চাঁদপুর, সোমবার ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১২ কার্তিক ১৪২৬, ২৮ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০৩। যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সহিত যিহার করে এবং পরে উহাদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করিতে হইবে, ইহা দ্বারা তোমাদিগকে উপদেশ দেওয়া যাইতেছে। তোমরা যাহা কর আল্লাহ তাহার খবর রাখেন।


 


 


 


assets/data_files/web

গণতন্ত্রের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর নির্বাচন।


-এইচ. জি. ওয়েলস।


 


 


অতিথি সৎকারকারীর অসুবিধা উৎপাদন করিয়া অতিথির বেশিদিন অবস্থান করা উচিত নয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
অস্বস্তিকর নাকের অ্যালার্জি
অধ্যাপক ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র দাস
২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অ্যালার্জি বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অসহনীয় ব্যাধি। অ্যালার্জি হাঁচি থেকে শুরু করে খাদ্য ও ওষুধের ভীষণ প্রতিক্রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। হাঁচি হলো এবং নাক দিয়ে পানি পড়ল, এটা কোনো রোগ হলো? প্রথম প্রথম কেউ-ই এ লক্ষণগুলোকে রোগ বলে মনে করেন না। সবাই স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করেন এবং মনে করেন আপনা-আপনিই সেরে যাবে। কিন্তু যখন-তখন হচ্ছে, বিশেষত পুরনো জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে গেলে বা ফুলের গন্ধ নেয়ার সময় বা ফুলের বা ফুলের বাগানে পায়চারি করার সময় এবং প্রায় সময় যখন অনবরত হাঁচি বা নাক বন্ধ হয়ে যায় তখন এ লক্ষণগুলোকে রোগ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন এবং নিজে নিজেই অথবা ওষুধের দোকানদারের সঙ্গে আলাপ করে দু-একটি অ্যান্টিহিস্টামিন খেতে শুরু করেন। অ্যান্টিহিস্টামিন খেলে অবশ্য রোগের লক্ষণ কিছুটা উপশম হয়। কিন্তু যখন বারবার হয় তখন স্থানীয় যে কোনো ডাক্তার এবং পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তখন অ্যান্টিহিস্টামিনের পাশাপাশি স্প্রে আকারে স্টেরয়েড নাকের নাসারন্ধ্রে ব্যবহার করতে বলেন। এতে অবশ্য রোগী আগের তুলনায় অনেক বেশি ভালো অনুভব করেন। কিন্তু বাস্তব সত্য, যে যতদিন নেসাল স্টেরয়েড ব্যবহার করেন, ততদিনই ভালো থাকেন, যেই নাকের স্প্রে বন্ধ করেন সঙ্গে সঙ্গে না হলেও কিছুদিন পরই শুরু হয় তার সেই পূর্বাবস্থা, এগুলো হলে আপনি অ্যালার্জিজনিত রোগে বিশেষত অ্যালার্জিক রেইনাইটিস রোগে ভুগছেন ধরে নিতে হবে। তাহলে এই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগটি কী, কেন হয় এবং কীভাবে এড়ানো যায়, তা নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।



অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগটি হলো অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ। উপসর্গগুলো হচ্ছে অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারও কারও চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।



 



প্রকারভেদ :



সারা বছর সার্বক্ষণিক অ্যালার্জিক রাইনাইটিস :



সারাবছর ধরেই এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। বিশেষ করে পুরানো ধুলাবালি (যাতে মাইট থাকে), ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর লোম সংস্পর্শে এলেই এর লক্ষণ শুরু হয়।



 



ঋতুনির্ভর অ্যালার্জিক রাইনাইটিস :



অনেক ঋতুতে ফুলের রেণুর আধিক্য থাকে এবং ওই রেণুর সংস্পর্শ এলেই রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। সাধারণত গ্রীষ্মের শেষে এবং বর্ষা ও শরতে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।



 



বারবার রোগাক্রান্ত হওয়ার মাত্রা :



যদিও বাংলাদেশে কতজন এই রোগে ভুগে থাকেন তার সঠিক তথ্য নেই, তবে মোট জনগণের ১০-১৫ ভাগ ভুগে থাকেন বলে অনেকের ধারণা। বিশ্বের কোনো দেশ, বিশেষত অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ ভাগ জনগণ এ রোগে ভুগে থাকেন। যদিও এ রোগের লক্ষণ যে কোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে তবে শিশুদেরই এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় বেশি।



 



যদিও এ রোগটি বংশানুক্রমিক তথাপি বারবার একই অ্যালারজেনের সংস্পর্শে এলেই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া নতুন পোষা প্রাণী অথবা বাসস্থান পরিবর্তনে নতুন পরিবেশে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগের লক্ষণ প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।



 



কীভাবে অ্যালার্জি নামের উপসর্গগুলো ঘটায় :



যেসব রোগীর বংশানুক্রমিকভাবে অ্যালার্জি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছু কিছু অ্যালারজেনের সংস্পর্শে এলে রক্তের আইজিইর মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষত নাকে অবস্থিত মাস্টসেল নামক এক ধরনের কোষের সঙ্গে লেগে থাকে। কোনোভাবে শরীর আবার এই অ্যালারজেনের সংস্পর্শে এলে মাস্টসেলগুলো ভেঙে যায় এবং এর থেকে ভাসো অ্যাক্টিভএমাইনো নির্গত হয় এবং এই রাসায়নিক পদার্থগুলো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং উপসর্গগুলো ঘটায়।



 



এ রোগের সম্ভাব্য কারণগুলো হলো :



মাইট (যা পুরনো ধুলাবালিতে থাকে) ঘরের ধুলা-ময়লা, ফুলের রেণু, প্রাণীর পশম বা চুল, প্রসাধন সামগ্রী।



 



প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কী? রক্ত পরীক্ষা বিশেষত



ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কি-না তা দেখা।



 



সিরাম আইজিইর মাত্রা :



সাধারণত অ্যালার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে আইজিইর মাত্রা বেশি থাকে।



 



স্কিন প্রিক টেস্ট :



এই পরীক্ষায় রোগীর চামড়ার ওপর বিভিন্ন অ্যালারজেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং এই পরীক্ষায় কোন কোন জিনিসে অ্যালার্জি আছে তা ধরা পড়ে। সাইনাসের এঙ্-রে।



 



সমন্বিতভাবে এ রোগের চিকিৎসা হলো :



 



অ্যালারজেন পরিহার : যখন অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তখন তা পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।



 



ওষুধ প্রয়োগ : ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম অনেকটা পাওয়া যায়। এ রোগের প্রধান ওষুধ হলো অ্যান্টিহিস্টামিন ও নেজাল স্টেরয়েড। অ্যান্টিহিস্টামিন, নেসাল স্টেরয়েড ব্যবহার রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হয়। যেহেতু স্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাই এ ওষুধ এক নাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। যতদিন ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভালো থাকে এবং ওষুধ বন্ধ করলেই আবার রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়।



 



আগে ধারণা ছিল, অ্যালার্জি একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।



 



প্রথম দিকে ধরা পড়লে অ্যালার্জিজনিত রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা সম্ভব। অবহেলা করলে এবং রোগ অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নত দেশের সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছে। তাই সময়মতো অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।



সূত্র : সমকাল।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৯৩২৮
পুরোন সংখ্যা