চাঁদপুর, বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ শাবান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • মতলবের জিয়াউর রহমান সাউথ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৯-সূরা হুজুরাত


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


৬। হে মু'মিনগণ! যদি কোন পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তাহা পরীক্ষা করিয়া দেখিবে, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়া বস এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদিগকে অনুতপ্ত হইতে হয়।


 


 


স্বাধীন দেশের লোকদের নিকট বুলেটের চেয়ে ব্যালটের মূল্যই বেশি। -জেমস হগ।


 


 


ক্ষমতায় মদমত্ত জালেমের জুলুমবাজির প্রতিবাদে সত্য কথা বলাও মতের প্রচারই সর্বোৎকৃষ্ট জেহাদ।


 


 


ফটো গ্যালারি
উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে জীবনাচার
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পৃথিবীতে এই যান্ত্রিক যুগে মানুষের জীবন মানেই চাপের মুখোমুখি কিংবা চাপে দুর্বিসহ হয়ে ওঠা দিনকাল। তার সাথে যদি যুক্ত হয় উচ্চ রক্তচাপ তাহলে তো কথাই নেই। আজকাল উচ্চ রক্তচাপ মানেই মূর্তিমান আতঙ্ক। উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে এমন মানুষের সংখ্যা কেবল বাড়ছে তো বাড়ছেই। এই মূর্তিমান আতঙ্ক হতে রেহাই পেতে ঔষধের পাশাপাশি জীবনাচরণেও পরিবর্তন আনয়ন করা জরুরি।



 



উচ্চ রক্তচাপ কী :



প্রতি মিনিটে আমাদের রক্তবাহী নালীতে হার্ট দ্বারা পাম্পকৃত রক্ত কর্তৃক যে চাপ লম্বভাবে রক্তনালীর গাত্রে দেয়া হয় তাকেই বলে রক্তচাপ। রক্তচাপ পরিমাপে পারদের স্তম্ভকে ধরা হয় একক হিসেবে। হৃদপি- যখন সংকুচিত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পৌঁছায় তখন তাকে সিস্টোল বলে। সিস্টোলে রক্তচাপের স্বাভাবিক পরিমাপ হলো ১১০-১৪০ মিমি অব মার্কারি। আর হৃদপি- যখন প্রসারিত হয় তখন তাকে বলে ডায়াস্টোল। ডায়াস্টোলে স্বাভাবিক রক্তচাপ হয় ৬০-৯০ মিমি অব মার্কারি। যদি কোন অবস্থাতে রক্তচাপ সিস্টোলের ক্ষেত্রে ১৪০ মিমি অব মার্কারি বা ডায়াস্টোলের ক্ষেত্রে ৯০ মিমি অব মার্কারি এর বেশি হয় তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে। আইসোলেটেড সিস্টোলিক প্রেসার মানে এককভাবে সিস্টোলিক প্রেসারের মান বৃদ্ধি এবং আইসোলেটেড ডায়াস্টোলিক প্রেসার মানে এককভাবে ডায়াস্টলিক প্রেসারের মান বৃদ্ধি। একইসাথে উভয় ধরনের প্রেসারের মান বৃদ্ধি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে। তবে আজকাল রক্তচাপের আদর্শমান ১২০/৮০ মিমি অব মার্কারির নীচে রাখার কথা বলা হচ্ছে।



 



উচ্চরক্তচাপের কারণ :



* পারিবারিক ইতিহাসে যদি বাবা বা মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থেকে থাকে তবে সন্তানের উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।



* রক্তনালীর ছিদ্র ক্রমশ কমে আসা



* হৃৎপি-ের আকার বড় হওয়া



* রক্তে কোলেস্টেরলের মান বৃদ্ধি



* রক্তনালীর সংকোচন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া



* কিডনিতে পাথর হওয়া



* মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়া



* দীর্ঘকালের অনিদ্রা



* কিডনির দীর্ঘদিনের রোগ



 



উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি :



