চাঁদপুর, সোমবার ১০ জুন ২০১৯, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৬ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত


৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৬। আর সেথায় আমি একটি পরিবার ব্যতীত কোনো আত্মসমর্পণকারী পাই নাই।


৩৭। যাহারা মর্মন্তুদ শাস্তিকে ভয় করে আমি তাহাদের জন্য উহাতে একটি নিদর্শন রাখিয়াছি।


৩৮। এবং নিদর্শন রাখিয়াছি মূসার বৃত্তান্তে, যখন আমি তাহাকে স্পষ্ট প্রমাণসহ ফিরআউনের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলাম,


 


 


assets/data_files/web

ভালোবাসার কোনো অর্থ নেই, কোনো পরিমাপ নেই।


-সেন্ট জিরোমি


 


 


কবরের উপর বসিও না এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।


 


 


ফটো গ্যালারি
ডায়রিয়া প্রতিকারে কী করবেন
ডাঃ মিজানুর রহমান কল্লোল
১০ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমাদের দেশে ডায়রিয়া খুব সাধারণ এক স্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণভাবে বারবার পায়খানা হলে এবং পায়খানা পানির মতো তরল হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় দিনে তিনবারের বেশি পায়খানা হলে কিংবা পায়খানা তরল বা নরম হলে এবং বারবার পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। পায়খানা করার ইচ্ছা এবং পায়খানা ধরে রাখতে না পারা যেকোনো ধরনের ডায়রিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

ডায়রিয়া দুই ধরনের হয়, যেমন তীব্র ডায়রিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া।

সংক্রামক ডায়রিয়া কেনো হয়?

* ভাইরাসজনিত। যেমন : রোটা ভাইরাস, এস্ট্রো ভাইরাস, এডেনোভাইরাস ইত্যাদি।

* ব্যাকটেরিয়াজনিত। যেমন : সালমোনেলা, শিগেলা, ই কলাই, ভিব্রিও কলেরি, ক্যামপাইলোব্যাকটর ইত্যাদি।

* পরজীবীজনিত। যেমন : জিয়ারডিয়া, ক্রিপটোসপরিডিয়াম, সাইক্লোসপরা ইত্যাদি।

অসংক্রামক ডায়রিয়া কেন হয়?

* কিছু অসুখ। যেমন : ডাইভার্টিকুলাইটিস, পায়ুপথে বা অন্ত্রে ক্যানসার, আইবিএস, আলসারেটিভ কলাইটিস ইত্যাদি।

* কিছু ওষুধ। যেমন : ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ অ্যান্টাসিড, বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, জোলাপ ইত্যাদি।

দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার কারণ

* জিয়ারডিয়া ইনটেসটিনাথিস

* স্ট্রংগিলয়ডিয়াসিস

* এনটারোপ্যাথিক ই. কলাই

* খাদ্য হজম না হওয়া

অন্ত্রের কৃমি ইত্যাদি।

কখন পরীক্ষা করাবেন?

* তীব্র ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে

দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে

* রক্তের রুটিন ও কালচার পরীক্ষা

* পায়খানার রুটিন ও কালচার পরীক্ষা

* বিশেষ ক্ষেত্রে সিগময়েডস্কপি।

চিকিৎসাব্যবস্থা

তীব্র ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে তীব্র এবং সম্ভাব্য সংক্রামক ডায়রিয়ার সব রোগীকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে, যাতে পরিবারের অন্য কারো মধ্যে এটা ছড়াতে না পারে।

তীব্র ডায়রিয়ার চিকিৎসায় প্রধানত তিনটি ব্যবস্থা নেয়া হয়।

১. তরল প্রতিস্থাপন, ২. অ্যান্টিবায়োটিক অথবা জীবাণুবিরোধী ওষুধ, ৩. ডায়রিয়াবিরোধী ওষুধ।

