চাঁদপুর, সোমবার ২৩ নভেম্বর ২০২০, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৭ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার : ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ
রোগীদের চিকিৎসা নিতে বিদেশ যেতে দেখলে আফসোস হয়
২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


তরুণ চিকিৎসক ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ। তিনি চাঁদপুরের সন্তান। চিকিৎসক হিসেবে চাঁদপুরের মানুষকে সেবা দিচ্ছেন। তিনি মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত। গত ২২ নভেম্বর দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের চিকিৎসাঙ্গন বিভাগের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় তিনি চাঁদপুরের চিকিৎসাব্যবস্থার সার্বিক দিক এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতির কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল-আমিন হোসাইন।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : কেমন আছেন?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে কোথায়?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এবং গাজীপুরে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাই।



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : আমি প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করি মতলবের নাওভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর মাধ্যমিক পড়াশোনা করি গাজীপুরের চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে ঢাকার তেজগাঁওস্থ সরকারি বিজ্ঞান কলেজ পড়াশোনা করি এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি। এফসিপিএস অর্থোপেডিঙ্ েপার্ট-ওয়ান করা আছে।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চিকিৎসক হওয়ার ভাবনাটি সূচনা হলো কীভাবে?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : চিকিৎসক হওয়ার পেছনে আমার পরিবারের সিদ্ধান্ত ছিলো। প্রথমে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে আমার ছিলো না। আমার ইচ্ছে ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ভালো বিষয়ে পড়াশোনা করবো। কিন্তু আমার পরিবার চেয়েছে আমি যেনো চিকিৎসক হই। ভেবে দেখলাম, চিকিৎসক না হলে আমার পরিবারকে ঠকানো হচ্ছে।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চিকিৎসক হিসেবে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলুন।



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : চিকিৎসক হিসেবে যখন ইন্টার্নি করছি তখন একজন রোগী আসলেন। তার অনেকদিন ডায়াগনোসিস হচ্ছিলো না। আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর রোগীর ডায়াগনোসিস হলো। এটাই ছিলো চিকিৎসক হিসেবে আমার প্রথম দিনের ভালো লাগা।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুরে যোগদান করেছেন কবে?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর চাঁদপুরে যোগদান করি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুরের চিকিৎসাব্যবস্থার সার্বিক দিক নিয়ে কিছু বলুন।



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : আমি মনে করি অন্যান্য জেলার তুলনায় চাঁদপুরের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক ভালো। চাঁদপুরে একটি বড় সুবিধা হলো এখানে চিকিৎসক সঙ্কট নেই। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অনেক রোগী চাঁদপুরে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। চাঁদপুরে অনেক ল্যাব গড়ে উঠেছে। যদিও সবগুলো ল্যাব মানসম্পন্ন নয়। তবুও কিছু ল্যাব আছে যেগুলো মানসম্পন্ন। আমি বলবো, একটি জেলা শহর হিসেবে চাঁদপুরের চিকিৎসাব্যবস্থা আরও ভালো অবস্থায় যাওয়ার সুযোগ আছে।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার কাছে কোন্ ধরনের রোগী বেশি আসে?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : আমি সাধারণত অর্থোপেডিঙ্রে রোগীই বেশি দেখি। এছাড়াও মেডিসিনের প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীগুলোও দেখি। হাড়ভাঙ্গা, দীর্ঘমেয়াদী জয়েন পেইন, ঘাড় ব্যথা, কোমড় ব্যথা এবং হাঁটু ব্যথা এসব রোগী দেখি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : রোগীদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কি?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : আমরা সবাই খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু করে ফেলতে চাই। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি অসুখ একদিনে হয় না। অসুখ হতেও সময় লাগে আবার ভালো হতেও সময় লাগে। সেক্ষেত্রে রোগীকে ধৈর্য ধরতে হবে। রোগীদের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো আপনারা ধৈর্য ধরুন। চিকিৎসক যেভাবে পরামর্শ দেন সে অনুসারে চলতে হবে। আসলে সবকিছু তো ওষুধ দিয়ে ভালো হয় না। অনেক কিছু নিয়মকানুনের উপর নির্ভর করে। ধরুন, আমি কোমড় ব্যথার রোগী দেখি। কোমড় ব্যথার রোগীদের প্রধান চিকিৎসা কিন্তু লাইফস্টাইল মোডিফিকেশন। ওষুধের চেয়েও কিন্তু নিয়মকানুন মানতে হবে। নিয়মকানুন না মানলে ওষুধ খেয়ে কোনো লাভ হবে না।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চিকিৎসাজীবনের একটি সুখের এবং একটি দুঃখের স্মৃতির কথা বলুন।



