চাঁদপুর, সোমবার ৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ১৪ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৫। তোমরা কি লক্ষ্য কর নাই আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টি করিয়াছেন সপ্তস্তরে বিন্যস্ত আকাশম-লী?


১৬। এবং সেথায় চন্দ্রকে স্থাপন করিয়াছেন আলোরূপে ও সূর্যকে স্থাপন করিয়াছেন প্রদীপরূপে;


 


মহৎ মানুষেরা বিধাতার কল্পনার চমৎকার ফসল।


-পি জে বেইলি।


 


 


 


প্রত্যেক কওমের জন্য একটি পরীক্ষা আছে এবং আমার উম্মতদের পরীক্ষা তাদের ধন-দৌলত।


 


 


ফটো গ্যালারি
হ্যাপি হাইপোক্সিয়া
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রহস্যময়ী করোনার রহস্যময় আচরণ দিনকে দিন বিচিত্র মাত্রায় প্রকাশিত হয়ে উঠছে বিশ্ববাসীর কাছে। করোনাকে নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রীতিমত হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে তার স্বরূপ সম্পর্কে অধ্যয়নে। তাই তারা সকালে এক তথ্য দিলে বিকেলে আবার নিজেরাই তা পাল্টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। অর্থাৎ সকালে যা বিকেলে একেবারেই তার ইউ টার্ন। এ থেকে বুঝা যায় করোনা সম্পর্কে জ্ঞান এখনও মানুষের সম্পূর্ণ হয়নি। এরই মাঝে নতুন একটা করোনাকালীন পরিভাষা চিকিৎসকদের ঘাম ছুটিয়ে মারছে। এর নাম 'হ্যাপি হাইপোক্সিয়া'।



সমপ্রতি আপাতভাবে দেখতে সুস্থ হলেও কেউ কেউ হঠাৎ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসব করোনা উপসর্গবিহীন মৃত্যুকে অটোপ্সি করে দেখা গেলো তাদের মৃত্যু করোনাজনিত হাইপোক্সিয়াতে হয়েছে। এ পরিভাষাটি এখন সারাবিশ্বের এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।



 



হাইপোক্সিয়া কী :



হাইপোক্সিয়া মূলত দেহের ভেতর টিস্যু লেভেলে অঙ্েিজন প্রাপ্যতার সঙ্কটকেই বুঝানো হয়। এই সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদী হলে কতিপয় উপসর্গ প্রকাশ পায়। দেহে স্বাভাবিক মাত্রায় যে অঙ্েিজন সরবরাহ প্রয়োজন তার চেয়ে কম সরবরাহই হাইপোক্সিয়া তৈরি করে। এতে দেহে অঙ্েিজনের পরিমাণ ঘাটতির পাশাপাশি কার্বন ডাই-অঙ্াইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং টিস্যু লেভেলে কার্বন মনো-অঙ্াইডের ঘনত্ব বেড়ে যায়। একে তখন সায়ানোসিস নামে অভিহিত করা হয়। ফলে জিভের বর্ণ, কানের লতির বর্ণ, হাতের আঙুলের মাথা, নখের বেড, পায়ের আঙুলের মাথা, হাতের তালুর কররেখা ইত্যাদি নীলচে বর্ণ ধারণ করে যা দ্বারা বুঝা যায়, দেহে অঙ্েিজন ঘাটতি তীব্র হয়েছে এবং কার্বন ডাই-অঙ্াইড ও কার্বন মনো-অঙ্াইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি বমি করে, চোখে ঘোলা দ্যাখে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, মাথা ঘুরায় ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।



 



হাইপোক্সিয়ার ধরন :



চার ধরনের হাইপোক্সিয়ার কথা জানা যায়। প্রথমত হাইপোঙ্কি হাইপোক্সিয়া যা পরিবেশে অঙ্েিজন ঘাটতি হলে হতে পারে। যেমন : কোন পর্বত আরোহী বা ডুবুরি বা কোন ফায়ার ফাইটার যদি আগুন নেভাতে গিয়ে ধোঁয়ার তীব্রতায় হাইপোক্সিয়াতে ভোগে তবে তাকে হাইপোঙ্কি হাইপোক্সিয়া বলে।



