চাঁদপুর, সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


১। বল, আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হইয়াছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করিয়াছে এবং বলিয়াছে, 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করিয়াছি,


২। যাহা সঠিক পথনির্দেশ করে; ফলে আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি। আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করিব না,


 


 


প্রার্থনা ও প্রশংসা এই দুটো জিনিস স্বয়ং বিধাতাও পছন্দ করেন।


-সুইডেন বাগ।


 


 


 


 


 


ধর্মের পর জ্ঞানের প্রধান অংশ হচ্ছে মানবপ্রেম-আর পাপী পুণ্যবান নির্বিশেষে মানুষের মঙ্গল সাধন।


 


 


ফটো গ্যালারি
ঘরবন্দি শিশুদের নিয়ে ভাবনা
সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


করোনার সংক্রমণ ছডানোর শুরুতেই শিশুদের ঘরবন্দি রাখার কথা উঠেছিল। তাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই ভাবনা এখনও বহাল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে, কিন্তু এই ছুটি আম-কাঁঠাল খাওয়ার ছুটি নয়, বেড়ানোর জন্য নয়, উৎসবের জন্য নয়। এই ছুটি আরও প্রলম্বিত হবে বলেই মনে হচ্ছে। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা কিছুটা মানিয়ে নিয়ে, কখনও বের হয়ে এদিক সেদিক ঘুরে সময় পার করলেও, ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যে ঝলমলে সময় কাটায় সেটি থেকে তারা দূরে, বহু দূরে এখন।



গ্রামাঞ্চলে স্কুল বন্ধ থাকলেও শিশুরা ঘরবন্দি অবস্থায় নেই। বড় শহরের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে না পেরে, বাইরে বের হতে না পেরে মানসিকভাবে ভালো নেই। বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোন থাকলেও, আদর থাকলেও তাদের অপেক্ষা কবে তাদের স্কুল খুলবে, কবে বন্ধু আর শিক্ষকদের সাথে দেখা হবে। মা-বাবা, অভিভাবকদেরও অপেক্ষা কবে তাদের সন্তানরা আবার স্কুলে যেতে পারবে।



করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে এপ্রিল পর্যন্ত ঈদসহ নানা ছুটি চলে। তবে মে মাস থেকেই অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পড?ানোর কাজ শুরু করে অনেক স্কুল। অনলাইনে পাঠদান চলছে। কিন্তু সেটা যে শহর আর গ্রামের শিশু, সচ্ছল আর অসচ্ছলদের বড় অসাম্য সৃষ্টি করছে সেটা নিয়ে খুব কম আলোচনাই আছে।



গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে ইন্টারনেট বা অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাদান সম্ভবপর হচ্ছে না বাস্তব কারণেই। যারা আবার কিছুটা সচ্ছল যেসব পরিবার তারাও বেশ জটিলতায় আছে এই সময়ে। একাধিক সন্তান মানে, একাধিক ল্যাপটপ বা মোবাইল ডিভাইস। ব্যক্তিখাতের কর্মীদের যে আর্থিক চাপ যাচ্ছে সেখানে এসব সংগ্রহ করা এখন আরেক অথনৈতিক চাপ।



সরকারি স্কুলগুলোতে অনলাইনের চেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে সংসদ টিভির মাধ্যমে স্কুলের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান প্রক্রিয়াকে। কিন্তু সব শিশুর পরিবারেই যে টেলিভিশন আছে, টিভি থাকলেও বিদ্যুৎ সেই সময় থাকছে কিনা, সেটা বলা যাচ্ছে না।



 



সরকারি হিসাবে দেশে প্রাথমিক স্কুল আছে ৬৪ হাজার আর অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মাধ্যমিক স্কুল আছে আরও ১৭ হাজারের মতো। আর কলেজ বা মহাবিদ্যালয় আছে প্রায় আড?াই হাজার। আর সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। ধারণা করছি অনলাইন বা টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস করতে পারছে অর্ধেক ছাত্রছাত্রী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমের আওতার বাইরে থেকে গেলে এই অনলাইন কার্যক্রমকে পুরোপুরি সফল বলা সম্ভব হচ্ছে না।



মাসের পর মাস স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুদের পড়ার অভ্যাসটাই চলে যাবে কিনা সেটা এক বড় ভাবনা। শিশু বয়সে মানসিক ও শারীরিক বিকাশে স্কুলের বড় ভূমিকা আছে। সেটিই ব্যাহত হতে চলেছে। আগামী মাসগুলোতে সংক্রমণের বিস্তার বাড়বে কিনা, বাড়লে কতদিন লাগবে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই এখন পর্যন্ত। ফলে সচ্ছল স্কুল আর সচ্ছল পরিবার চাইবে সময় নষ্ট না করে এগিয়ে যেতে। কিন্তু বাস্তব কারণেই সবাই সেই ভাবনা ভাবতে পারছে না। সচ্ছল আর অসচ্ছল শিশুদের বৈষম্যের চিত্রটি আরও উৎকট হয়ে আসছে জাতির সামনে।



যারা পারছে অনলাইনের সুযোগ নিতে তাদেরও অনেকদিন ধরে এই চর্চা ভালো লাগবে না। কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে চোখ রেখে কথা শোনা একটা সময় এই শিশুদের কাছে কোনো আকর্ষণ বলে মনে হবে না। আগ্রহ একবার হারিয়ে গেলে ফেরানোও খুব কঠিন হবে। শিশু মনের ওপর এই চাপ নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। একদিকে তাদের স্কুল বন্ধ, আবার করোনার মৃত্যুভয় সম্পর্কেও তারা জ্ঞাত। নিজেদের বিকাশের একেবারে প্রাথমিক স্তরে একদিকে শিক্ষা কার্যক্রমে ছন্দপতন, আরেকদিকে জীবন নিয়ে সংশয় যে কী অবস্থা সৃষ্টি করছে একেকটি শিশুর মনে তা ভাবতেও ভয় হয়।



করোনাভাইরাসের আঘাতে বিপর্যস্ত অথনীতি। সরকার জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। অফিস খুলেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করেছে, যদিও এসব পদক্ষেপ নিয়ে নানা সমালোচনাও আছে। কিন্তু খুলতে পারছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল বন্ধের সময়কাল বাড়ছে কেবল, সে নিয়ে আপত্তিও নেই কারও, কারণ শিশুদের বাঁচাতে হবে করোনা দৈত্য থেকে।



কিন্তু এই বন্ধ করে রাখা অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না। অনলাইন এক সাময়িক বিকল্প, যার আওতায় সব শিশুকে আনাও যাচ্ছে না। এই বৈষম্য কীভাবে দূর করা যায়, কত দ্রুত করা যায় সেই প্রচেষ্টা এখনই নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমরা পুরো দেশবাসী যে একটা দীর্ঘ করোনা সংক্রমণ চক্রে পড়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি তার একটা আশু সমাধান প্রয়োজন।



 



অন্যান্য দেশ যে কঠোরতার মাধ্যমে লকডাউন করে এর বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করছে, ধীরে ধীরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে সবকিছু আবার শুরু করছে, সেই পথটায় হাঁটতে হবে আমাদেরও। ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা ভাবছি, কিন্তু শিশুদের কথা ভেবেও দ্রুততার সাথে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পথে যেতে হবে আমাদের।



সূত্র : জাগো নিউজ।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
    করোনা পরিস্থিতি
    বাংলাদেশ বিশ্ব
    আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
    সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
    মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
    দেশ ২১৩
    সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৩৬২৯০৭
    পুরোন সংখ্যা