চাঁদপুর, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৭-সূরা মুর্সালাত


৫০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১। শপথ কল্যাণস্বরূপ প্রেরিত বায়ুর,


২। আর প্রলয়ংকরী ঝটিকার,


৩। শপথ সঞ্চালনকারী বায়ুর


৪। আর মেঘপুঞ্জ বিচ্ছিন্নকারী বায়ুর,


৫। এবং শপথ তাহাদের যাহারা মানুষের অন্তরে পেঁৗছাইয়া দেয় উপদেশ-


 


 


আমাকে সামান্যই ভালোবাস, কিন্তু তা যেন দীর্ঘদিনের জন্য হয়।


-জন হে উড।


 


 


প্রত্যেক কওমের জন্য একটি পরীক্ষা আছে এবং আমার উম্মতদের পরীক্ষা তাদের ধন-দৌলত।


 


ফটো গ্যালারি
স্বপ্নপূরণে হৃদ্পিণ্ড ব্যবহার করুন
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের শরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে হৃদ্পি-। হৃদয়হীন মানুষ যেমন অসম্ভব তেমনি হৃদ্পিণ্ডের সচলতাবিহীন মানুষের জীবনও অকল্পনীয়। বেঁচে থাকতে হলে হৃদ্পি- নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।হৃদ্পিণ্ডের যত্ন ও হার্ট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব হার্ট ফাউন্ডেশন একটি দিবস উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০০০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয় এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত ২৪ সেপ্টেম্বরই বিশ্ব হার্ট দিবস বহাল থাকে। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তায় অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে। গত বছর বিশ্ব হার্ট দিবসের সস্নোগান ছিলো 'মাই হার্ট ইওর হার্ট'। এবারের সস্নোগান হচ্ছে 'ইউজ ইওর হার্ট টু ফুলফিল ইওর ড্রিমস।' স্বপ্নপূরণেহৃদ্পিণ্ডের ব্যবহার।হৃদ্পিণ্ডের স্বাস্থ্যকর ব্যবহারেই মানুষ সুস্থ থাকে এবং দীর্ঘজীবী হয়। ফলে তার স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়ে ওঠে। বাঁচতে হলে নিজের হৃদ্পি- নিয়ে ভাবতে হবে। নিজের হৃদ্পি-কে জানতে হবে।



 



হৃদ্পি- কী?



হৃদ্পি- হচ্ছে এক ধরনের ফাঁপা পেশি ও তন্তুবহুল রক্ত পাম্পকারী অঙ্গ যা আমাদের বুকের গহ্বরে দুই লাংসের মাঝখানে মিডল মেডিয়াস্টিনাম নামে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান করে। হৃদ্পি-কে আবৃত করে থাকে দুই স্তরবিশিষ্ট পেরিকার্ডিয়াম নামের পাতলা পর্দা। পেরিকার্ডিয়ামের দুই স্তরের মাঝখানে সামান্য তরল জলীয় অংশ থাকে যাহৃদ্পিণ্ডের গায়ে আঘাত লাগতে বাধা দেয়।



হৃদ্পি- হৃদ্পেশির সমন্বয়ে গঠিত তিন স্তরবিশিষ্ট অঙ্গ। বাইরের স্তর, মাঝখানের স্তর মায়োকার্ডিয়াম বা পেশিস্তর এবং ভেতরের স্তর হলো এন্ডোকার্ডিয়াম।হৃদ্পিণ্ডের চারটি চেম্বার বা প্রকোষ্ঠ আছে যথাক্রমে ডান অলিন্দ, ডান নিলয়, বাম অলিন্দ, বাম নিলয়। হৃদ্পি- সারাদেহ হতে সুপিরিয়র এবং ইনফেরিয়র ভেনাক্যাভার মাধ্যমে (অর্থাৎ ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা) কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে সংগ্রহ করে এবং তা ডান নিলয় হয়ে ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে লাংসের বায়ুথলিতে পাঠায় যেখানে প্রশ্বাস বায়ুতে বিদ্যমান অক্সিজেন রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয় এবং রক্তের কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃশ্বাস বায়ুর মাধ্যমে দেহের বাইরে প্রক্ষিপ্ত হয়। বায়ুথলি হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিযুক্ত এবং অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে চলে আসে হার্টের বাম অলিন্দে এবং অতঃপর বাম নিলয় হয়ে মহাধমনির উপরিভাগের মাধ্যমে বক্ষগহ্বর ও মস্তিষ্কে চলে যায় এবং নিম্নভাগের মাধ্যমে উদর ও নিম্নাংশে সরবরাহিত হয়।