দ্বিতীয় প্রকারহাইপোক্সিয়া হলো অ্যানিমিক হাইপোক্সিয়া। অর্থাৎ শরীরে রক্ত স্বল্পতার দরুণ লোহিত রক্ত কণিকা কমে গেলে বা লোহিত রক্ত কণিকা অঙ্েিজন পরিবহনে অসমর্থ্য হলে তখন অ্যানিমিক হাইপোক্সিয়াহয়। করোনাজনিত হ্যাপি হাইপোক্সিয়ামূলত অ্যানিমিক হাইপোক্সিয়া। কেননা, করোনাভাইরাস রক্তের লোহিত রক্ত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিনের অঙ্েিজন বহনকারী প্রোটিনের সাথে আটকে যায়। এতে রক্তের লোহিত কণিকার পক্ষে অঙ্েিজনকে প্রোটিনের সাতে আটকে বহন করা সম্ভব হয় না। এতে টিস্যু লেভেলে অঙ্েিজন পেঁৗছায় না। পরন্তু করোনাভাইরাস কর্তৃক রক্তকে দলা পাকানো বা জমাট বাঁধানোর কারণে ফুসফুসস্থিত ছোট ছোট রক্তনালীগুলো আটকে যায়। এতে রক্তের পক্ষে জমাটবাঁধা চাকার ওই পাশ্র্বে অঙ্েিজন পরিবহন করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণে ধীরে ধীরে দেহে সায়ানোসিস এর অবতারণা ঘটে। ফলে লক্ষ্মণহীন করোনাক্রান্ত আপাত সুস্থ মানুষ অঙ্েিজনের অভাবে মৃত্যুবরণ করে তাৎক্ষণিক।



হাইপোক্সিয়া আর দুটো টাইপ হলো স্ট্যাগন্যান্টহাইপোক্সিয়াএবং হিস্টোটঙ্কি হাইপোক্সিয়া।



হ্যাপি হাইপোঙ্য়িায় মৃত্যুর কারণ :



প্রথমত উপসর্গবিহীন থাকার কারণে হ্যাপি হাইপোঙ্য়িায় আক্রান্ত ব্যক্তি দৌড়-ঝাঁপ, হাঁটা-চলা অবারিত রাখে। এতে শরীরের অঙ্েিজন চাহিদা আরো বাড়ে।



দ্বিতীয়ত করোনাভাইরাসের কারণে ফুসফুসের মাইক্রো বস্নাড ভেসেলে রক্ত জমাট বেঁধে যায় ও তৎপরবর্তী অংশে অঙ্েিজন সরবরাহ স্থগিত হয়ে যায়। ফলে হাইপোঙ্য়িা দেখা দেয় ও অর্গ্যান ফেইলিওর তৈরি হয়।



তৃতীয়ত করোনাভাইরাস কম্পিটিটিভ অ্যান্টাগনিজমের মাধ্যমে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার অঙ্েিজন বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি কমিয়ে দেয়। এতেও টিস্যু লেভেলে অঙ্েিজন কম পরিবাহিত হয় ও হ্যাপি হাইপোঙ্য়িা দেখা দেয়।



এ সমুদয় কারণে উপসর্গবিহীন করোনাক্রান্তরা হঠাৎ করে হ্যাপি হাইপোঙ্য়িাতে মারা যায়।



 



হ্যাপি হাইপোঙ্য়িা প্রতিরোধে করণীয় :



কার কখন হ্যাপি হাইপোঙ্য়িা হবে তা আগাম নির্ধারণ করা কঠিন। তবে যারা কেভিড পেশেন্ট বা সাসপেক্টেড কেভিড পেশেন্টের সংস্পর্শে আসেন তারা উপসর্গ না থাকলেও বুকের এঙ্রে, সিআরপি, প্লাজমা ফেরিটিন লেভেল, সিবিসি পরিক্ষাগুলো করে নেয়া বাঞ্ছনীয়। এর মাধ্যমে বুকে নিউমোনিক চেইঞ্জ সনাক্ত হতে পারে। রক্তে প্রাজমা ফেরিটিন লেভেল বৃদ্ধি পেলে, সিআরপিতে ফলাফল চবি্বশ এর অধিক হলে, রক্তের শ্বেত কণিকার মান স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে বুঝতে হবে তিনি কোভিডে আক্রান্ত। এরপর সেই মোতাবেক চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হয়ে যাবেন।



করোনা রোগী বা সাস্পেক্টেড করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা উপসর্গহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ডোজ ওজন সাপেক্ষে ইনঙ্াপেরিন সোডিয়াম নাভির আশেপাশে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এটি অগ্রিম সতর্ক চিকিৎসা বলে বিবেচিত যা রক্তকে দলা পাকানো হতে রক্ষা করে।



নিয়মিত শ্বাসতন্ত্রের ব্যায়াম ও ইমিউনিটি বৃদ্ধিকারী খাবার গ্রহণ বাড়াতে হবে। নিজের লাইফস্টাইলে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। ধূমপান বর্জন করে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে।



সর্বোপরি মুখে মাস্ক পরিধানের কোন বিকল্প নেই।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,২৩,৪৫৩ ১,৬২,২০,৯০০
সুস্থ ১,২৩,৮৮২ ৯৯,২৩,৬৪৩
মৃত্যু ২,৯২৮ ৬,৪৮,৭৫৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৪৬৪৬
পুরোন সংখ্যা