চাঁদপুর, সোমবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬। উহা এইজন্য যে, উহাদের নিকট উহাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিত তখন উহারা বলিত, 'মানুষই কি আমাদিগকে পথের সন্ধান দিবে? অতঃপর উহারা কুফরী করিল ও মুখ ফিরাইয়া লইল। কিন্তু ইহাতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না; আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।


 


 


 


মা-বাবাকে ভালোবাসা শ্রদ্ধা করা প্রকৃতির প্রথম আইন।


-ভ্যালিরিয়াস ম্যাঙ্য়িাম।


 


 


যে মুসলমান অবৈধ (হারাম) বস্তু হইতে দূরে থাকে ও ভিক্ষাবৃত্তি হইতে দূরে থাকে, যাহার শুধু একটি পরিবার (স্ত্রী), খোদাতায়ালা তাহাকেই ভালোবাসেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
পুরুষের যৌন রোগের আকুপ্রেশার চিকিৎসা
অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ উদ্দিন
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানব শিশুর অধিকাংশ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও গ্রন্থিগুলো জন্মের পর হতেই সক্রিয় হলেও যৌন গ্রন্থিগুলো সক্রিয় হয় বয়ঃসন্ধি কাল থেকে। শীতের রুক্ষ প্রকৃতি যেমন বসন্তে ফুলে ফলে ভরে উঠে এবং অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়। ঠিক তেমনি ভাবে শিশু কালের জড়তা ভীরুতা পার করে মানব শিশু যখন বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে, তখন তার দেহ, মন ও মস্তিষ্কে নব বসন্তের উচ্ছ্বাস দোল খেতে শুরু করে। তখন সে স্বপ্নের জগতে ভাসতে থাকে। সবশিশুর বয়ঃসন্ধি কাল একই সাথে শুরু হয় না। সাধারণত ছেলেদের তের থেকে পনের বছরের মধ্যে সেটি শুরু হয়।



বয়ঃসন্ধিকালে রাসায়নিক নিঃসরণের মাধ্যমে সম্মুখ পিটুইটারি গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে। তখন এই গ্রন্থি গোনাডোট্রাফিক নামক যৌন উত্তেজক হরমোন রক্তে ছেড়ে দেয়। এই হরমোন রক্ত বাহিত হয়ে যৌন গ্রন্থিতে পৌঁছে যায় এবং মানব শিশুর ঘুমন্ত যৌন গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে বালকের শুক্রাশয়কে টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে। এর প্রভাবে শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়, এ ক্ষরণ বয়ঃসন্ধি কালের পরিবর্তনকে সুস্পষ্ট করে তোলে। এসময় বালকের দেহে যৌবনের শান্ত আগুন জ্বলে উঠে এবং তার শিরা-উপশিরায় এর তাপ অনুভব করে। এর প্রভাবে অনেক ছেলেরা অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ এবং হস্তমৈথুন, যৌন বিষয়ক বই পড়ে, যৌন বিষয়ক ভিডিও দেখা ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ়, নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং তার যৌন গ্রন্থি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে ও শুক্ররস পাতলা হয়ে যায়। তাছাড়া দেহের বাড়তি তাপের কারণেও শুক্ররস পাতলা হতে পারে।



পুরুষের শুক্রাণুকে কাঁচা ইটের (পর্যাপ্ত তাপ না পেলে অপরিপক্ক থেকে যায়) সাথে তুলনা করা যায়। বয়ঃসন্ধি কালে শুক্রাণু উৎপন্ন হওয়া শুরু হয় এবং ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সে তা পরিপক্কতা লাভ করে। এ বয়স পর্যন্ত এটাকে সুরক্ষা করা উচিত।



বাল্যকালে প্রস্টেট গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অথবা কৈশোরে উশৃঙ্খল জীবন যাপনের ফলে যে সকল শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হয়, সেগুলোই হল পুরুষের সমস্যা।



ফলে বিবাহ পরবর্তী কম উত্তেজনা, যৌনাঙ্গের শিথিলতা, পরিতৃপ্তির অভাব ও দ্রুত বীর্যপাত ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। উঠতি বয়সের যুবকরা তাদের যৌন সমস্যা গোপনে ভোগে। খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করতে লজ্জা বোধ করে। এদের হজম একেবারে দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেহের তাপ কমে যায়। এরা দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন যৌন ও শারীরিক সমস্যায় ভোগে। এদের থেকে আগত শিশুও পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা ও বিভিন্ন প্রকার শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই সময় যে সমস্ত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তার জ্ঞান অর্জন করলে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।



যদি ছেলেরা একুশ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের শুক্রাণু সুরক্ষা করতে সক্ষম হয় তাহলে তাদের দাম্পত্য জীবন হবে সুখের এবং তারা সুস্থ ও সবল সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হবে।



পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্নের সমস্যাগুলো দেখা দেয়:



১) স্বপ্ন দোষ : ১৭/১৮ বৎসর বয়সে স্বপ্নে কখনো কখনো বীর্যপাত হলে কোনো দোষ নাই। কিন্ত এর পূর্বে অথবা নিয়মিত স্বপ্ন দোষ হলে এর চিকিৎসা প্রয়োজন।



স্বপ্ন দোষের কারণ : * দেহে তাপের আধিক্য। * পোস্টেট গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। * বয়ঃসন্ধি কালের শুরুতে যৌন বিষয়ক বই পড়া ও যৌন বিষয়ক ভিডিও দেখা। * হজমশক্তি দুর্বল।



২) কম উত্তেজনা : পরিতৃপ্তির অভাব/দ্রুত বীর্যপাত, বীর্যরস পাতলা ইত্যাদি। এই সব সমস্যার মূল কারণ হতে পারে বিবাহ পূর্ব হস্তমৈথুন, পোস্টেট গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অথবা দেহে তাপের আধিক্য।



৩) ক্লিম্যাকটারি : যৌবনে যারা বিভিন্ন যৌন সমস্যায় ভোগেন তাদের অনেকের ৪০-৫০ বছর বয়সের পর শুক্র উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং যৌন ইচ্ছা একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এটা পুরুষের জন্য মহিলাদের ঋতুস্রাব বন্ধের সমান অবস্থা।



চিকিৎসা :



(ক) ১১, ১২ ও ১৪নং বিন্দুতে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।



(খ) দেহের বাড়তি উত্তাপ বের করে দিতে ১ চামচ হরিতকি চূর্ণ ১ কাপ পানিতে মিশিয়ে (প্রয়োজনে ১ চামচ চিনি দেয়া যেতে পারে) সকাল বেলা খালি পেটে ১০-১২ দিন পান করতে হবে। তারপর সপ্তাহে দু/এক দিন নিয়মিত পান করলে শরীরের বাড়তি উত্তাপ বের হয়ে যাবে। এতে পেট পরিষ্কার থাকবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত অনেক সমস্যারও সমাধান হবে। যাদের শরীরে পিত্তাধিক্যের সমস্যা আছে, তারা যদি উপরের নিয়মে পান করেন, তবে পিত্তাধিক্য কমে যাবে।



(গ) হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য



* প্রতি রাত্রে স্বাস্থ্যকর পানীয় পান করুন। তিনটি আমলকি ও একটি আমলকির সমপরিমাণ আদা ১ গ্লাস পানি সহ বাল্ডারে বান্ড করে ছেঁকে নিন। ইহাই স্বাস্থ্যকর পানীয়। আবার এই পরিমাণ (তিন ভাগ আমলকি ও এক ভাগ আদা) শুকিয়ে চূর্ণ করলে যে গুঁড়ো তৈরি হয় তাই স্বাস্থ্যকর চুর্ণ। এর স্বাদ অমস্ন-মধুর, টক নয়। প্রয়োজনে এর সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। আমলকিতে লেবুর তুলনায় ১৬ গুণ বেশি ভিটামিন সি আছে। এই পানীয় পান করলে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচা যায় এবং হজম শক্তি বাড়ে। দীর্ঘ রোগ মুক্তির পর, বৃদ্ধ বয়সে, অন্তঃসত্ত্বাকালীন অবস্থায় এবং উঠতি বয়সের শিশুদের পক্ষে এটি খুবই উপকারী। * ২২, ২৩ ও ২৭ নং বিন্দুতে দিনে দু'বার চাপ দিতে হবে। * ভাজা-পোড়া, ঝাল, টক ও ফাস্ট-ফুড জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে। * পেটে কৃমি থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে।



ছেলেরা যদি ছয় সাত বছর বয়স থেকেই প্রতিদিন নিয়মিত প্রতিটি অন্তক্ষরা গ্রন্থি ও ১১, ১২ ও ১৪ নং বিন্দুতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে তাহলে যৌবনের প্রারম্ভে যে সমস্ত সমস্যা হয়, যেমন হস্ত মৈথুন, কর্তব্যে অবহেলা এবং শারীরিক মানসিক সমস্যা প্রভৃতি এড়ানো সম্ভব এবং সেই সাথে তাদের চারিত্রিক, মানসিক ও শারীরিক অবস্থা দিন দিন উন্নত হতে থাকবে ইনশআল্লাহ।



 



লেখক : অধ্যাপক, পদার্থ বিজ্ঞান, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, মোবাইল ফোন : ০১৯১৪৯১০৬২৬।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৪৬১৭
পুরোন সংখ্যা