* ধূমপান



* অ্যালকোহল ও মাদক গ্রহণ



* দীর্ঘকাল ব্যথার ঔষধ সেবন



* আলগা ও অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ



* অতিরিক্ত দৈহিক স্থুলতা



* শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের ঘাটতি



* অতিরিক্ত রেড মিট খাদ্য হিসেবে গ্রহণ



* অনিদ্রা ও ক্রমাগত রাতজাগা



* অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস



 



উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা :



* ব্রেইন স্ট্রোক



* মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন



* জেনারেল ইডিমা



* মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ



* ফুসফুসে পানি জমা বা পালমোনারি ইডিমা



* কিডনি ফেইলিওর



 



উচ্চ রক্তচাপের লক্ষ্মণ :



* মাথা ঘোরা



* মাথা ব্যথা



* ঘাড় ব্যথা



* বুকে বামদিকে ব্যথা অনুভব



* বমি ভাব



* চোখে ঝাপসা দেখা



উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে জীবনাচরণ :



* নিয়মিত শরীরচর্চা :



প্রতিদিন তিরিশ মিনিট হাঁটা প্রয়োজন। দৈনিক কিছুটা হলেও শারীরিক পরিশ্রম করা জরুরি। এতে দেহে মেদ সঞ্চিতি ঘটে না।



* ধূমপান বর্জন :



ধূমপান রক্তনালীর অন্তর্গাত্রের ছিদ্রের পরিসর কমিয়ে দেয়। এতে ধীরে ধীরে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।



* অ্যালকোহল বর্জন :



অ্যালকোহল রক্তনালীর গাত্রে চর্বি সঞ্চিতি ঘটায়। এভাবে রক্তনালীর অন্তর্গাত্রের পরিসর কমিয়ে দিয়ে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।



* আলগা লবণ বর্জন :



আলগা ও অতিরিক্ত লবণ রক্তে পানিকে ধরে রাখে এবং রক্তে পানির আয়তন বাড়িয়ে তোলে যা রক্তচাপ বৃদ্ধির জন্যে দায়ী।



* দেহের স্থুলতা হ্রাস :



দৈহিক ওজন বৃদ্ধি হওয়া মানেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি। খাবার গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা ইত্যাদি কুঅভ্যাস দেহকে ওজনে স্থুল করে তোলে। তাই খাবার নিয়ন্ত্রণ করুন ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।



* আবেগ নিয়ন্ত্রণ :



অতিরিক্ত উত্তেজনা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত উত্তেজনা পরিহারের মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ রাখুন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়া মানেই রক্তচাপে প্রভাব তৈরি হওয়া। কাজেই অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নিয়ে নিজেকে প্রফুল্ল রাখুন। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।



* ফাস্টফুড-জাঙ্ক ফুড বর্জন :



আধুনিকতা আমাদের যত পেয়ে বসেছে রসনা সংস্কৃতি ততই চেপে ধরছে। নানারকম চটকদার ফাস্টফুডের চেইনশপ আমাদের করে তুলেছে ভোজন বিলাসী। পাশাপাশি আর্থিক সামর্থ্য বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন তিনবেলাতেই মাংস ও চর্বিজাতীয় খাবার এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাদ্য উপাদান গ্রহণ করছি। এতে দেহে কোলেস্টেরল বাড়ছে ও উচ্চ রক্তচাপে দেহ আক্রান্ত হচ্ছে। কাজেই নিজেকে উচ্চ রক্তচাপমুক্ত রাখতে হলে খাবার তালিকাকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে হবে।



 



* ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা :



উচ্চ রক্তচাপমুক্ত থাকতে হলে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটা ও ঔষধ সেবন জরুরি।



* যোগ ব্যায়াম চর্চা :



নিয়মিত যোগ ব্যায়াম চর্চায় মনের উপরে ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। আর এর মাধ্যমে সহজেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।



 



উচ্চ রক্তচাপ রোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সুস্থ জীবনের জন্যে জরুরি। জীবনের উপরে চিন্তার বোঝা না চাপিয়ে আনন্দে জীবন-যাপন করলেই উচ্চ রক্তচাপের দানবের হাত হতে রেহাই পাওয়া যায়।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৯৩৪
পুরোন সংখ্যা