চাঁদপুর, সোমবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫ আশ্বিন ১৪২৬, ৩০ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি 'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু', মক্কী


 


৩৩। যাহা শেষ হইবে না ও যাহা নিষিদ্ধও হইবে না।


৩৪। আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ;


৩৫। উহাদিগকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে-


৩৬। উগাদিগকে করিয়াছি কুমারী,


 


 


 


 


সুন্দর গৃৃহের চেয়ে সৎসঙ্গীই অধিক কাম্য। -রবাট গ্রিন।


 


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
রোগভেদে বমি ও প্রতিকার
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জীবনে বমি করেনি একবারও, এমন লোকের সংখ্যা নাই বললেই চলে। বমিকে অনেকেই ভয় পায়। বমি কখনো খুশির। বমি কখনো বেদনার। প্রথম সন্তানবতী মা যখন ওয়াক্ ওয়াক্ শব্দে বমি করেন তখন ঘরময় বমির নয়, ঘুরে বেড়ায় নবজাতক জন্ম নেওয়ার সুসংবাদ। আবার কেউ যখন সকল কিছুতেই গন্ধ পেয়ে বমি করে তখন বমি হয়ে যায় আতঙ্কের অন্য নাম। লিভারের সুস্থতা নিয়েই তখন সবাই আশঙ্কিত থাকে। অনেককেই নিজের কানে বলতে শুনেছি, পাতলা পায়খানার চেয়ে বমিকে সে অনেক ভয় পায়। বমি কী তা বলতে গেলে বলা যায়, বমি হলো স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় খাদ্যনালী ও খাদ্যথলিকে জমাকৃত উপাদান মুক্ত করার একটা জৈবিক প্রক্রিয়া।



বমির কারণ



বিভিন্ন কারণে বমি হয়। প্রথম কারণ হতে পারে মেকানিক্যাল বা যান্ত্রিক। যেমন : মোশন সিকনেস বা গতিভীতির কারণে অনেকের বমি হয়। কেউ গাড়িতে চড়লেই গাড়ির গতির কারণে বমি করে। কেউ কেউ পেট্রোলের গন্ধেও বমি করতে পারে। গাড়ি থেকে নেমে গেলে বা গাড়ি থামলে তাদের বমি করা বা বমির প্রবণতা বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন দুর্গন্ধেও বমি হতে পারে। আমাদের মস্তিষ্কে কেমোরিসেপ্টর ট্রিগার জোন নামে একটা এলাকা আছে। বিভিন্ন উদ্দীপক যখন এই এলাকাকে উদ্দীপ্ত করে তখন আমাদের বমি হয়।



আঘাতের কারণেও কখনও কখনও বমি হতে পারে। যদি কেউ মস্তিষ্কে আঘাত পায় এবং সে কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় তবে তাতে বমি হতে পারে। এই ধরনের বমি হলে সাবধানতা অবলম্বন জরুরি, কেননা মস্তিষ্কের আঘাতজনিত মৃত্যুর ঘটনা বিরল নয়। খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের বিষক্রিয়া হলে বমি হতে পারে। এই বমি মারাত্মক। এর সাথে জ্বর ও পানিশূন্যতা দেখা দেয়।



কিছু কিছু জীবাণুর সংক্রমণে পরিপাকতন্ত্র আক্রান্ত হয় এবং এতে বমি ও পাতলা পায়খানা উভয়ই হয়। হেপাটাইটিস-এর প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়তে শুরু করলেই বমি হয় এবং খাবারে গন্ধ অনুভূত হয়। কোন খাবার গ্রহণ করা তখন অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিরায় আইসোটনিক ফ্লুইড দিয়ে (নরমাল স্যালাইন) তার পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় বমি একটা উল্লেখযোগ্য উপসর্গ। নাভির চারপাশে ব্যথা বা ডান ইলিয়াক অঞ্চলে ব্যথার সাথে জ্বর ও বমি শুরু হয়। যাদের গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটি বা অম্বল রোগ আছে তাদের সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় বমি বা বমিভাব হয়। সারারাতের অ্যাসিড বাষ্প জমা হওয়ার কারণে এ ধরনের বমি হতে পারে। অন্ত্রনালীতে প্যাঁচ বা কয়েল হলে কিংবা অন্ত্রে টিউমারের কারণে পরিপাকজনিত ক্রিয়ায় বিঘ্ন হলেও বমি হয়।



রক্তে ইউরিয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলেও বমি হয়। সেক্ষেত্রে কথাবার্তায় অসাযুজ্য এবং অচৈতন্য তৈরি হয়। কেউ কেউ রাগ করে তাৎক্ষণিক কিছু না ভেবে অর্গানো ফসফরাস কম্পাউন্ড বা ধানের কীটনাশক বিষ খেয়ে ফেলেন। তাদের আরোগ্য করার জন্যে বমি করানোটা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।



