চাঁদপুর, সোমবার ১৮ মে ২০২০, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৪ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
করোনাভাইরাস প্রেক্ষাপটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা
ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
১৮ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিশ্বে মহামারী আকারে দেখা দেয়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ, করণীয় এবং এতদসংক্রান্ত পূর্বাপর লক্ষণগুলোর রোগীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ে সময়ের প্রয়োজনে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও ইতিকথা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।



করোনাভাইরাস সংক্রমণ এখন একটি আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি বিধায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাকে মহামারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাংলাদেশ সরকারও করোনাভাইরাস মহামারী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে যথাপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত কার্যক্রমের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।



করোনাভাইরাস সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ না থাকায় রোগীকে আইসোলেশনে বা কোয়ারেন্টিনে রেখে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। নভেল করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মোতাবেক প্রতিরোধ কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরামর্শ, স্বাস্থ্য বিধিবিধান, নিয়মাবলি পালন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো কার্যকর হিসেবে প্রতীয়মান।



১। মাস্ক পরা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।



২। হাত দিয়ে নাক, চোখ ও মুখ স্পর্শ না করা।



৩। নিয়মিত শরীরে তাপমাত্রা পরিমাপ করা।



৪। কুসুম গরম পানি পান করা ও গড়গড়া করা।



৫। জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।



৬। জনসমাগম এড়িয়ে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজা রাখা।



৭। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করা।



৮। স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা।



তাছাড়া করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য ভাইরাস ও ক্যাকটেরিয়ামুক্ত জীবন-যাপনের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের প্রতি গুরুত্ব দেয়া অতীব জরুরি। যা আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশঅল করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম।



১। নিয়মিত কম-বেমি ব্যায়াম করা এবং কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা চলা করা।



২। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম গ্রহণ করা।



৩। ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা।



৪। বেশি বেশি ভিটামিন সি ও জিংকসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।



৫। কার্বহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিহার করা।



৬। প্ল্যান্ট ও এনিম্যাল প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা।



৭। মুগ ও মসুর ডাল মেশানো খিচুড়ি খাওয়া যেতে পারে।



 



করোনাভাইরাস বা মহামারী রোগ প্রতিরোধ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :



বিশ্ব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রচলতি চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয় প্রয়োজন। ডাঃ হ্যানিম্যান কর্তৃক ১৭৯০ সালে জার্মানিতে হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা আবিষ্কার হলেও আমাদের এই উপমহাদেশের হোমিওপ্যাথির আগমন ঘটে ১৮৩৯ সালে ডাঃ জন মার্টিন হোনিগবার্গারের আগমনে। তৎকালীন ভারতবর্ষের পাঞ্জাবে এবং পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহর হয়ে আমাদের এ অঞ্চলে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তৃতি ঘটে। আজ হোমিওপ্যাথি বিশ্ব মানুষের নিদানকালের বন্ধু। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল ও মহামারী রোগে এই চিকিৎসাপদ্ধতি দ্বারা বৃহত্তম জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছে। নিরাপদ, সুলভ, স্বল্পমূল্য, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও গ্রহণযোগ্য কার্যকারিতার কারণে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসহ বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিস্তার লাভ করেছে।



হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থা। ডাঃ হ্যানিম্যান, চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিসের 'Like Cures Like', 'a minimum number of medicine' ত্বত্তের সঙ্গে minimum dose, individuali“ed medicine, concept of vital force, doctrine of dynami“ation of medicinal substance তত্ত্ব যুক্ত করে হোমিওপ্যাথিকে সবার সামনে তুলে ধরেন। হোমিওপ্যাথিতে রোগীর সার্বদৈহিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়ে থাকে। একজন রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য পরিপূর্ণ রোগবৃত্তান্ত গ্রহণ করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়ে থাকে। কোনো একটি মহামারী রোগের লক্ষণগুলো ওই এলাকা বা অঞ্চলে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কমবেশি একই রকম হয়। পরিপূর্ণ কেস গ্রহণের পর যদি বেশ কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে একই ওষুধ নির্বাচিত হয়, তা হলে ওষুধটিকে ওই ভৌগোলিক এলাকার জন্য নির্ধারিত ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।