সুস্থ-সবল হার্ট যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত দেহের অন্যান্য অঙ্গে সঞ্চালিত হয়। আবার যখন প্রসারিত হয় তখন হার্ট নিজে রক্ত সরবরাহ লাভ করে। হার্টের এ রকম একবার সংকোচনকে বলে সিস্টোল এবং একবার সংকোচনকে বলে ডায়াস্টোল। সিস্টোলের সময় হার্টের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াস্টোলের সময় হার্টের রক্তচাপ কমে আসে। সিস্টোলকালীন হার্টের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১১০-১৪০ মিলি মিটার মার্কারি বা পারদের চাপের সমান এবং ডায়াস্টোলকালীন হার্টের রক্তচাপ হয় ৬০-৯০ মিলিমিটার মার্কারি বা পারদের চাপের সমান।



পুরুষেরহৃদ্পিণ্ডের স্বাভাবিক ওজন ৩০০ গ্রাম এবং নারীরহৃদ্পিণ্ডের স্বাভাবিক ওজন ২৫০ গ্রাম। একটি স্বাভাবিক সুস্থ হার্ট প্রতি মিনিটে ৬০-৯০ বার বিট করে বা স্পন্দিত হয়।



 



হৃদ্পি-ের রোগসমূহ :



 



* উচ্চ রক্তচাপ



*হৃদ্পিণ্ডের রক্তনালীতে চর্বি জমা হয়ে ছিদ্রের আয়তন কমে যাওয়া ও তৎপরবর্তী অংশে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়া



* হার্টের পেশিস্তরে অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ ঘাটতির কারণে পঁচন ধরা



* চর্বির দলা ছুটে হার্টের ছোট ছোট রক্তনালীর পথ আটকে দেয়া



* হার্ট তার ওপর অর্পিত রক্ত পাম্প করার দায়িত্ব ফেল করা বা হার্ট ফেইলিওর হওয়া



* হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের পেশিস্তরে অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহে ঘাটতি হওয়াজনিত কারণে হার্টের থমকে যাওয়া



* হার্টের ভাল্ব নষ্ট হয়ে যাওয়া



* হার্টের অলিন্দ-নিলয়ের পর্দায় ছিদ্র হওয়া



* হার্টের ভাল্বে জীবাণুর সংক্রমণ হওয়া



* হার্টের কতিপয় জন্মগত ত্রুটি



* জন্মগত ত্রুটির কারণে দেহের ডানদিকে হার্টের অবস্থান হওয়া



* হার্টের রক্তনালী বুঁজে আসা



* হার্টের কলেবর বৃদ্ধি বা হাইপারট্রফি (বেশ কিছু কারণে)



* পেরিকার্ডিয়ামের ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ



* ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণজনিত হার্টের ভেতরের স্তরের সংক্রমণ



* হার্টের তাল বা রিদম নষ্ট হওয়া



* হার্টের স্নায়ু সংবেদন বিকল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।



 



হার্টের স্পন্দন বাড়ে কখন



 



* রক্তস্বল্পতায়



* আতংক বা ভয়-ভীতিতে



* শারীরিক ব্যায়ামের পর



* গর্ভাবস্থায়



* জ্বর বা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে



* স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবনে



 



হার্টের স্পন্দন হ্রাস পায়



 



