চাঁদপুর, সোমবার ১৩ মে ২০১৯, ৩০ বৈশাখ ১৪২৬, ৭ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

১৫। আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করিয়াই ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছি! বস্তুত সৃষ্টি বিষয়ে উহারা সন্দেহে পতিত।

১৬। আমিই মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি এবং তাহার প্রবৃত্তি তাহাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তাহা আমি জানি। আমি তাহার গ্রীবাস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটতম।


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ফটো গ্যালারি
রমজানে কিডনী রোগীদের করণীয়
অধ্যাপক কে. এম. মেছবাহ উদ্দীন
১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের উদর গহ্বরের পেছনে বক্ষ পিঞ্জরের নিচে ও মেরুদ-ের দু পাশে দুটি কিডনী থাকে। দেহের বিভিন্ন কোষে সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ঘটিত জৈব পদার্থ রক্তের সাথে মিশে যায়। কিডনী এই বিষাক্ত পদার্থ যুক্ত রক্তকে ছেঁকে পরিশোধিত করে। প্রতিদিন কিডনী ১.৭৫ লিটারের সমপরিমাণ রক্ত ছেঁকে পরিষ্কার করে এবং ১.৫ লিটারের মত অপ্রয়োজনীয় বস্তু প্রস্রাবের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেয়। কিডনীর যে কোন রকমের সমস্যায় ২৬ নং বিন্দুতে ব্যথা হয়।



কিডনীর সমস্যার লক্ষণ : চোখের পাপড়ীর নিচে বৃত্তাকার ফোলা ও কালো থাকে, স্বল্প প্রস্রাব, প্রস্রাব লালচে বর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া, প্রস্রাব ত্যাগের সময় মূত্রনালী জ্বলা, হাত-পা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।



 



সমস্যার মূল কারণ :



০১ । আমরা প্রতিদিন রসনা বিলাসের জন্য খাদ্যে যে তেল, মসলা ব্যবহার করি এবং ভাজা-পোড়া ও ফাস্ট ফুড জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করি এগুলো থেকে শোষিত খাদ্যরস কোষে অঙ্েিজনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রচুর পরিমাণ টঙ্নি উৎপন্ন করে।



০২। শহর, শিল্প এলাকা অথবা অন্য কোনো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাতাসে বিষাক্ত কার্বন জাতীয় বর্জ্যের পরিমাণ বেশি থাকে। এটি আমাদের ফুসফুসের কার্যক্রম ব্যাহত করে। তখন রক্তে কার্বন জাতীয় বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং কিডনীকে অধিক কাজ করতে হয়। এক সময় কিডনীর বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে যায়।



০৩। কিডনী সমস্যার আরও একটি মূল কারণ হলো যৌন রোগ। যেমন গনোরিয়া, সিফলিস, এইডস, জরায়ু ক্যান্সার, প্রোস্টেড ক্যান্সার ইত্যাদি। এই সকল জটিল রোগের কারণে শরীরে প্রচুর পরিমাণ টঙ্নি সৃষ্টি হয়। কিডনীর উপর প্রচ- চাপ সৃষ্টি হয়।



যখন শরীরে টঙ্েিনর মাত্রা একটি নির্দিষ্ট লেভেলের উপরে যায় তখন এটি শরীরের প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রোজেন জাতীয় পদার্থ উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়া চক্রাকারে চলতে থাকে এবং রক্তে ক্রিটিনিন-এর মাত্রা যখন শতকরা আট ভাগের উপরে যায় তখন কিডনী অকেজো হয়ে পড়ে। রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করে ক্রিটিনিন-এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, যা জীবন্ত মৃত্যুর সমান। এই সময় শরীরের পানি ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে পানির চাহিদাও বেড়ে যায় এবং দিন দিন রোগীর ওজন বাড়তে থাকে।



আবার যখন থাইরয়েড/প্যারা-থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তখন ক্যালসিয়াম সঠিক ভাবে বিপাক হয় না। ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। এই ক্যালসিয়াম শরীর থেকে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। ফলে হাঁটু, কোমর ও অন্যান্য অস্থি সন্ধিতে ব্যথা হয়। ক্যালসিয়াম কিডনীর মধ্য দিয়া অতিক্রম করার সময় কিডনীতে জমতে থাকে। এক সময় পাথরে পরিণত হয়।



কিডনী সমস্যার পরীক্ষা : ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম প্রস্রাব একটি পরিষ্কার পাত্রে রেখে দিন। এক ঘন্টা পর এটির রং ও গন্ধ পরীক্ষা করুন। যদি সেটি লালচে/ঘোলাটে এবং দুর্গন্ধযুক্ত হয় তবে বুঝতে হবে কিডনীতে সমস্যা আছে।



করণীয় :



০১। ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত ও অধিক মসলাযুক্ত খাবার এবং ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে।



০২। যারা শিল্প এলাকা, শহর বা অন্য কোনো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাস করেন তাদেরকে নিয়মিত ফুসফুসের ব্যায়াম (শান্ত পরিবেশে সোজা হয়ে বসুন। খুব ঘন ঘন শ্বাস-নিঃশ্বাস নিতে থাকুন। প্রতি মিনিটে ১০ বার থেকে শুরু করে ৫০ বার পর্যন্ত করার চেষ্টা করুন।) প্রতি বারে দুমিনিট করে প্রতি দিন দুই বার এই অভ্যাস করুন। এটি নিয়মিত অনুশীলন করলে দেহে পর্যাপ্ত অঙ্েিজন সরবরাহ করে ও রক্ত শোধন করে।



ইফতারের পর :



০১। প্রতিরাতে একবার কালো চা পান করুন। (এক কাপ পানিতে এক চামচ চা পাতা দিন। এরপর ফুটিয়ে অর্ধেক কাপ করে নিন। এটি ছেঁকে নিয়ে অর্ধেক কাপ ঠা-া পানি ( ফ্রিজের পানি নয়) মিশান। কিডনীর যে কোন সমস্যার জন্য এই চা খুবই উপকারী। সুস্থ অবস্থায়ও এই চা মাঝে মাঝে পান করা উপকারী। এটি কিডনীকে সতেজ রাখে।



০২। রুপা দ্বারা চার্জিত পানি (৩০ থেকে ৬০ গ্রাম রুপা আট গ্লাস পানিতে রেখে ফুটিয়ে চার গ্লাস করে নিন। তারপর ছেঁকে নিয়ে সম্ভব হলে ফ্লাঙ্ েরেখে দিন) প্রতিবার এক কাপ করে রাতে তিন/চার বার পান করুন। এই পানি কুসুম গরম অবস্থায় পান করতে দিন। এটি আমাদের জীবনী শক্তিকে বৃদ্ধি করে এবং গ্রন্থিগুলোকে সক্রিয় করে। ফলে শরীরে টঙ্নি উৎপাদনের মাত্রা কমে যায়।



চিকিৎসা : প্রতিদিন দু বার (৪, ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৮, ৩০ ও ২৬) এই বিন্দুগুলোতে (যে কয়টিতে সমস্যা) আকুপ্রেশার চিকিৎসা করলে ইনশাআল্লাহ কিডনীর পাথর ও কিডনীর যে কোন সমস্যা এমনকি ডায়ালেসিস করার রোগীও আরোগ্য লাভ করবে।



 



বি.দ্র : বিন্দুগুলোর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে লেখকের 'আকু-থ্যারাপি' বইটি পড়ুন।



লেখক : অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ এবং গবেষক, আকুপ্রেশার চিকিৎসা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬৭৫৮
পুরোন সংখ্যা