চাঁদপুর, রোববার ৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • মতলব উত্তরের আমিরাবাদ এলাকায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মুল বেড়িবাঁধে মেঘনার আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৬-সূরা দাহ্র বা ইন্সান


৩১ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৪। সনি্নহিত বৃক্ষচায়া তাদের উপর থাকিবে এবং উহার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাহাদের আয়ত্তাধীন করা হইবে।


১৫। তাহাদিগকে পরিবেশন করা হইবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ পানপাত্রে-


 


 


assets/data_files/web

সৌভাগ্য ও প্রেম নির্ভীকের সঙ্গী।


-ফ্রাশ।


 


 


 


ক্ষমতায় মদমত্ত ও জালেমের জুলুমবাজির প্রতিবাদে সত্য কথা বলাও মতের প্রচারই সর্বোৎকৃষ্ট জেহাদ ।


 


 


ফটো গ্যালারি
ক্ষমা করো প্রিয় ইকরাম
হেলাল উদ্দিন
০৯ আগস্ট, ২০২০ ০৩:৫৪:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


ইকরাম চৌধুরী। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি, চ্যানেল আই-এর স্টাফ রিপোর্টার এবং দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের সম্পাদক ও প্রকাশক। গতকাল ভোরে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমার অত্যন্ত স্নেহাস্পদ এই কৃতী সাংবাদিক দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়াবেটিস ও কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। ইকরামের এই অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। চাঁদপুরের সকল সাংবাদিক শোকাহত। চাঁদপুরের সকল মানুষ শোকাহত। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুন।

চাঁদপুরে ইকরাম চৌধুরী ছিল আমার একটি শক্ত হাত, একটি খুঁটি। সেই কলেজ জীবন থেকে সম্পর্ক। আমার কাছেই সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে গর্ববোধ করতো। ইকরাম চাঁদপুরে অনেক অনুষ্ঠানেই আমার উপস্থিতিতে, অনুপস্থিতিতে প্রকাশ্যে স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি যে, একমাত্র আমিই তার উস্তাদ, সে আমার শিষ্য। হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শিখিয়েছি। পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতো। এটি তার কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। আমি বিব্রত হলেও সে তার এই কৃতজ্ঞতা আর সরল উক্তি প্রতিনিয়তই প্রকাশ করতো। এটা ঠিক ইকরাম আমার সাথে কুমিল্লায় একই কলেজে পড়তো। এলাকার বড়ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতো। লক্ষ্য করতাম, জুনিয়র হলেও কেন যেন ছায়ার মত আমার সাথে থাকতো। আমারও তখন সাংবাদিকতার নেশা। কুমিল্লায় ইত্তেফাক প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর এক নিকটাত্মীয় ছিল আমার ক্লাসমেট। তাকে দেখে উৎসাহিত হতাম। ৮০’র দশকে ইত্তেফাকের চিঠিপত্র কলামে বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ নিয়ে লিখতাম। ছাপা হলেই আহ্ কী আনন্দ। ১৯৮৪ সালে আমি বহুল প্রচারিত দৈনিক খবরের চাঁদপুর প্রতিনিধি। ইকরামেরও প্রচ- আগ্রহ সে সাংবাদিক হবে। দেশ সেবা করবে। আমি কী লেখি, কীভাবে লেখি, নিউজের ৫ ডব্লিউ, ইন্ট্রো-এসব হাতে কলমে শিখে নেয়। এক সময় সে সাংবাদিক হয়ে গেল। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতনিধি হিসেবে নিয়োগ পেল। শেষ সময়ে ছিল দৈনিক যুগান্তরের চাঁদপুর প্রতিনিধি। আমি যুগান্তরের বিজনেস এডিটর। পরে অসুস্থতাজনিত কারণে সে অব্যাহতি নেয়। ইকরামই চাঁদপুরে একঝাঁক তরুণ সাংবাদিক উপহার দিয়েছে। একাধিকবার চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি, সেক্রেটারী হয়েছে। তার নেতৃত্বে চাঁদপুর প্রেসক্লাব আধাপাকা টিনের ঘর থেকে একটি বহুতল আধুনিক স্থাপনায় স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে। অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ, বিনয়ী ইকরাম কখনো সাংবাদিকতায় আপোষ করেনি। এ পেশায় থেকে অনেকেই আর্থিক সচ্ছলতা পেয়েছে। কিন্তু ইকরামকে শেষ সময়েও তার সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। বিপদে পড়ে অনেকবার আমার দ্বারস্থ হয়েছে। নিজের আর্থিক দীর্ণতার কথা অকপটে স্বীকার করতো। তার স্ত্রী প্রায়ই ইকরামের অসুস্থতা নিয়ে কথা বলতো। আর্থিক দুরবস্থার কথা জানাতো। অথচ ইকরামের অনেক সুযোগ ছিল। সে কখনো অন্যায়ের কাছে আপোষ করেনি।

ইকরামের হাত ধরে তার পরিবারের অনেক সদস্যই এখন সাংবাদিকতায়। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, চাঁদপুরের সাংবাদিকতায় আজ যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, পেশাদারিত্ব করছেন, দায়িত্বরত আছেন তার সিংহভাগই এই ইকরাম চৌধুরীর হাতে গড়া। আমার দুর্ভাগ্য, এমন এক সময়ে ইকরাম চলে গেল যখন তার পাশে দাঁড়াতে পারলাম না। করোনা ভাইরাস সবাইকে কাছ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এখন মৃত্যুর পরও করোনা আতঙ্কে তার কাছে যেতে পারছি না। আমার আশপাশে অনেকেই এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। নিজেও কিছুটা অসুস্থ।

ইকরাম, তোমার মুখটা শেষবারের মত দেখতে পারলাম না। ক্ষমা করো প্রিয় ইকরাম। পরপারে মহান আল্লাহ তোমাকে ভাল রাখুন-এই দোয়া ছাড়া আর কীই বা করার আছে?


এই পাতার আরো খবর -
    করোনা পরিস্থিতি
    বাংলাদেশ বিশ্ব
    আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
    সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
    মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
    দেশ ২১৩
    সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৭১৮৫৮৭
    পুরোন সংখ্যা