জেনাস এপিডেমিকাস Genus Epidemicus হিসেবে অভিহিত করা হয়। মহামারী সংক্রমণের কয়েক দিনের মধ্যে এ ওষুধটি নির্বাচন করা হয়, যা ২০০ বছরের অধিক সময় ধরে প্রমাণিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ১৭৯০ সালে হোমিওপ্যাথি আবিষ্কারের পর থেকে এই চিকিৎসা ধারায় অনেক জটিল ও মহামারী রোগের চিকিৎসার সাফল্য অর্জনের ইতিহাস আছে। মহামারী রোগের প্রতিষেধক হিসেবে জেনাস এপিডেমিকাস হোমিওপ্যাথি প্রিভেনটিভ মেডিসিন। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিভিন্ন সময়ে টাইফয়েড, কলেরা, ইয়েলো ফিভার, স্কারলেট ফিভার, ছোট পক্স, ডিপথেরিয়া, স্প্যানিশ ফ্লু মেনিনজাইটিস, পোলিওসহ বেশ কয়েকটি মহামারীর চিকিৎসায় সফলতা দেখায়, যা উনিশ শতকে হোমিওপ্যাথিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিশেষ জনপ্রিয় করে তোলে।



ডাঃ হ্যানিম্যানের অর্গানন অব মেডিসিন বইয়ের ষষ্ঠ সংস্করণের ১০০ থেকে ১০৪ নম্বর সূত্রে ইপিডেমিক ডিজিজ সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।



বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে হোমিওপ্যাথির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের অধীন পরিচালিত ২০১৩ সালের একটি বেসরকারি জরিপে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মোট জনগণের মধ্যে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জনগণ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে থাকে।



বর্তমান পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) চিকিৎসায় মূল চিকিৎসাধারা লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে চিকিৎসকদের পরামর্শ দিচ্ছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাব্যবস্থা যার মৌলিক ভিত্তিই লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা, বৈশ্বিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বা এতদসংক্রান্ত লক্ষণের রোগীদের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিবেচনা করা যেতে পারে।



চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন দেশ জরুরি অবস্থা ঘোষণাসহ লকডাউন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, হোম কোয়ারেন্টিন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা ও উদ্যোগ নিয়েছে। সার্বিক অবস্থায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের দিকে নজর দেয়া হচ্ছে বেশি। আক্রান্ত রোগীর লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনের ব্যবস্থ্যা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের পাশের দেশ ভারত সরকারের বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য গঠিত আছুষ (AYUSH) মন্ত্রণালয় গত ২৮ জানুয়ারি সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথির (সিসিআরএইচ) ৬৪তম সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি বোর্ডসভায় 'প্রিভেনশন অব কোরোনা ভাইরাস ইনফেকশন থ্রো হোমিওপ্যাথি' শীর্ষক আলোচনায় করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আর্সেনিক অ্যালব-৩০ পর পর তিন দিন খালি পেটে সূক্ষ্মমাত্রায় সেবনের পরামর্শ দিয়েছে, যা অনুসরণ করে পরবর্তী সময়ে ভারত সরকারের রেল বিভাগ থেকে তাদের কর্মচারীদের নির্ধারিত হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আর্সেনিক অ্যালব-৩০ সেবনের পরামর্শ দিয়ে গত ২৮ মার্চ পত্র জারি করা হয়।



জেনাস এপিডেমিকাস প্রিভেনটিভ হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি নির্বাচনের সময় আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ সমষ্টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহজনক রোগীর লক্ষণগুলো হলো_ জ্বরসহ শারীরিক দুর্বলতা, শরীর মেজ মেজ বা ব্যথা করা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, সর্দি, কার্শি ও শ্বাসকষ্ট অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় নিউমোনিয়া, লিউকোপেনিয়া, লিম্ফোপেনিয়া, Severe Acute Respiratory Syndrome (SARS), কিডনি ফেইলিউর হয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ভারতের আছুষ মন্ত্রণালয়ের অ্যাডভাইজরি বোর্ড করোনা ভাইরাসের প্রিভেনটিভ হোমিওপ্যাথি ওষুধ হিসেবে আর্সেনিক অ্যালব-৩০ প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণের গুরুত্ব দিয়েছে।



