চাঁদপুর, সোমবার ১৮ মে ২০২০, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৪ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম মুত্যুবরণ করেছেন। বাদ আসর তালতলা করিম পাটোয়ারী বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৭। যাহা তিনি উহাদের উপর প্রবাহিত করিয়াছিলেন সপ্তরাত্রি ও অষ্টদিবস বিরামহীনভাবে; তখন তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখিতে-উহারা সেথায় লুটাইয়া পড়িয়া আছে সারশূন্য খর্জুর কা-ের ন্যায়।


 


 


 


assets/data_files/web

আমাকে সামান্যই ভালোবাস, কিন্তু তা যেন দীর্ঘদিনের জন্য হয়।


-জন হে উড।


 


 


প্রত্যেক কওমের জন্য একটি পরীক্ষা আছে এবং আমার উম্মতদের পরীক্ষা তাদের ধন-দৌলত।


 


ফটো গ্যালারি
এই গরমে জ্বর ও জ্বরের ধরণ
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৮ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এ সঙ্গ নিরোধকালে জ্বর শুনলেই আতঙ্ক গ্রাস করে আমাদের। হাত-পা ভয়ে সেঁধিয়ে যায় পেটে_এ যেনো অবস্থা। এ সময়ের জ্বর যে কেবল কোভিড-১৯-এর জ্বর তা নয়। এখন আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল। এ সময়ে বিভিন্ন উৎস হতে বিভিন্ন কারণে জ্বর হতে পারে।



সাধারণত কোভিড-১৯-এর জ্বর উচ্চমাত্রায় হতে দেখা যায়নি। লো গ্রড-এর জ্বর। নিরানব্বই ডিগ্রি কি একশ ডিগ্রি। কিন্তু শীত শীত ভাব থাকে। গায়ে শীত কাঁটা দেয়। তীব্র ব্যথা হয় শরীর। নাকে কিছুর গন্ধ পাওয়া যায় না। সর্দি হতেও পারে, না-ও পারে। জ্বরের দু-একদিন পরে কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এই জ্বরে প্যারাসিটামল, ফেক্সাফেোনাডিন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ঔষধ প্রাথমিক অবস্থায় ঘরে থেকে সেবন করুন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হোন।



এ গরমে অনেকেই ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে যান দিনেরাতে সবসময়। তাদেরও জ্বর ঠাণ্ডা লাগতে পারে। এ জ্বরও একশ' এক বা দুই-এর বেশি হয় না। অনেকেই শীতলতার জন্যে গরমে দুই-তিনবার গোসল করেন। এরাও একসময় জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন এবং এ জ্বরের সাথে সর্দিও হতে পারে। তবে গায়ে তীব্র ব্যথা হবে না। এ জ্বরে প্যারাসিটামল, ফেক্সাফেোনাডিন সেবনই যথেষ্ট।



গরমে দূষিত পানি পানের কারণে এ সময় অনেকেই টাইফয়েডে আক্রান্ত হতে পারেন। পানের যোগ্য পানির লাইনের সাথে যদি পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালির লাইনের কোথাও সংস্পর্শ হয়ে যায় তবে টাইফয়েডের জীবাণু আহারের জলে যুক্ত হয়ে যায়। এই জল পানে টাইফয়েড আক্রান্ত হয় মানুষ। অনেকের ভুল ধারণা, জ্বর দীর্ঘদিন হলেই তা টাইফয়েডে মোড় নেয়। আসলে তা নয়। টাইফয়েড জ্বর শুরু থেকেই সালমোনেলা টাইফি এবং সালমোনেলা প্যারা টাইফির সংক্রমণে হয়। জ্বর ধীরে ধীরে বাড়ে জ্বর কখনো কমে নিচে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নামে না যতোদিন জীবাণুর সংক্রমণ থাকে। জ্বর বাড়ে সিঁড়ির উচ্চধাপের গতিতে। সিঁড়ি যেমন একধাপ একধাপ করে ওপরে ওঠে তেমনি জ্বরও এভাবে ধীরে ধীরে বাড়ে। আগে টাইফয়েডের জ্বরে ইঞ্জেকশন দিতেই হতো এবং হাসপাতালে রোগীকে আটাশ দিন ভর্তি থাকতে হতো। এখন আর তা লাগে না। সিপ্রোসিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক বয়সানুযায়ী উচ্চ মাত্রায় দুইবেলা চৌদ্দদিন সেবনই যথেষ্ট। সাথে প্যারাসিটামল, ওমিপ্রাজল জাতীয় ঔষধ রাখতে হবে। জ্বর একশ' দুই বা তার বেশি হলে সাপোজিটরি (ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম) দিতে হয় যাতে জ্বর দ্রুত নেমে যায়। টাইফয়েড জ্বরে দ্রুত নিয়মমাফিক অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করলে অন্ত্র ফুটো হয়ে যেতে পারে।