তরল প্রতিস্থাপন

ডায়রিয়ার চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো পানির ঘাটতি পূরণ করা এবং পুনরায় যাতে পানিশূন্যতার সৃষ্টি না হয়, সে ব্যবস্থা করা। এ সামান্য ও মাঝারি ধরনের পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে খাবার স্যালাইনের মাধ্যমে পানিশূন্যতা পূরণ করা সম্ভব। রোগীর যতবার পাতলা পায়খানা হবে, ততবার রোগীকে খাবার স্যালাইন খেতে হবে। খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি রোগীকে অন্যান্য তরল ও পানীয় খেতে দিতে হবে।

মারাত্মক পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে রোগীকে শিরাপথে স্যালাইন দিতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিক/জীবাণুবিরোধী ওষুধ

ডায়রিয়ার চিকিৎসায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী তরল ও ইলেকট্রোলাইট প্রতিস্থাপনে ভালো হয়ে যায়, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। তবে কলেরা সন্দেহ হলে, জ্বর থাকবে কিংবা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে পায়খানা পরীক্ষা করে সঠিক জীবাণু নির্ণয় করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ভালো।

কলেরার ক্ষেত্রে টেট্রাসাইক্লিন দৈনিক প্রতি কেজি শারীরিক ওজনে ৫০ মিলিগ্রাম বিভক্ত মাত্রায় তিন দিন। অথবা ফুরাজোলিডন দৈনিক প্রতি কেজি শারীরিক ওজনে পাঁচ মিলিগ্রাম চারবার বিভক্ত মাত্রায়, তিন দিন। অথবা ইরাইথ্রোমাইসিন দৈনিক প্রতি কেজি শারীরিক ওজনে ৩০ মিলিগ্রাম চারবার বিভক্ত মাত্রায় তিন দিন।

শিগেলোসিসের ক্ষেত্রে ন্যালিডিঙ্কি এসিড দৈনিক প্রতি কেজি শারীরিক ওজনে ৫৫ মিলিগ্রাম চারবার বিভক্ত মাত্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন। অথবা কোট্রাইমঙ্াজল দৈনিক দুবার সাত দিন। বিকল্প হিসেবে এমপিসিলিন অথবা পিভমেসিলিনাম ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যামিবিয়াসিসের ক্ষেত্রে মেট্রোনিডাজল দৈনিক প্রতি কেজি শারীরিক ওজনে ৩০ মিলিগ্রাম ৫ থেকে ১০ দিন অথবা টিনিডাজল দৈনিক প্রতি কেজি শারীরিক ওজনে ৬০ মিলিগ্রাম তিন দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

জিয়ারডিয়ার ক্ষেত্রে মেট্রোনিডাজল দৈনিক প্রতি কেজি শারীরিক ওজনে ২০ মিলিগ্রাম পাঁচ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডায়রিয়াবিরোধী ওষুধ

ডায়রিয়াবিরোধী ওষুধ ব্যবহারে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। সংক্রামিত পাক-আন্ত্রিক প্রদাহ থাকলে এসব ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে অথবা শিশুদের আমাশয়ের ক্ষেত্রে এসব ওষুধ ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে।

সাধারণভাবে ডায়রিয়াবিরোধী ওষুধের মধ্যে লোপারামাইড বেশি ব্যবহৃত হয়। তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে চার মিলিগ্রাম একত্রে, তারপর প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর দুই মিলিগ্রাম দেয়া যেতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধটি দেয়া যাবে না।

দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে

ডায়রিয়ার সঠিক কারণ নির্ণয় করে তার চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। যদি কোনো কারণ পাওয়া না যায়, তাহলে জিয়ারডিয়া ল্যাম্বলিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসা দিলে উপকার পাওয়া যায়।

ভ্রমণের সময় ডায়রিয়া হলে সিপ্রোফ্লোঙ্াসিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিরোধ

ডায়রিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতাই প্রধান। ডায়রিয়া রোগের সঙ্গে ঘনবসতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ডায়রিয়া ছড়ায়। মাছি ডায়রিয়ার জীবাণু ছড়াতে সাহায্য করে। তাই এসব ব্যাপারে সতর্ক থাকলে এবং কঠিনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সূত্র : এনটিভি অনলাইন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৮৪৩৭৪
পুরোন সংখ্যা