ভৌগোলিক ও আবহাওয়াজনিত পার্থক্যের কারণে চীন এবং অন্যান্য দেশ থেকে ভারত ও বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। যেহেতু হোমিওপ্যাথি ওষুধ সার্বদৈহিক লক্ষণভিত্তিক কাজ করে, সেহেতু ওষুধ নির্বাচনের সময় লক্ষণ বিশ্লেষণে চিকিৎসককে সতর্ক থাকতে হবে। ভাইরাল ইনফেকশনে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে শতাধিক ওষুধের মধ্য থেকে একজন চিকিৎসককে রোগীর লক্ষণসাদৃশ্য নির্বাচিত ওষুধটি খুঁজে বের করতে হয়।



কিছু ওষুধ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে ভাইরাস আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে, যা রোগের মহামারী আকারে বিস্তার রোধে সক্ষম। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ও এতদসংক্রান্ত অন্যান্য রোগীর লক্ষণগুলো বিশ্লেষণ করে প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলোর মধ্য থেকে বেশি ব্যবহৃত হতে পারে এমন কয়েকটি ওষুধের নাম এখানে উল্লেখ করছি যেমন_ একোনাইট, আর্সেনিক অ্যালব, রাসটক্স, ব্রায়োনিয়া, বেলডোনা, জাস্টিসিয়া, ইনফ্লুয়েজিনাম, ইউপেটোরিয়াম, জিলসিমিয়াম, এন্টিম টার্ট, নেট্রাম মিউর, পালসেটিলা ইত্যাদি। নির্ভুল ওষুধ নির্বাচনে চিকিৎসকরা আধুনিক সফটওয়্যারভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরি ব্যবহার করতে পারেন।



 



করণীয় :



হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত একটি লক্ষণভিক্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং করোনা ভাইরাসে আক্রান্তে রোগীর কোনো সুনির্বাচিত ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, সে ক্ষেত্রে প্রচলিত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদেরও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মেডিক্যাল সামগ্রী প্রদান করে সরকার কর্তৃক স্থাপিত ও অনুমোদিত হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও এতদসংক্রান্ত লক্ষণভিত্তিক রোগীর চিকিৎসায় দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি উচ্চতর অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠন এবং হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণপূর্বক সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে একটি ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন প্রস্তুত করা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট (বিএইচএমএস) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত) এবং ডিপ্লোমা (ডিএইচএমএস) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সংখ্যা ৩২ হাজার (বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধিত)।



সর্বোপরি, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি/নিয়মকানুন মেনে চলাসহ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যনির্ভর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে স্বল্পব্যয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। হোমিওপ্যাথির উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, যুগোপযোগী উন্নত প্রশিক্ষণ, রাষ্ট্রীয়ভাবে হোমিওপ্যাথিক রিসার্চ সেন্টার স্থাপন, বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর শিক্ষক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি আইনের চূড়ান্তকরণ এখন সময়ের দাবি।



 



লেখক : ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার-কাম-সেক্রেটারী, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক।



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৭। যাহা তিনি উহাদের উপর প্রবাহিত করিয়াছিলেন সপ্তরাত্রি ও অষ্টদিবস বিরামহীনভাবে; তখন তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখিতে-উহারা সেথায় লুটাইয়া পড়িয়া আছে সারশূন্য খর্জুর কা-ের ন্যায়।


 


 


 


assets/data_files/web

সাহায্য করা ভালো কিন্তু সাহায্য যেন কাউকে অলস করে না তোলে।


-ডাবিস্নউ এস গিলবার্ট।


 


 


অভ্যাগত অতিথির যথাসাধ্য সম্মান করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৪,৩৬,৬৮৪ ৫,৫৪,২৮,৫৯৬
সুস্থ ৩,৫২,৮৯৫ ৩,৮৫,৭৮,৭০৩
মৃত্যু ৬,২৫৪ ১৩,৩৩,৭৭৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩০৯৩০
পুরোন সংখ্যা