চাঁদপুর, সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০৩। যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সহিত যিহার করে এবং পরে উহাদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করিতে হইবে, ইহা দ্বারা তোমাদিগকে উপদেশ দেওয়া যাইতেছে। তোমরা যাহা কর আল্লাহ তাহার খবর রাখেন।


 


 


 


গণতন্ত্রের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর নির্বাচন।


-এইচ. জি. ওয়েলস।


 


 


অতিথি সৎকারকারীর অসুবিধা উৎপাদন করিয়া অতিথির বেশিদিন অবস্থান করা উচিত নয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ভাইরাস জ্বর ও করণীয়
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এর চেয়ে অধিক তাপমাত্রাকে বলে জ্বর। জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ হলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে দৈহিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটাই ভাইরাস জ্বর নামে অভিহিত হয়।



হরেক রকমের ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে দেহে। সাধারণ সর্দির জ্বর থেকে শুরু করে ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা_সবই দেহে ভাইরাসের সংক্রমণের ফল। হাল্কা তাপমাত্রার জ্বর (৯৯ ডিগ্রি ফাঃ) হতে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর (১০৫ ডিগ্রি ফাঃ)-যে কোনো তাপমান অবস্থাই ভাইরাসের সংক্রমণে হতে পারে এবং তা নির্ভর করে ভাইরাসের ধরনের ওপর।



 



ভাইরাস জ্বরের লক্ষ্মণ :



ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলে কিছু কিছু লক্ষ্মণ কয়েকদিন ধরে বিরাজ করে। যেমন :



* শীত শীত ভাব



* ঘামানো



* পানিশূন্যতা



* হাল্কা হতে তীব্র মাথাব্যথা



* মাংশপেশির কামড়ানি ও ব্যথা



* দুর্বলতার অনুভূতি



* খাওয়ার রুচি হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি।



 



দেহে ভাইরাস সংক্রমণের উপায় :



প্রশ্বাস প্রক্রিয়া : ভাইরাস আক্রান্ত কেউ যদি অবাধে হাঁচি-কাশি দেয় তবে ওই আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ফ্লু বা কমন কোল্ডের জন্যে দায়ী ভাইরাসের জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে যা নিকটস্থ কোনো সুস্থ মানুষ প্রশ্বাস বায়ুর মাধ্যমে গ্রহণ করে নিজে আক্রান্ত হয়।



 



খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ : কিছু কিছু ভাইরাস যেমন : নরোভাইরাস, এন্টারোভাইরাস খাদ্য ও পানীয়কে জীবাণুযুক্ত করার মাধ্যমে মানুষের দেহে অনুপ্রবেশ করে ও ভাইরাস জ্বরের কারণ হয়।



 



কামড় বা দংশন : পতঙ্গ এবং অন্যান্য জন্তুরা ভাইরাস বহন করতে পারে। তাদের দংশনে ভাইরাস সুস্থ মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে রোগ উৎপাদন করে। যেমন : এডিস জাতীয় মচার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। কুকুর, শেয়ালের কামড়ে র‌্যাবিজ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে।



 



দেহের তরল উপাদান : ভাইরাস আক্রান্ত কারও রক্ত সুস্থ মানুষের দেহে সঞ্চালন, কিছু কিছু ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের যৌন চর্চার কারণে সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে এবং ভাইরাস জ্বর দেখা দেয়। যেমন : এইডস, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি।



 



ভাইরাস জ্বর নিরূপণ :



* রোগীর ইতিহাস



* রোগীর লক্ষ্মণ ও উপসর্গ



* রক্ত পরীক্ষণের মাধ্যমে ভাইরাল মার্কার নিরূপণ



* রক্ত বা দেহের তরল স্রাব এর ল্যাবটেস্ট (এইডস, ডেঙ্গু ইত্যাদির ক্ষেত্রে)



 



ভাইরাস জ্বরের চিকিৎসা :



* জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল মুখে সেবন



* উচ্চ জ্বরে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার



* পর্যাপ্ত পানি পান



* এইডস, র‌্যাবিজ কিংবা ডেঙ্গুজাতীয় রোগে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে উপযুক্ত ঔষধ প্রয়োগ।



* ভাইরাসের জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা না থাকলেও ভাইরাস জ্বরের পরবর্তী সংক্রমণ রোধ করতে কখনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন প্রয়োজন হয়।



 



ভাইরাস সংক্রমণের জটিলতা :



* রক্তক্ষরণ : ডেঙ্গুজ্বর



* দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস : এইডস



* জন্ডিস ও লিভার সিরোসিস : হেপাটাইটিস বি



* জলাতঙ্ক ও মৃত্যু : র‌্যাবিজ ভাইরাস



* মেনিনজাইটিস : ভাইরাল এনকেফালাইটিস



* পোলিও ও প্রতিবন্ধীতা : পোলিও ভাইরাস



* হাম ও অন্ধত্ব : মিজলস্ ভাইরাস



* মাম্পস ও পুরুষ বন্ধ্যাত্ব : মাম্পস ভাইরাস ইত্যাদি।



 



ভাইরাস জ্বর প্রতিরোধ :



* ভিড়ের মধ্যে হাঁচি-কাশি না দেয়া



* রাস্তাঘাটে ও ভিড়ের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার করা



* কতিপয় ভাইরাসের বিরুদ্ধে আগাম টিকা নেয়া



* হাত ধুয়ে খাবার গ্রহণ করা



* খাদ্য ও পানীয় সবসময় ঢেকে রাখা।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৮৭০
পুরোন সংখ্যা