুক্ত বয়স, সময় ও বিরতির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। একজন নারীর সুস্থ গর্ভধারণের জন্যে প্রয়োজন সঠিক সময় ও দুটি সন্তানের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবধান। মায়ের স্বাস্থ্য, তার ভূমিষ্ঠ শিশু, নবজাতক ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-বুঝে পদ্ধতি নেয়ার সিদ্ধান্তগ্রহণ করা প্রয়োজন। যাতে করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে একজন দম্পতি আকাঙ্ক্ষিত পরিবার গঠন করতে পারেন। আর কাঙ্ক্ষিত পরিবার গঠনে চাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ।



 



বিয়ে পরবর্তী সময়ে সন্তান নিতে কমপক্ষে ২ বছর বিরতি দেয়া



 



গর্ভধারণের সঠিক সময় অনুসরণ করা বা মেনে চলা প্রত্যেক দম্পতির জন্যে ভালো সুফল বয়ে আনে। আর এজন্যে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের অত্যাবশ্যকিয়তা রয়েছে। অন্যথায় মায়ের স্বাস্থ্য ও সুস্থ সন্তান লাভের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। যেমন : পরিণত বয়সের (২০ বছর) আগে গর্ভে সন্তান চলে আসবে। ২০ বছর বয়সের আগে মা হওয়া স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর আগে মায়ের শরীর গর্ভধারণের জন্যে উপযুক্ত হয় না। এছাড়াও ১৮ বছর বিয়ের বয়স হলেও বিয়ে-পরবর্তী সময়ে অন্তত দুই বছর স্বামীর সংসারে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে স্ত্রী বা নববধূকে মানিয়ে নিতে হয়। নতুন পরিবারের সাথে নিজেকে খাপখাইয়ে নিতে বিয়ে-পরবর্তী অন্তত দুই বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। এজন্যে এ দুই বছর পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং নবদম্পতিকে তার পছন্দসই উপযুক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। আবার অপরিণত বয়সে বা শিশুসুলভ বয়সে বিয়ে-পরবর্তী সন্তান ধারণ করা নারীর জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মা ও শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। কম বয়সে মা হলে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে তাহলো : প্রসববেদনা দীর্ঘায়িত হয়, খিঁচুনী বা এক্লাম্পসিয়া হয়, প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ হয়, অপরিণত সন্তান জন্ম নেয়, কম ওজনের সন্তান জন্ম হয় ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিয়ে-পরবর্তী কমপক্ষে দুই বছর সন্তান নেয়া থেকে বিরতি দিতে হবে। এ সময়ে আবশ্যিকভাবে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।



 



দুই সন্তানের জন্মের মাঝে কমপক্ষে



৩ বছরের বিরতি দেয়া



 



স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ও ফুটফুটে সন্তান লাভে একটি শিশু জন্মের পর পরবর্তী গর্ভধারণ করতে চাইলে কমপক্ষে ৩ বছর অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। কমপক্ষে ৩ বছর বিরতি না দিয়ে গর্ভধারণ করলে বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যেমন : গর্ভপাত হওয়া, কম ওজনের সন্তান প্রসব হওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সন্তান হওয়া, মায়ের রক্তস্বল্পতা দেখা দেওয়া ইত্যাদি।



 



পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের পরে সন্তান না নেয়া



 



সন্তানের জীবন সুস্থ ও ভালো রাখার জন্যে একজন নারীর ৩৫ বছর বয়সের পর আর সন্তান নয়। ৩৫ বছর বয়সের পর সন্তান নিলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন : বিকলাঙ্গ বাচ্চা হওয়া, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দেয়া, মায়ের উচ্চরক্তচাপ ও খিঁচুনী হওয়া, প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ হওয়া, গর্ভপাতের সম্ভাবনা ইত্যাদি। তাই দম্পতিকে অবশ্যই পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে দম্পতির স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি বেছে নেয়াই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।



 



গর্ভপাতের পর পুনরায় গর্ভধারণের আগে কমপক্ষে ৬ মাস বিরতি দেয়া



 