* পলিসাইথেমিয়া বা রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা ও হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে



* রক্তের ভলিউম বা আয়তন কমে গেলে



* শক



* নিদ্রা বা বিশ্রামকালীন



* হাইপোথার্মিয়ায়



 



হার্টের যত্নের উপায়



 



* স্বাস্থ্যকর অভ্যাস : নিয়মিত বিশ্রাম। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর বিনোদন ও মানসিক প্রফুল্লতা। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়ানো। দৈনিক ছয়-সাত ঘণ্টা নিদ্রা।



* স্বাস্থ্যকর আহার : তেল-চর্বিজাতীয় খাবার কম খাওয়া। রেড মিট বর্জন। ভাতের পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী গ্রহণ করা। সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক মাছের তেল আহার করা। পর্যাপ্ত সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি এবং তাজা ফল আহার করা। সুষম খাদ্য বা ব্যালেন্সড্ ডায়েট গ্রহণ।



* কুঅভ্যাস ত্যাগ : ধূমপান বর্জন। অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদক এড়িয়ে চলা। উত্তেজনা ও রাগ পরিহার করা। রাত না জাগা, দেরি করে ঘুম থেকে না ওঠা।



* শারীরিক ব্যায়াম : দৈনিক তিরিশ মিনিট হাঁটা।



* দৈহিক স্থুলতা রোধ করতে হবে।



* ব্যথার ঔষধ দীর্ঘমেয়াদী সেবন না করা।



* রক্তচাপ ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।



 



হার্টের রোগের লক্ষণ



 



* অল্প হাঁটলে শ্বাসকষ্ট হওয়া



* বুকের বামদিকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। চিকন ঘাম দেয়া। বুকের ব্যথা বাম হাতের দিকে প্রসারিত হওয়া।



* বুকে জ্যাম জ্যাম লাগা। নাকের আগা, কানের লতি, জিভের ডগা, হাতের তালু নীলচে হয়ে যাওয়া।



* বুকে ক্রমাগত কেউ চেপে রেখেছে মতো ব্যথা বোধ হওয়া।



* কথা বলতে কষ্ট হওয়া।



* হৃদস্পন্দন ড্রপ হয়ে যাওয়া।



 



হার্ট ও কোভিড-১৯



 



দু হাজার কুড়ি সালের এ কোভিড-১৯ নামক বিশ্বমারীর কালে দেখা গেছে, যারা হৃদ্রোগে আগে থেকে আক্রান্ত তাদের কোভিড সংক্রমণে মৃত্যুর হার বেশি। কেননা, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের তীব্রতায় ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যায় এবং মানুষ মারা যায়। অর্থাৎ হার্ট ডিজিজ কোভিডের একটা কোমর্বিডিটি। কাজেই কোভিডকালীন নিজেকে নিরাপদ রাখতেও হার্টের যত্ন নেওয়া জরুরি।



মানুষ মাত্রেই নানাবিধ স্বপ্ন থাকে। এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব যদি একটি সুস্থ হার্ট আপনার থাকে। বর্তমানে হৃদ্রোগ হচ্ছে মৃত্যুর শীর্ষ কারণ। হার্ট ভালো থাকলে জীবনও সুস্থ গতিতে চলমান থাকে। সুস্থ হার্টের মাধ্যমেই স্বপ্নপূরণের শারীরিক সক্ষমতা তৈরি হয়। কাজেই হার্টের যত্ন নিন এবং 'Use heart to fulfill your dream' এই সস্নোগানকে অর্থবহ করে তুলুন।



 



 



* চিকিৎসাঙ্গন বিভাগে লেখা পাঠানোর ই-মেইল : into.alamin@gmail.com



 



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৮৭,২৯৫ ৩,৯৬,৩৮,১৮৮
সুস্থ ৩,০২,২৯৮ ২,৯৬,৭৮,৪৪৬
মৃত্যু ৫,৬৪৬ ১১,০৯,৮৩৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৭৭৯১
পুরোন সংখ্যা