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : আমার এই ক্ষুদ্র চিকিৎসাজীবনে সুখের স্মৃতি অনেক। আমি প্রথমেই বলেছি, একজন রোগীর পাঁচ বছর যাবত ডায়াগনোসিস হচ্ছিলো না। আমি রোগীটির রোগ নির্ণয় করেছিলাম। পরবর্তীতে তিনি ভারতে গিয়ে কেমোথেরাপি নিয়ে একবছরের মধ্যে সুস্থ হন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান। রোগীটি সুস্থ হওয়ার পর যে হাসিটা দিয়েছেন সেটাই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় আনন্দের স্মৃতি।



ব্যক্তিজীবনে আমার কোনো দুঃখের স্মৃতি নেই। তবে আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থার সার্বিক দিক নিয়ে আমার মনে দুঃখের স্মৃতি আছে। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা আরও ভালো হওয়ার কথা। কারণ যখন দেখি রোগীদের চিকিৎসা নিতে ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর যেতে হচ্ছে তখন আফসোস হয় কেনো আমাদের দেশে এসব ব্যবস্থা নেই। কেনো তারা আমাদের দেশে চিকিৎসা নিতে পারছে না। কেনো এতো কষ্ট করে দেশের বাইরে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, একটা সময় এসব পরিস্থিতি থাকবে না।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে কী কী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবা দেয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোর যে অবস্থা তাতে চিকিৎসক বা বেডের তুলনায় রোগী বেশি। তাই চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। একদিনে সর্বোচ্চ ১৫-২০ জন রোগী দেখার কথা থাকলেও আমাদের গড়ে ৫০-১০০ জন রোগী দেখতে হয়। আমাদের আরও লোকবল বাড়ানো উচিত। চিকিৎসক, হাসপাতাল, সাপোর্টিং স্টাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের একটি অভিযোগই শুনি, রোগীরা বলেন-'চিকিৎসক তাদের ঠিকমতো সময় দেয় না'। কোনো চিকিৎসকই কিন্তু চাচ্ছেন না, রোগীদের খারাপ হোক। সবাই চায় রোগী ভালো হোক।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলে প্রথম যে তিনটি কাজ করতেন?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছে আমার নেই। যদি হই তাহলে অবশ্যই স্বাস্থ্যব্যবস্থাটাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করবো। আমার দায়িত্ব হবে চিকিৎসকরা চিকিৎসকের কাজ করবে, রোগীরা রোগীদের কাজ করবে। শুধুমাত্র চিকিৎসক কাজ করলেই যে রোগী ভালো হবে যাবে এমনটা কিন্তু নয়। চিকিৎসক হলেন চিকিৎসাব্যবস্থার একটি অংশ-মাত্র। হাসপাতাল, রোগী, চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ-সুবিধা এ সবকিছু মিলেই আসলে চিকিৎসাব্যবস্থা। এগুলো সব একসাথে পরিচালনা করার চেষ্টা করবো।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : রোগমুক্ত জীবনযাপন করতে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : রোগমুক্ত জীবনযাপন আমাদের সবার জীবনের একটি প্রত্যাশা। এজন্যে আমাদের সচেতন হতে হবে। ডায়েট এবং ব্যায়াম করতে হবে। আমাদের খাদ্যাভাস সীমিত করতে হবে। যথাযথ খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড, ফ্যাট যতোটুকু পরিমাণ খেতে হয় ততোটুকু খেতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে। ব্যস্ত জীবন কাটাতে কাটাতে আমাদের ভেতরে একঘেয়েমী চলে আসছে। আমরা শারীরিক পরিশ্রম করতে চাচ্ছি না। সেক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং প্রেসারের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় এতো ডায়াবেটিস এবং প্রেসারের রোগী ছিলো না। সেক্ষেত্রে আমরা যদি সচেতন হই, খাদ্যাভাস এবং ব্যায়াম করি তাহলে রোগমুক্ত জীবনযাপন সম্ভব।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : অবসরে কী করেন?



ডাঃ মোঃ ইছারুহুল্লাহ : অবসরে পরিবারের সাথে সময় কাটাই। ঘুরতে যাই।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮১-সূরা তাকভীর


২৯ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২১। যাহাকে সেথায় মান্য করা হয়, যে বিশ্বাস ভাজন।


২২। আর তোমাদের সাথী উন্মাদ নহে,


২৩। সে তো তাহাকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখিয়াছে,


২৪। সে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কৃপণ নহে।


 


ঘুম পরিশ্রমী মানুষকে সৌন্দর্য প্রদান করে।


-টমাস ডেককার।


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম-আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১১০০০৫১
পুরোন সংখ্যা