গর্ভপাতের পর কমপক্ষে ৬ মাস বিরতি না দিলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন : বাচ্চা প্রসবের আনুমানিক তারিখ বা সময়ের আগেই গর্ভবতীর পানি ভাঙে যাওয়া, সন্তান কম ওজনের হওয়া, মায়ের রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়া, অপরিণত সন্তান জন্ম হওয়া ইত্যাদি। এজন্যে গর্ভপাত-পরবর্তী অন্তত ৬ মাস পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করে বিরতি নিতে হবে।



 



যারা অধিক সন্তান চায় না



 



পরিকল্পিত পরিবার গঠনে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্তানুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সন্তান নেয়ার পর স্থায়ীভাবে আর সন্তান না নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করাই হবে দম্পতিদের জন্যে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রে যে সকল দম্পতি ঠিক করেছেন আর সন্তান নিবেন না তাদেরকে অবশ্যই পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এ সময় দম্পতি স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। অথবা একাধিকবার দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি গ্রহণ করেও সন্তানধারণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। এ ক্যাটাগরির দম্পতিকে অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে নির্বুদ্ধিতা।



দেশের সচেতন নাগরিকের জন্যেও পরিবার ছোট রাখা ও এ লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের অত্যাবশ্যকীয়তা রয়েছে। অধিক জনসংখ্যার দেশ আমাদের বাংলাদেশ। আমাদের ভূমি স্থির। অর্থাৎ ভূমির কোনো বৃদ্ধি নেই। পক্ষান্তরে আমাদের জনসংখ্যা দিন দিনই বেড়ে চলছে। এ সময়ে আমরা হয়তো বাসযোগ্য ভূমি খুঁজে পাবো না। তখন দেশে ঘটবে জনসংখ্যাবিস্ফোরণ। আর জনসংখ্যাবিস্ফোরণ বাংলাদেশের জন্যে একটি অশুভ লক্ষণ। আমরা অর্থনীতিতে অনেক ধাপ এগিয়ে গেছি, এগুতে পারিনি শুধু জনসংখ্যা সীমিত রাখার বিষয়ে। আর এটি করাও একেবারে সম্ভব নয়। কারন আমাদের বংশানুক্রমিক বংশের প্রদীপ রেখে যাওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত রয়েছে। তাই আমরা পরবর্তী প্রজন্ম রেখে যাই। আমাদের পূর্ব পুরুষদের এক পরিবার থেকে আমরা বর্তমানে বহু পরিবারে রুপান্তরিত হয়েছি। এভাবেই এক থেকে একাধিক পরিবারের উৎপত্তি ঘটে। এটি বংশানুগত রেওয়াজ। কিন্তু আমাদেরকে একটু সচেতন হতে হবে। আদিম যুগে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির প্রচলন না থাকায় তখন থেকেই আমাদের পূর্ব পুরুষদের পরিবারে অধিক হারে সন্তান জন্মদানের প্রচলন ছিল। কিন্তু পঞ্চাশ দশকের পর হতে আমরা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সুবিধা পেয়ে আসছি এবং সত্তর দশকের পর হতে সরকারিভাবে ব্যাপকহারে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সুবিধা প্রচলিত হয়ে আসছে। অবশ্য আদিম কাল বা ব্রিটিশ আমল কিংবা সত্তর-আশির দশকের মত এখন আর আমরা অধিক সন্তান নিই নি। আমাদের মাঝে সচেনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতে আমরা যদি আরো সচেতন হই তবে আমরা গড়ে তুলতে পারবো একটি সুন্দর ও সুখি পরিবার, গড়তে পারবো সুন্দর বাসযোগ্য আগামীর বাংলাদেশ। এজন্যে অবশ্যই আমাদেরকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আমাদেরকে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।



 



লেখক : পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক,



চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮১-সূরা তাকভীর


২৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২১। যাহাকে সেথায় মান্য করা হয়, যে বিশ্বাস ভাজন।


২২। আর তোমাদের সাথী উন্মাদ নহে,


২৩। সে তো তাহাকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখিয়াছে,


২৪। সে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কৃপণ নহে।


 


ঘুম পরিশ্রমী মানুষকে সৌন্দর্য প্রদান করে।


-টমাস ডেককার।


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম-আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৪৭৭৪৫
পুরোন সংখ্যা