খাবারে জীবাণু থাকলে বিশেষত ইশ্চেরিশিয়া কোলাই থাকলেও পেটে কামড় দিয়ে ব্যথা করে পাতলা পায়খানা হয়। সাথে জ্বর ও বমি থাকে। এ ধরনের গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে সিপ্রোসিন দুইবেলা, মেট্রোনিডাজল তিনবেলা ও ভিসেরালজিন তিনবেলা তিনদিন সেবন করতে হয়। মুখে ওরস্যালাইনে দুর্বলতা না কাটলে শিরায় কলেরা স্যালাইন দিতে হয়।



এ গরমে পানি পান করতে হয় প্রচুর। গরমে প্রচুর আর্দ্রতার কারণে তীব্র ঘাম বের হয়। একসময় ডিহাইড্রেশন প্রকট হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তখন প্রস্রাব হয় না। ফলে মূত্রে জীবাণু সংক্রমণ ঘটে। এই সংক্রমণের কারণেও জ্বর হয়। এ জ্বর তীব্র ও উচ্চ মাত্রার হয় এবং কাঁপুনি দেয়। শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা করে। প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া ভাব হয়। এ সংক্রমণে সিপ্রোসিন বা সেফিউরঙ্মি জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিনে দুইবেলা সাতদিন সেবন ও পর্যাপ্ত লেবুর শরবত পান করলে দ্রুত ভালো হয়ে যায়।



অবিশুদ্ধ পানি পানের কারণে ভাইরাল হেপাটাইটিস ও জন্ডিস দেখা দেয়। ফলে জ্বর হতে পারে। খাওয়ায় অরুচি ও বমি দেখা দেয়। সবকিছুতেই কেমন গন্ধ গন্ধ লাগে। এ ধরনের জ্বরে প্যারাসিটামল নিষিদ্ধ। জ্বর একশ এক এর ওপরে গেলে ডাইক্লোফেনাক জাতীয় সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হয় দিনে দুইবেলা প্রয়োজনে। আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ হতে বিরত রেখে লিভারকে বিরাম দিলেই তা ভালো হয়ে যায়। কেনো আরক পান বা পালং ধোয়ানোর প্রয়োজন নেই।



গরম-ঠাণ্ডায় নিউমোনিয়া হলেও জ্বর হতে পারে। তীব্র জ্বরের সাথে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে শ্বাসগ্রহণের হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে (মিনিটে আঠারবার-এর ) বেশি হয়। নিউমোনিয়ার রোগীকে অতি অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।



গরমে হতে পারে হিট স্ট্রোক। এই হিট স্ট্রোকে মস্তিষ্কের হাপোথ্যালামাসে বিভ্রাট ঘটে হাইপারথার্মিয়া হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছায়ায় সরিয়ে এনে ঠাণ্ডা পানির ঝাপ্টা দিতে হয়। ধীরে ধীরে একসময় দেহ স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরে পায়।



জ্বর হলে আতঙ্ক নয়, কী কারণে জ্বর তা নিরুপণ করুন। অতঃপর পদক্ষেপ নিন। করোনাকালে সবাই নিরাপদে থাকুন।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৮১৩৯
পুরোন সংখ্যা