মস্তিষ্কে টিউমার হলে তীব্র বমি হয়। টিউমারের কারণে মস্তিষ্কের তরল-পরিবেশে চাপের সৃষ্টি হয়। রক্তচাপ বাড়লে বা কমলেও বমি হতে পারে। অধিক রক্তচাপে বমির পাশাপাশি ঘাড়ে, গর্দানে ব্যথা হতে পারে। রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে হ্রাস পেলে মাথা ঘোরে এবং বমি হয়। কিডনি ফেইলিওর হলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়ার মাত্রা বেড়ে গেলেও বমি হয়।



হার্ট ফেইলিওর বা হৃদপি-ের অসামর্থ্যে বমি হয়। শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় রক্তে কার্বন ডাই-অঙ্াইড ও কার্বন মনো অঙ্াইড বৃদ্ধি হলে বমি হয়।



নারীদের হাইডাটিডিফর্ম মোল-এর কারণেও বমি হতে পারে। এ বমি অনেকটাই গর্ভবতী নারীর বমির মতোই। গর্ভবতী নারীদের যেমন সকালে বমির হারটা বেশি তেমনি এদেরও একই রকম বমির ভাব হয়। তবে হাইডাটিডিফর্ম মোল নামক রোগে তলপেটে ব্যথা হয়, যা গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে হয় না।



বাংলাদেশে শিশুদের বমির একটা সাধারণ কারণ অতিরিক্ত খাওয়া। মায়েরা ছোট শিশুদের পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়ালে বমি হতে পারে। বমির অতি সাধারণ একটা কারণ পেটে কৃমির সংক্রমণ। পেটভরা কৃমি হলে বমির সাথে নাভির চারপাশ ব্যথা করে।



মহিলাদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা বা আধকপালীর কারণে বমি বা বমি ভাব হয়। এর পাশাপাশি চোখে অন্ধকার ভালো লাগে এবং আলো অসহ্য মনে হয়। গল বস্নাডার বা পিত্ত থলির ব্যথা ও সংক্রমণে বমি হয়। এ বমিতে পিত্তের পরিমাণও বাড়তি থাকে।



ক্যান্সারের কেমোথেরাপির কারণে বমি হয়। ক্যান্সার রোগীর জন্যে ব্যবহৃত ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় বমি হয়। যে সকল ব্যথার ঔষধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বিবশ করে বেদনা উপশম করে তাদের কারণেও বমি হয়। বমি হয় কিছু ব্যথার ঔষধ গ্রহণজনিত গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণে। কখনো কখনো বিষণ্নতা ও আতঙ্কেও বমি হয়।



বমির চিকিৎসা



মোশন সিকনেসে গাড়িতে চড়ার আগে স্টেমিটিল বা অ্যাভোমিন জাতীয় ঔষধ সেবনই যথেষ্ট। গ্যাস্ট্রাইটিস ও গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটিতে ডমপেরিডন ও অমিপ্রাজল সেবন করলে বমি রহিত হয়। হেপাটাইটিসের বমিতে পিত্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার জন্যে আর্সোডিঅঙ্েিকালিক অ্যাসিড সেবন করলে বমি কমে আসে। প্রেগন্যান্সিজনিত বমিতে মেক্লিজিন হাইড্রোক্লোরাইড সেবন করলে বমি হতে নিস্তার পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপনা দমাতে অনডেনসেট্রন বা প্যালোনোসেট্রন জাতীয় ঔষধ সেবন করা যায়। কিডনি ফেইলিওরে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা স্বাভাবিক হলেই বমি কমে আসে। মাইগ্রেনের বমিতে পিজোটিফেন সেবন করা যায়। টাফনিল জাতীয় ঔষধ সেবনে মাইগ্রেনের ব্যথা যেমন তৎক্ষণাৎ কমে যায় তেমনি বমিভাবও দূর হয়ে যায়। অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের ইনফেকশনজনিত বমি কমে আসে। বমির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ডিহাইড্রেশন। ডিহাইড্রেশন কারেকশান না করলে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় ও জটিলতা তৈরি হয়। উচ্চরক্তচাপজনিত বমিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করলে বমি বন্ধ হয়ে যায়। তেমনি রক্তচাপ কম হলে স্যালাইন খাওয়ানো বা শিরায় প্রয়োগের মাধ্যমে রক্তচাপ স্বাভাবিক করলে বমি বন্ধ হয়। এক্ষেত্রেও স্টেমিটিল জাতীয় ঔষধ সেবনে বমি বন্ধ হয়ে আসতে পারে। এছাড়া পিত্ত থলির পাথর, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে শৈল্য চিকিৎসার মাধ্যমে কারণ অপসারণ করলে বমি বন্ধ হয়ে যায়। বমি করার সময় বমির উপাদান যাতে শ্বাসনালীতে না ঢোকে সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। কেননা এতে অ্যাপিরেশন নিউমোনিয়া যেমন হতে পারে তেমনি শ্বাসনালী আটকেও যেতে পারে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৪৫৮৬
পুরোন সংখ্যা